Thursday, January 30, 2020

এবার আমরা শুনবো আপনার কথা, আপনার কবিতা

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। তৃতীয় প্রয়াস ।

এবার আমরা শুনবো আপনার কথা।আপনার কবিতা। 
সুব্রত পণ্ডিত
সারা জীবন সাইকেল করে গৃহশিক্ষকতা করে চেলেছেন।কোন সুহৃদ প্রকাশক এখনো এগিয়ে আসেন নি তার কবিতা নিয়ে কাজ করার জন্য।
আমরা শোনাবো তাঁর না বলতে পারা কথা।আর পৌঁছে দেবো সকল পাঠকের কাছে।
আজ " আমরা শুনবো আপনার কথা আপনার কবিতা "-য় থাকছে কবি সুব্রত পণ্ডিতের কথা। বিষ্ণুপুর। বাঁকুড়া।










নমস্কার সুব্রত দা।
---আরে এসো এসো।
কেমন আছেন?
---ভালো গো। তুমি কেমন আছো?
ভালো আছি দাদা।
আপনিতো জানেন, সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিনের সম্পাদক অভিজিৎ দাসকর্মকার। " এবার আমরা শুনবো আপনার কথা, আপনার কবিতা "---- এই বিষয়টি নতুন সংযোজন করেছি। আপনার সাথে কিছু বলবো। আমরা পৌঁছে দেবো সকল পাঠকের কাছে।

১)  আপনি কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছেন?  আপনি কোন পেশার সাথে যুক্ত ? 

➤ আমি ইতিহাস নিয়ে M.A করেছি। জানোই তো ভাই আমি বরাবরই গৃহশিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত। 

২) কীভাবে কবিতায় এলেন?

➤ আবেগ ছাড়া সৃজনশীল সৃষ্টি হয় না। সমাজ-সংসারের বৈষম্য, আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতা, সংকট, প্রেমহীনতা, প্রতিবাদ, একাকিত্ব প্রভৃতি ব্যক্ত করার তাগিদেই কবিতায় এসেছি।

৩) আপনি কবে থেকে কবিতা লিখছেন বা সাহিত্যের সাথে যুক্ত?

➤ ১৭-১৮ বছর বয়স থেকেই কবিতা লিখছি।এখনো লিখে চলেছি।

৪) আপনার প্রথম লেখা বা কবিতার কী নাম, কোন পত্রিকায় প্রকাশিত?

➤ প্রথম কবিতার নাম স্মৃতির মধ্যে নেই, তবে মনে আছে কান্তি হাজরা সম্পাদিত জনপ্রিয় কাগজ 'অভিযান' পত্রিকায় প্রথম আমার কবিতা প্রকাশ পায়। অবশ্যই 'সৈনিক' ছদ্মনামে। 

৫) যদি কবিতা বা সাহিত্যে না থাকতেন তবে আপনি কোন বিষয় নিয়ে থাকতেন?

➤ কাবিতা বা সাহিত্যে না থাকলে আমি খেলাধূলা নিয়ে থাকতাম।

৬) আপনার কবিতা জীবনে কার অবদান সবথেকে বেশি? 

➤ আমার কবিতা জীবনে বন্ধু মনিকা বিশ্বাসের অবদান সবথেকে বেশী।

৭) আপনার কাছে কোন ধরনের কবিতা বেশি প্রাধান্য পায়?

➤ যেসব কবিতায় অন্যায়ের প্রতিবাদ আছে, যেসব কবিতা মানুষকে ভালবাসতে শেখায়,  যেসব কবিতা মানুষের সংকীর্ণতা ও নীচতার সমালোচনা করে--- সেই সব কবিতা আমার কাছে প্রাধান্য পায়।

৮) আপনার প্রিয় কবিতার বই কোনটি, যা নিয়ে আপনার ভাল না লাগা সময়গুলো কাটিয়ে নিতে পারেন? 

➤ ভালো লাগা কাব্যগ্রন্থ অনেকগুলি। তবে রবীন্দ্রনাথের গীতবিতান পড়ে আমি অনেকটা সময় কাটাতে পারি।

৯) আপনি তো প্রায় ৩০ বছর সাহিত্যের সাথে যুক্ত। বিষ্ণুপুরের বিভিন্ন কবিদের সাথে আপনি মিশেছেন। আমি শুনেছি চারনকবি বৈদ্যনাথ এবং বিকাশ দাস এনাদের সাথে আপনার ঘনিষ্ঠতাও ছিলো বেশ। এই সময়গুলোর কথা যদি আমাদের পাঠকদের জানান।

➤ প্রায় তিন দশক সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত। বহু কবি সাহিত্যিক  আমাকে ভালোবাসেন।বর্ষীয়ান কবিরা স্নেহ করেন, আর তরুণ কবিরা শ্রদ্ধা করেন।এটা বড়ো প্রাপ্তি।
        আমি চারণকবি বৈদ্যনাথের জীবনীগ্রন্থ ' একটি প্রচ্ছদ পটের গল্প'-র অনুলিখন করেছি দু-বছর যাবৎ। এরও আগে তাঁর চিঠি-পত্র ও কবিতার কপি করেছি বহুবছর ধরে। জীবনের শেষপর্বে চারণকবি বৈদ্যনাথ গ্লকোমায় ভুগছিলেন। ওনাকে সাহায্য করতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ। যখন লিখতে যেতাম তখন খাওয়াতেন।গান শোনার জন্য আমাকে বেশ কিছু ক্যাসেট ও নিজের টেপরেকর্ডার দিয়েছিলেন। দু-বছর পূজোতে জামা কিনে দিয়েছিলেন।তখন আমার বিশেষ জামা-প্যান্ট ছিল না।ওঁর সঙ্গে বাঁকুড়ায় বিভিন্ন কবি সম্মেলনে গেছি।অমন এক বিখ্যাত কবির সান্নিধ্য পাওয়া সৌভাগ্যের। তবে আক্ষেপ, চারণকবি বৈদ্যনাথের অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ায় আমার থাকা হয়নি।
      আর কবি বিকাশ দাস,অসাধারণ মানুষ।মাঝে মাঝে আমার ভাড়াবাড়িতে হঠাৎ হঠাৎ চলে আসতেন। সঙ্গে কোন না কোন খাবার কিংবা বই আনতেন।আমাকে দিতেন।কবিতা শোনাতেন ও আমার কবিতা শুনতেন।বাড়ি করার পর গৃহপ্রবেশের দিন এসেছিলেন শুভেচ্ছা জানাতে। এর কিছুদিন পরেই তিনি প্রয়াত হন।

১০) এখন কবিতায় অনেকেই সিম্বল, ইকুয়েশন এমনকি খিস্তিও ব্যবহার করছেন।এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

➤ সময়ের সঙ্গে সব কিছুই পরিবর্তনশীল। কবিতাও যে বিভিন্ন দিকে বাঁক নেবে সে আর অবাস্তব কি? উত্তর আধুনিক কবিতায় সিম্বল, ইকুয়েশন, খিস্তি ইত্যাদি আসতেই পারে।তবে শর্ত হল 'কবিতা' হতে হবে।তা যেন কখনোই কবিতার নামে শ্লোগান বা ধারাভাষ্য হয়ে না ওঠে।চেতনায় আঘাত করাটাই আসল কথা।

১১)  আচ্ছা দাদা আপনি কেন কবিতা লেখেন?

➤  ব্যক্তিগত দুঃখ -বেদনা, আঘাত, অপমান, ভালোবাসা-- প্রকাশের মাধ্যমে আমার কবিতা।নিজের কথা বলতে গিয়েই হয়তো কখনো কখনো সমষ্টির হয়ে যায়।আমার তো বলার মতো স্ট্যাটাস নেই,বহু উপেক্ষিত মানুষ। তাই নিজের পরিচয়কে মর্যাদা দিতে কবিতা লিখি।এছাড়া অন্য বিষয়ে আমি অক্ষম। 

১২) আপনি কি কোনো সাহিত্য সংস্থার সাথে যুক্ত ? তার নাম? 

➤ আমি 'চারণকবি বৈদ্যনাথ সাহিত্য আকাদেমি ', 'নজরুল চর্চা কেন্দ্র ', ' বিবেকানন্দ স্টাডি সার্কেল', 'গণতান্ত্রিক লেখক-শিল্পী সংঘ' ইত্যাদি সাহিত্য সংস্কৃতি মূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছি।

১৩) আপনার লেখা main streem -এর তবুও শব্দবন্ধের দিক থেকে কিছুটা আলাদা। অনেকে আপনার কবিতাকে ধারালো কবিতা বলে। আপনার এ বিষয়ে মতামত যদি আমাদের বলেন---

➤ আমার কবিতা কেমন, সে ব্যাপারে পাঠক-পাঠিকার মতামতই গ্রহনযোগ্য।  এ ব্যাপারে গর্ব করার কিছু নেই। বরং আত্মসমালোচনা করতে ভালোবাসি।তাই কবিতা লেখার পর তরুণ কবিদের কাছেও পরামর্শ নিয়ে থাকি। আলোচনা করি। এখনো অনেক কিছু শেখার আছে, শিখছি।

১৪)  বিষ্ণুপুরের কোনো কবিকে নিয়ে কাজ করেছেন?  সে কবির নাম কী এবং কী কাজ করেছেন? 

➤ বিষ্ণুপুরের কবিদের নিয়ে তেমন কাজ কী আর করেছি। বিশেষভাবে কাজ করেছি চারণকবি বৈদ্যনাথকে নিয়ে। তাঁর জীবন ও সাহিত্য নিয়ে বেশ কিছু প্রবন্ধ ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। অপ্রকাশিত কিছু লেখাও রয়েছে।গবেষণার সুযোগ থাকলে ডক্টরেট হোতে পারতাম। কবি-সাংবাদিক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে লেখা প্রবন্ধের বই 'স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় : সৃষ্টি ও স্রষ্টা ' ২০১৯-এ প্রকাশিত হয়েছে। কবি বিকাশ দাস, বিল্বমঙ্গল গোস্বামী ও কার্তিক ঢক্-এর কবিতা নিয়ে সামান্য লেখালেখি করেছি।

১৫) আচ্ছা সুব্রত দা আপনি কী বিষ্ণপুর নিয়ে কোন কাজ করেছেন?  কী ধরনের কাজ করছেন যদি পাঠকদের জানান। ভালো লাগতো---

➤ বিষ্ণুপুরের 'সাহিত্য-সংস্কৃতি ', 'মন্দির টেরাকোটা', 'লোক-সংস্কৃতি' বিষয়ে ক্ষেত্র সমীক্ষাধর্মী বেশ কিছু কাজ করেছি। সে সব লেখা বেশ উল্লেখযোগ্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক মানিকলাল সিংহকে নিয়েও একাধিক প্রবন্ধ লিখেছি ও প্রকাশিতও হয়েছে। সংস্কৃতি কর্মীর দায়বদ্ধতা থেকে এসব কাজ করি। 

১৬) বিষ্ণুপুর, বা বিষ্ণুপুরের আসেপাশে কবি, বাঁকুড়া শহরের কবিদের তো পড়েছেন। এনাদের কবিতা আপনার কেমন লাগে?

➤ বাঁকুড়ার রবি গঙ্গোপাধ্যায়, ঈশ্বর ত্রিপাঠী, আলোক মণ্ডল, অনিন্দ্য রায় প্রমুখের কবিতা ভালো লাগে।আর বিষ্ণুপুরের চারণকবি বৈদ্যনাথ, বিকাশ দাস, বিনয় মিশ্র, স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, সুশীল হাটুই, নির্মল রায়, দেবব্রত রায়, প্রদীপ কর, বিল্বমঙ্গল গোস্বামী, কার্তিক ঢক্ প্রমুখের কবিতা ভালো লাগে।
      অভিজিৎ,  তুমিও ভালো লিখছো।আমি তোমার শব্দ-বিন্যাসে আশ্চর্য হয়ে যাই।

১৭) আপনিতো লেখা লিখি করেছেন প্রিন্ট পত্রিকাতে। এখন বিভিন্ন webmag ও সাহিত্য জগতে বেশ ভালো কাজ করছে। এই ২টি ভিন্ন মাধ্যমকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

➤ প্রকাশনার খরচ বেশি। ফলে সার্কুলেশন খুব বেশি হয় না। কিন্তু ওয়েবম্যাগের মাধ্যমে সহজে বেশি সংখ্যক পাঠকের কাছে পৌঁছানো যায়। এটা একটা ভালো দিক।কিন্তু বই, পত্র-পত্রিকা প্রকাশের গল্পটাই আলাদা। দুটো এক্কেবারে আলাদা দিক। আমি বেশি প্রিন্ট পত্রিকাই পছন্দ করি।


১৮)  এখন অজস্র কবিতা লেখা হচ্ছে।বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশও হচ্ছে। কিন্তু তারপর আর কবিতাগুলির হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না।আপনার মতে এর কারণ কী? 

➤ সংবেদনশীল কবিতা মানুষকে টানবেই। কবিতার মধ্যে মায়া থাকতে হবে। কবিকে হোতে হবে সৎ। তাহলেই কবিতার পাঠক কবিতা মনে রাখবে।  এখন বহু অ-কবিতা লেখা হচ্ছে। কবিতার পাঠক আজও আছেন।  এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।


১৯) চারিদিকে কবিতার জন্য বিভিন্ন ম্যাগাজিন, সরকারি এবং বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে কবিদের সম্মান জানানো হচ্ছে। এতে কি কবিতার উন্নতি হচ্ছে?  এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

➤ স্বীকৃতি বা পুরস্কার কবি-সাহিত্যিকদের সামাজিক দায়বদ্ধ করে। কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হলো বহু সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান এখন বিষয়টিকে ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন।ফলে যোগ্যতাহীন ব্যক্তি খেতাব অর্জন করছেন, কিংবা লবির জোরে স্বীকৃতি আদায় করে নিচ্ছেন। এ রকম ছল-ছাতুরি বা প্রতারণা চলতে থাকলে সাহিত্যের ক্ষতি হবেই। অসৎ, অসামাজিক লোকেরাই এসব করেন।তাঁদের জন্য ধিক্কার জানাচ্ছি। 
      চারণকবি বৈদ্যনাথ কিংবা বিকাশ দাসের মতো মহান কবিরা প্রাপ্য স্বীকৃতি পেলেন না।অথচ এলেবেলে লোক পুরস্কার পেয়ে যাচ্ছেন!  আমি এই ভণ্ডামিকে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু আমার কথায় কাজ হবে কী?...

২০) দাদা আপনিতো দীর্ঘদিন সাহিত্যে আছেন।প্রতিদানে আপনি কী পেয়েছেন? 

➤ আমি সাহিত্যের সব বিভাগেই বিচরণ করি। কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ লিখি।ক্ষেত্র সমীক্ষা যেমন করি, তেমনই বহু নৃত্যনাট্য,  গীতিআলেখ্য 'বলাকা', ' চারণকবি বৈদ্যনাথ আকাদেমি' -প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে প্রচারিত হয়েছে। সেই সূত্রে অনেকগুলি বেসরকারি পুরস্কারও পেয়েছি। শুকতারা পত্রিকা আয়োজিত গল্প প্রতিযোগিতায় আমি আন্তঃকলেজ প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছি।পেয়েছি 'অনামী' সাহিত্য পুরস্কার ২০০৪-এ। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের 'তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর' ও 'যুব কল্যান দপ্তর', এমনকি পৌর ছাত্র-যুব উৎসবে বহুবার কবিতা ও প্রবন্ধ লিখে পুরস্কৃত হয়েছি।এছাড়া পাঠক পাঠিকা ও সহযাত্রীদের ভালোবাসা তো পাই-ই।অন্ততঃ আমাকে কেউ খারাপ চোখে দেখে না।এটাই আমার গৌরব।তবে কোনদিন কারো তাবেদারি করিনা।সাংস্কৃতিক কর্মী হিসাবে কাজ করি।

২১) আপনি কি বিশ্বাস করেন কবিতা লিখে সমাজের পরিবর্তন সম্ভব?

➤ বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে কবিতা লিখে সমাজের পরিবর্তন সম্ভব নয়। কারণ, মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে। এতো সিনেমা,সিরিয়াল মানুষ দেখছেন, কিন্তু তাদের মধ্যে স্বার্থপরতা,সংকীর্ণতা মানুষকে অপমান করার প্রবনতাকে কমাচ্ছে কই? আবার সাহিত্য জগৎ দ্বিধা বিভক্ত। বিশ্বাস হারিয়ে গেছে।একে অন্যকে কুপোকাৎ করার জন্য কৌশল আঁটছে।এমন এক অস্থির সময়ে বড্ড বিষাদে দিন কাটছে। আমি রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ মতাদর্শে বিশ্বাসী। সব সময় পজেটিভ ভাবনা নিয়ে চলি।তাই মনে হয় একদিন মানুষ ভুল বুঝতে পারবেন।

২২) কবিতা লিখতে এসে আপনাকেও নিশ্চয়ই অনেক প্রতিকূলতার স্বীকার হতে হয়েছে? আমাদের পাঠকদের সতর্কতার জন্য কিছু বলুন।

➤ জীবনে প্রথম দরকার অর্থ-রোজগারের মতো কাজ, দ্বিতীয় প্রয়োজন পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং তারপরে সাহিত্য-সংস্কৃতি। তবেই এগিয়ে যাওয়া যাবে।
     আমার জীবনটাই পরিকল্পনাহীন। বহু উপেক্ষার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে।তাই ৩০ বছর সাহিত্যের অঙ্গনে থেকে কিছুই করতে পারিনি।আর কোন শুভানুধ্যায়ী প্রকাশক আমার গ্রন্থ প্রকাশের জন্য এগিয়ে আসেন নি।এ জন্য আমার কোন ক্ষোভ নেই। প্রতিদিন ১৪-১৬ ঘন্টা টিউশন করে সংসার চালাই।কারো কাছে সাহিত্যের জন্য মাথা নিচু করবো না।

২৩)  আমাদের এবং সকল পাঠকদের কাছে আপনার বার্তা---

➤ আজকাল পাঠক সমাজ অনেক বেশি সচেতন।তবে বলি নিজের প্রতি সৎ থাকলে, সামজিক দায়বদ্ধতা থাকলে, অনেক ভালো কাজ করা যায়।
       এতো দীর্ঘ সাক্ষাৎকার এর আগে কেউ নেয় নি।তোমাকে অভিনন্দন অভিজিৎ। আমি চিরকালই আড়ালে থাকতে ভালোবাসি।আজ তুমি আমাকে উন্মুক্ত করে দিলে।
ধন্যবাদ সকলকে।ধন্যবাদ সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন।
এগিয়ে চলুক তোমার এই প্রয়াস অভিজিৎ। 

সুব্রত পণ্ডিত -এর কবিতা---

অ্যালবাম

জোড়া দেয়া কাচের দেয়ালে
আমরা দুই বৃদ্ধাশ্রম-যাত্রী ডলার ভাঙিয়ে ভাঙিয়ে
          ফেরি করি ড্রিমল্যান্ড-বাতি...
এক গুচ্ছ নোনা ঢেউ ভেজা শালিকের ভাঙা বাসায়
ঝরে ঝরে পড়ে।

পেড়ে আনি নষ্ট-চাঁদ।

তোমার রক্তস্রাব আর আমার ক্লান্ত স্বেদ
দর্শনীয় অ্যালবাম হয়ে ওঠে।



সার্কাস

প্যারিফ্যাশন কার্ডিগান স্কীনে ভেসে উঠতেই
পৃথিবীর বদলে যাওয়া দেখি।

মুর্খ মাছ খেলা করছে অ্যাকোরিয়ামে...

সার্কাস দেখতে আসে অভিনয় জড়িয়ে আসা
যৌনরাতের বাটিক- প্রিন্ট প্রজাপতিরা।


প্রজনন পর্ব

ট্রাপিজিয়াম ঘুড়িটি উড়তে উড়তে
হেভেন গার্ডেনে হাত বাড়ায়,
অন্য একটি ফিস ঘুড়ি তার স্বপ্ন খেয়ে ফ্যালে।

ডারউইন সাহেব থিসিস বের করতেই
একটি লাটাই স্বপ্ন ছাড়তে থাকে...

মাছেদের এখন প্রজননকাল চলছে।


ধন্যবাদ সুব্রত দা সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন  সকল পাঠকের তরফ থেকে আপনার ব্যস্ত সময়ের থেকে আমাকে এবং আমাদের পাঠকদের জন্য সময় বের করে আপনার মনের না বলতে পারা কথাগুলো আমাদের জানালেন। আমরা পৌঁছে দেব আপনার কথাগুলো সকলের কাছে।ভালো থাকবেন। এই ভাবেই সাহিত্যে থাকবেন। ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রইল আপনার জন্য...

Saturday, January 25, 2020

কিছু কথা

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। দ্বিতীয় প্রয়াস









অথচ সম্পাদকীয় নয়...  

কিছু কথা...   অভিজিৎ দাসকর্মকার


আমরা সকলেই একই পথের পথিক।আসুন একসাথে এগিয়ে চলার অঙ্গিকারবদ্ধ হই। 

সম্পাদকীয় বলে কোন column রাখছি না। 
সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন এবার থেকে প্রতি মাসের ২৫ তারিখ প্রকাশিত হবে। কোন নির্দিষ্ট বিষয় নাই। শর্ত শুধু একটাই গতানুগতিক ধারার বাইরে  লিখতে হবে। বলার ভঙ্গি, দৃষ্টিভঙ্গি, শব্দবন্ধন, শব্দের ফোর্স --- সবই হবে অন্যের থেকে আলাদা।

এই বছর থেকে কবি সুশীল হাটুই যুক্ত হলেন প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে  । 

আমরা শুনবো আপনার  কথা আপনার কবিতা --এই বিভাগের পরিকল্পনা কবি সুশীল হাটুই-এর।

কারণ আমরা লক্ষ্য করেছি অনেক প্রবীণ এবং নবীন কবি আছেন যাঁরা ২ মিনিটের কবিতা পাঠের ডাকে মঞ্চ পান তারপর বাড়ি। কিন্তু তাদেরও বলার থাকে তাদের মনের কথা। তাই আমরা শোনাবে সকলকে, আমাদের প্রয়াসের মাধ্যমে। কী কেমন হয়?---            

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন নিয়ে কিছু কথা

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। দ্বিতীয় প্রয়াস











সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন নিয়ে কিছু কথা      রিতা মিত্র
সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন পত্রিকা নিয়ে কিছু বলার আগে পত্রিকার সম্পাদক অভিজিৎ কে নিয়ে কিছু বলবো। তার সাথে আজ পর্যন্ত মুখোমুখি দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। কবি বিভাবসুর কাছ থেকে ফোন নম্বর নিয়ে আমার কর্তা কবি গৌরাঙ্গ মিত্র কে ফোন করে। ফোনে কথা বলেই আমাদের আপন করে নেয়। 
এবার পত্রিকার কথায় আসি-
"ব্ল্যাকহোল"। আমরা জানি গ্রহ জগতে ব্ল্যাকহোল সব আলো আত্মসাৎ করে নেয় কিন্তু অভিজিতের ওয়েবজিন সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল সকলকে আলোর সামনে তুলে আনছে। 
তার পত্রিকায় যেমন সিনিয়র কবিরা লিখছেন তেমন নতুন লিখিয়েরাও লিখছে। বেশ ভালো মানের লেখা এ পর্যন্ত চোখে পড়েছে। 
কিন্তু কিছু ত্রুটি লাগছিল মনের মধ্যে। কবিতা তো হচ্ছে তবে কবিতার নানা ফরমেট আছে। একদিন ফোন কোরে এই রকম  ত্রুটি নিয়ে কথা বললাম। প্রথমে হাইকু কবিতা নিয়ে কিছু করার কথা বললাম। সেই কথা ও রেখেছে। 
কয়েকদিন আগে ফোন করে বলল,  ভাবছি এমন মানুষ নিয়ে কাজ করবো যারা লেখে ভাল তবে কোনো প্লাটফর্ম পায়নি। খুব ভাল উদ্যোগ, সহমত হলাম। গল্প লেখা নিয়ে কাজ করছে। আমার তার কাছে একটা প্রস্তাব এবার এক লাইনের  কবিতা এবং এক লাইনের গল্প নিয়ে যেন কিছু করে। ভালো লেখা কিছু বেরিয়ে আসবেই এই সব প্রয়াসের মাধ্যমে, এবং কবিও নিজেকে ঝালিয়ে নিতে পারবে। 
খুব অল্প সময়ের মধ্যে সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন  সাহিত্য জগতে বেশ নাম করেছে। নতুন কিছু ভাবনা সম্পাদকের মগজে আছে আঁচ করতে পারছি।সময়ের অপেক্ষা শুধু। 




পিনাকী রঞ্জন সামন্ত

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। দ্বিতীয় প্রয়াস











একটি অঙ্ক কবিতা     পিনাকী রঞ্জন সামন্ত 

আট ফুট লম্বা বাই চারফুট চওড়া অর্থাৎ 
8 × 4 = 34 বর্গফুট হইলে A×B = AB হইবেই 
এমন কোনো বাধ্যবাধকতা বা শর্ত নাহি ।

A = আমি বা B = তুমি বা আমার প্রিয়তমাও 
হইতে পারে । এবং X ও Y = সম্পর্ক বা 
ভালোবাসা

আর এসব শুনিয়াই
চন্দ্রবিন্দু বা চন্দ্রচূড় নামক কোনো এক ঋষি
আমাকে জিঙ্গাসা করিলেন
ওহে কবি - তুমি কি কোনো কবিতা লিখিতেছো ?
আমি বলিলাম না মহাশয় ।

কবিতা, অঙ্ক বা গণিত পরস্পর সম্পর্ক বিরোধী
সুতরাং সেখানে কবিতা, সম্পর্ক বা ভালোবাসা
আসিবে কী করিয়া
যদিও হাইব্রিড জাতীয় কোনো কোনো কবির নিকট
পূর্ণিমার গোলাকার চাঁদটিও 4G সফটওয়ারের
হাই হিলস সম্মিলিত কোনো এক
হেলেন অফ ট্রয়ও হইতে পারে বা দুই 
গোলাপের যুদ্ধ

ইত্যবসরে -- এই কথা শুনিয়া রাতের শেয়ালেরা
হুক্কা হুয়া হুক্কা হুয়া রবে আমাকে গান 
শুনাইতে লাগিল - আর আমি লেপ মুড়ি দিয়া
যথারীতি ঘুমাইতে লাগিলাম ।

সুশীল হাটুই

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। দ্বিতীয় প্রয়াস











Wi-Fi জোনে শীতকাল     সুশীল হাটুই 

অনেকগুলো পাসওয়ার্ড বদলের 
পরই Wi-Fi জোনে কুয়াশা পরা শীতকালটিকে
দেখতে পেলাম, আমি চিরদিনই আপেলকে
বড়ো মিঞা আর নাসপাতিকে ছোটো মিঞা
বলে ডেকেছি, কিন্তু তার জন্য ছেঁড়া হাওয়াই-
চটির কোনো সেফটিপিন আমাকে সন্দেহ 
করেনি, আজ আইবুড়ো চশমাটির কাছে চন্দ্র-
গ্রহণের সময় জানতে চাইলাম, কাগজের জঙ্ঘা থেকে মুখ তুলে,
পার্কার কলমটি ইন্টারনেট সার্চের কথা বলল,
আমি ওর কথা শুনিনি, কেননা রাজহাঁসের 
বিপরীতে ময়ূরপঙ্ক্ষী লিখতে আমি ভয় পাই 
না, এখন স্বরবর্ণের সন্ধ্যাহ্নিকের ওপর
দেখছি, আকাশে ১০ কোম্পানি মেঘ, ওই
ননসেন্স মেঘগুলোই সোনালি সাপ ছেড়ে
নিরক্ষর জানালাগুলিকে ঘুম পাড়িয়ে
দিচ্ছে...

রথীন বন্দ্যোপাধ্যায়

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। দ্বিতীয় প্রয়াস











আগামী দিনগুলোর কথা ভাবতে ভাবতে    রথীন বন্দ্যোপাধ্যায় 

পশ্চিম কোণে কালো মেঘ এলো আর লাল কৃষ্ণচূড়ার ব্যাকগ্রাউন্ডে ঝঞ্ঝার সংকেতগুলো সব বব ডিলান হয়ে ঝরতে শুরু করলো এক আশ্চর্য নোটেশন পাখি সব করে রব রাতি কি পোহাইল এই হাড় কাঁপানো শীতে আগুনের আরও কাছে যেতে যেতে আমরা চাইছি অসম্ভব ঘনিষ্ঠতার ভিতরে যেতে যেখানে আগুন জ্বলছে দাউদাউ লাল কৃষ্ণচূড়ার প্রসঙ্গে এলো গীতবিতান যথারীতি আমাদের অঙ্গে অঙ্গে কে যেন বাজায় বাঁশি সুতরাং বৃন্দাবন বেনারস কাশি অনেক মাথামুণ্ডু ঘামিয়েও অঙ্ক মিলছে না একতারা দোতারা আউল বাউল পাঁচালী পদাবলি কাব্য কবিতা রজতদার কথা খুব মনে পড়ছে শেষ অঙ্কের শেষ দৃশ্যে তখন শুরু হলো ফ্ল্যাশব্যাকের নক্ষত্র তারা আর কতদূরে রসুলপুর সুজাতা প্রভাতদা সমীরদা আগামী দিনগুলো এক উজ্জ্বল অথচ আপাত ধুসর ফ্ল্যাশব্যাকের পটভূমিকায় মিশে যাচ্ছে কালবৈশাখী কৃষ্ণচূড়া
এবং আগুনের ভিতর পুড়ে যেতে যেতে এই হাড় কাঁপানো শীতে 

আমরা

যেতে যেতে যেতে

অলোক বিশ্বাস

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। দ্বিতীয় প্রয়াস












বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কবি নকিব মুকশির কবিতা প্রসঙ্গে  
অলোক বিশ্বাস

জীবন সর্বদা একরৈখিক পথ ভালোবাসে না।প্রতিদিনের নিয়মকরা শৃঙ্গারবিছানা, পাওডারসেন্ট, ভুনাখিচুড়ি, লাগা-না-লাগার সত্য মিথ্যা অভিনয়, ধর্মীয়কলা মিশ্রণে বিপ্লবীকলার সহাবস্থান আর ৮-১০ ঘন্টা কবওয়েবের বাইরে মানুষের এলোমেলো যেমন খুশি জীবন উপভোগের মুক্তিটাই সকল অক্ষরেখায় চিহ্ন রেখে যায়। মুক্তির পরিবেশে বিশেষ সংস্কার মান্যতা পায় না। কোনো প্রজ্ঞার নির্দেশ থাকে না। থাকে শুধু বিভিন্ন পথে, অজানার খোঁজে, অনিঃশেষ তৃপ্তিবোধ। আনন্দের পরম্পরাগত সুরের অন্তরে পরম্পরার উজানে দীর্ঘশ্বাসের হাইব্রিড বলনশৈলি পাওয়া যায় বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের কবি নকিব মুকশির কবিতায়। আবার পরম্পরার চিরকালীন ঘূর্ণিকে কলা দেখিয়ে হাইপার কবিতার মন্ত্রসাংস্কৃতিক স্তরায়ন নির্মাণ, সেও আছে। চলায়মানতার অচিরায়ত পাগলামিপূর্ণ কাব্যভাষায় হতে চেয়েছে নকিব মুকশির আপাত কাটাকাটা ছাড়াছাড়া এক জীবন্ত উন্মোচনপর্ব। বাংলা কবিতার যে ধারাটি angry বা  hungry, যে ধারাটি প্রতিকবিতায় মর্মরিত, কল্পনার মূর্তি-বিমূর্তির উভয় অবস্থানে চঞ্চল, যে ধারাটি আবহমান পদ্যময় রূপালংকারিতা থেকে সরে অপর ভাষার কারু-বীভৎসতা রচনা করে, রপ্ত মেরুরেখা থেকে অন্য অরবিটে পর্যটন করতে ভালোবাসে, বিনির্মাণ শৈলিকে আহ্বান করে--- নকিব মুকশির 'বাগিচার শাখাবলি' কাব্যের তিনটি ভিন দৃশ্যায়িত পর্বে ওইসব অবস্থান লক্ষ্য করবেন পাঠক। তথাকথিত সামাজিক আদলে গেলে নকিবের কবিতা মনে হতে পারে হতচ্ছাড়া, ফ্রাগমেন্টেড, বেগতিক, কবিতাকৃতির ইতিহাস বিরোধী এবং উৎশৃঙ্খল। নতুন প্রজন্মের কবি নকিব মুকশি আপাত সাম্যকলার ধার ধারেন না তাঁর কবিতায়। কবিতায় মগ্ন নামতা লেখেন না। একটি কবিতায় বলছেন, 'এই বাগান--- আনকোরা দেশ।'  অসীম বিশ্বের যে খণ্ডিত স্পেসকে নকিব ধরছেন, তাকে পুনরায় অণু-পরমাণুতে বিভক্ত করে নিলে হয়তো সেই প্রাচীন গুহামানবের ক্যাম্প থেকে শুরু করে আজকের ডিজিটাল বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন আচরণ পাঠকের সংবেদনশীল বৌদ্ধিক এলাকায় চলে আসবে। কবিতার ফর্ম নিয়ে তুমুল গদ্যময় হৈচৈ-এর মধ্যেও নকিব বাংলা ভাষার লিরিকালিটি বর্জন করেন না।। বর্জন করেন না দেশমাতৃকার জীবনশাহী, বাগানের কুহু-কেকা রবের ভিতরে থাকা অগ্নিময় যন্ত্রণার বিস্তার। কিন্তু তিনি, নকিব মুকশি, বাংলা কবিতার যে মধ্যবিত্ত ভদ্রস্ত নকশা বা আপেক্ষিক ডিসিপ্লিন বা ওই আমুদে হাসিকান্নার জনপ্রিয়তা, তা থেকে নিজেরই মুদ্রাদোষে হতে চাইছেন আলাদা। সেই মুদ্রাদোষের একটি হলো ড্যাশ চিহ্নের পৌনঃপৌনিক ব্যবহার, যেগুলোর প্রত্যেকটি মুক্ত এলাকার চিহ্নায়ন। পাঠক সেখানে নিজের মতো কল্পব্যঞ্জনাকে অন্তর্ভুক্ত করে নিতে পারেন। ভরে নিতে পারেন কোনো অর্থময় চিহ্ন বা ডিকোড করার মতো নির্বাণকে। তাঁর সাম্প্রতিক লেখায় কবি নকিব যেমন বাংলা ভাষার বৈভাসিক কম্পাউন্ড শব্দভান্ডারকে ব্যবহার করেছেন তেমনি নতুন কম্পাউন্ড শব্দের নির্মিতি এনেছেন তাঁর চেতনাবিধৌত পর্যবেক্ষণের এলাকায়।




দেবযানী বসু

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। দ্বিতীয় প্রয়াস











কবিতার ভবিষ্যৎ     দেবযানী বসু

২০১৭ র জুলাই সংখ্যার 'যদিও উত্তরমেঘ'  নামের একটি ছোট পত্রিকার সঙ্গে মোলাকাত হল। এতজন কবি মিলে এত সুন্দর করে ভেবেছেন, যে ভাবনাটাকে আমরা আন্তর্জাতিক ভাবনা বলেই জানি। বিশ্বায়নের দ্বার খুলে যাওয়ায় সহজেই জেনে যাচ্ছি আমেরিকান কবিরা এসব ভাবনা আগেই করে রেখেছে। আমেরিকান পোয়েটস অর্গানাইজেশন ভবিষ্যতের কবিতা সম্পর্কে আশাবাদী সাতশো অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও। কবিতার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারা নিজেদের গোষ্ঠীতন্ত্র বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছেন। কবি হতে গেলে চব্বিশ ঘণ্টার কবি হতে হবে। সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করা ছাড়া অন্য বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা যাবে না। অথবা অন্য কোনো ধারার  বা জীবিকার মানুষ কবিতা লিখতে এলে ফেলোশিপ নিতেই হবে। বাংলা কবিতায় অবশ্য কেউ দাবি করছে না সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস ও ব্যাকরণ না জেনে কেন কবিতা লিখতে এসেছেন? যেহেতু সংস্কৃত সাহিত্য বাংলা ভাষার আদি জননী। তবুও কবিদের মধ্যে জানাজানি নিয়ে মিছে হানাহানি আছেই। কেউ বলছেন সনেট লেখা না শিখে কবিতা লিখতে আসেন কেন ?  আর সব দেশের কবিদের সমস্যাগুলো প্রায় একরকম। জানি কবিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে কবি প্রাবন্ধিকরা যুগে যুগে ভাবনার পরিচয় রাখবেন। এতে করে নিজেদের অবস্থান যাচিয়ে নেওয়া যায়। ' কবিতার ভবিষ্যত, ভবিষ্যতের  কবি' সম্বন্ধে বলতে কবিরা টাইম মেশিনে চড়ে বসেছেন। প্রত্যেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে অনুসরণ করে বলেছেন কবিতা কি ছিলেন, কি আছেন কবিতা, কবিতা কি হইবেন। 
আমরা কবিতা কানে গুঁজে কবিতা খুঁজতে বেরিয়েছি। যা পাচ্ছি  যা পড়ছি তাতে সন্তুষ্ট হতে পারছি না। একে অপরের কবিতার প্রতি সন্দেহ পোষণ করছি। আবার প্রবীণ ও নবীন কবির কবিতাবোধে বিপুল তরঙ্গময় দূরত্ব আর সংঘাত।
একটা সমাধানে এসে সবাই পৌঁছেছেন যে যুগ যুগ ধরে কবিতার ভাষা ও রীতির পরিবর্তন অবশ্যই ঘটবে। এখন যারা লেখালেখি করছি তখন আর তারা থাকব না। আর ভবিষ্যতের কবিতা এখন যদি লিখে ফেলি সেটিও তো এখনকার কবিতাই হবে, কালানুযায়ী ভবিষ্যতের হবে কি করে। সব কবি ভবিষ্যতের কবিতার পথ বাৎলে দিতে পারেন না। কোনো কোনো কবি এমন কিছু সংকেত রেখে যান লেখায় যা পরবর্তী কবিদের কেউ কেউ তার অনুসরণ করে নতুন কবিতারীতির প্রচলন করতে পারেন। কারণ কবিতা  বিভিন্ন ঘরানার পরম্পরা। একজন বারীন ঘোষাল একজন মলয় রায়চৌধুরী একজন শম্ভু রক্ষিত একজন অমিতাভ মৈত্র ছিলেন/আছেন বলেই আজ শূন্য দশকের কবিরা নিজের নিজের স্বাতন্ত্র বজায় রাখছেন। 
শূন্য দশকের কবিরা পূর্ববর্তী কবিদের রচনারীতি আত্মস্থ করে নিজেদের সমুচ্চ সাধনা তুলে ধরেছেন। তারা শব্দের কম্বিনেশন ও পারমুটেশনের সঙ্গে আত্মার মীমাংসা অমীমাংসা মিশিয়ে নিয়েছেন। অভিজিৎ পাল, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, সৌম্যজিৎ আচার্য , সব্যসাচী হাজরা ও স্বয়ং এই প্রবন্ধকার, কবি বিশ্বজিৎ এদের কয়েক জনের কবিতা অধিগত করলে বক্তব্য পরিষ্কার হবে যে এই সময়ের কবিরা উপযুক্ত ভবিষ্যতের কবি তৈরি করে যাবেন। কবি অনুপম মুখোপাধ্যায় এর পুনরাধুনিক ও প্রকল্পের কথা আমরা জানি। শূন্য দশকের আমরা ইতিমধ্যেই নতুন প্রজন্মের কবিদের মুগ্ধতা অর্জন করেছি। কে বহুদিন একনায়ক তন্ত্র করবেন সেটাও ধর্তব্যের মধ্যে আসে না। সঞ্জয় ঋষি কবিতায় বলছেন ' জল সেলাই করে যেভাবে মাছ; সেইভাবে প্রেম হোক। হোক নাকে নাক ঘষাঘষি। চোখে চোখ ঘষাঘষি।' সব্যসাচী হাজরা লিখেছেন 'ফ র র ফরর পিক পিক পিক চিকম চিকমম/ ফটফটির উল্লাস ঙ-য় হৌম আবেগে/ হাঙরের মতো বহুতল/ নানাময়ী বিড়াল/ ধর্মে হ, বর্ণে হ...' ইত্যাদি। কবির চোখে লেগে থাকা ডিসপোজিশন । সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রাত্যহিক জীবনের অনুষঙ্গ কবিতায় প্রকাশ করে চলেছেন নতুন নির্মাণ শৈলীর মাধ্যমে ‌পাঠকের জন্য রসবিনিময় ও মতবিনিময় সহজ ও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে না সবসময়। নাস্তিক্যবাদী মণীষাকে সমাজের এক বৃহত্তর অংশ স্বীকার করে না। পরিবর্তনের ফলে কবিতা হারায় না। 
জীর্ণ বাস পরিত্যাগ করে আত্মা যেমন নব কলেবর ধারণ করতে চায় তেমনি কবিতাও খোলনলচে বদলে ফেলবে। এখনকার সরকারি যে সব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে আমাদের ভাগ্যে ভবিষ্যতের কবিদের কপালে যা নাও থাকতে পারে। 
প্রাবন্ধিক শাহিদ হাসান বলেছেন : কবিতা অনিবার্যভাবে পাল্টে যাবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর হবার সম্ভাবনা বেশি।
খুব ভালো লাগলো এই ভবিষ্যদ্বাণী। আমি বলছি ভবিষ্যতে এমন দিন আসবে, এমন সফ্টওয়্যার তৈরি হবে যে কবিতার ভাষা ও নমুনা যন্ত্রে ইনপুট করা মাত্র কম্পিউটার বা রোবট কবিতা লিখে দেখাবে। হয়তো শখানেক জীবনানন্দধর্মী, মলয় রায়চৌধুরীধর্মী, অলোক বিশ্বাসধর্মী কবিতা লিখে দেবে কম্যান্ড ও ডিম্যান্ড অনুযায়ী। এর জন্য কাউকে আর ভানুসিংহ ছদ্মবেশ নিতে হবে না। অথবা কোনো নতুনতম কবিতা লিখে দেখাবে। আশ্চর্যান্বিত হয়ে লাভ নেই।
আমাদের বঙ্গীয় সাহিত্য সবটুকুই তো বৈদেশিক সাহিত্য থেকে ধার করা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ওয়ার্ডসওয়ার্থ কীটস প্রমুখ রোমান্টিক কবিদের থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। পোস্ট মডার্ন , পাওয়ার পোয়েট্রি, ম্যাজিক রিয়ালিজম, অ্যান্টি পোয়েট্রি ইত্যাদিও বৈদেশিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠিত তত্ত্ব। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সাহিত্যতে অ্যাংরি ইয়ং মেনদের কবিতা নতুন যুগের সৃষ্টি করল‌। জন অ্যাসবেরি , মার্গারেট অ্যাটউড, সল বেলো, রিচার্ড ব্রটিগান প্রমুখ হাজার কবি কবিতা লিখেছেন। এই ঢেউ বাংলা সাহিত্যে এসে পৌঁছেছে স্বাভাবিকভাবেই। আশির দশকে বাংলা কবিতায় ব্যাপক ভাষাবদলের প্রভাব দেখা যায়।
এখন শূন্য দশক পেরিয়ে প্রথম দশকের কবিতায় আবেগের ভাটা পড়েছে সামান্য। আবেগ নামক সোনায় খাদ মিশিয়ে বেশ শক্তপোক্ত কবিতা গড়ে তোলা হচ্ছে যাকে বিনির্মাণবাদী কবিতা শৈলী বলা যায়। বয়স্ক
প্রাচীনপন্থী  এবং নব্য প্রাচীনপন্থী উভয়েই গেল গেল রব তুলছেন। তবে খুব ছোট্ট একটা পয়েন্ট তৈরি হয়ে গেছে।ঐ বিন্দুতে কিছু কবি কাজ করে চলেছেন। একঘরে হবার ভয়ে বেশির ভাগ কবি এ পথ মাড়ায় না। তারা জনগণপ্রিয় কবি নন। তারা সরকারের দ্বারা আদৃত কবি নন। এদের কবিতার মধ্যে আয়রনি, প্লেফুলনেস, ব্ল্যাক হিউমর, হাইপাররিয়েলিটি, প্যারানোইয়া , ফ্র্যাগমেন্টেশন ইত্যাদি কতোরকম বৈশিষ্ট্য আছে। 
কবি আহমেদ মওদুদ  কবিতার পন্য হয়ে যাবার দিকটি দেখিয়েছেন। এই সমস্যাও চিরকালের। জুয়া খেলার মেশিনে ঢুকে পড়ে কে কিভাবে দু পয়সা কামিয়ে নিচ্ছে আর  নুন আনতে পান্তা ফুরানোর কবিরা বই বিলিয়ে দেবার আনন্দে মেতে ওঠে। বেঁচে থাকার অহংকার আর কি।
আবার আজিজ কাজল বললেন : কারণ ভার্চুয়াল বিশ্বের রেডিও অ্যাক্টিভ তেজষ্ক্রিয়তায় বহুবিধ অনুষঙ্গ ভবিষ্যতের কবিতানির্মাণ শিল্পকে নষ্ট করে দেবে। 
কি এক আশংকা তাকে অধিকার করেছে যেন। এ প্রসঙ্গে বলা বাহুল্য হবে না যে রেডিও অ্যাক্টিভ মিনারেল বৃষ্টি নামের একটি কবিতার বই রয়েছে আমার। রয়েছেন অংকের সঙ্গে কবিতাকে মিলাতে ব্যস্ত এক কবি তিনি নব্বই দশকের অনিন্দ্য রায়।  পুনরাধুনিক প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত অনুপম মুখোপাধ্যায়। অসংখ্য আংকিক চিহ্ন ব্যবহার করে কবিতা লিখছেন প্রথম দশকের কবি রাহুল গঙ্গোপাধ্যায়। ফারজানা মনির কবিতায় আছে ছুরির ধার।
বাস্তবধর্মী কবিতা লেখা উদ্দেশ্য হলেও কবিতার নিজস্ব গুণে বাদলা ও পাগলা হাওয়া এসে তাকে উল্টে দেয়। ব্যঞ্জনাময় না হলে তো আধুনিকোত্তর কবিতা জলসা হয়ে যাবে , মামুলি হয়ে যাবে, মননশীলতা হারাবে। এমন কি রবীন্দ্রানুসারী কবিতাও লিখতে পারি না এই সময়ের দাবি মেনে। কবিকে সবসময় নতুনত্বের সন্ধানে থাকতে হবে। আমাদের বাস্তব জীবনের নাইটক্লাব, ফাটকাবাজি, টাকা নয়ছয় করা, হত্যা, ঘুষ ইত্যাদি ইত্যাদি যুগযুগ ধরে প্রতিটি সমাজেই বিরাজমান। ইদানিং বাংলা গানের লিরিক্সও পাল্টে গেছে। একটা বিষয় অবশ্য বলা যায় অপরিচিত নতুন কবিরা আগেও যেমন প্রকাশকের ভরসাস্থল ছিলেন না এখনো তেমন নন। আগে জনপ্রিয়তা অর্জন করে এসো তারপর সরকার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবে।
তাহলে ভবিষ্যতের কবিতা কি জিনিস বলতে গিয়ে কবি অনিন্দ্য রায় যা বলেন তাই গ্ৰহণযোগ্য হোক : কবির বাস্তবতা যেমন সাধারণের বাস্তবতার সাথে মেলে না , পারপেন্ডিকুলার, সময়ও কবির কাছে রিয়েল টাইমের সাথে পারপেন্ডিকুলার ও ইমাজিনারি।
এমন একজন মানুষ , যিনি সময়ের উল্লম্বে চলাচল করছেন, লিখছেন কবিতা।
এমন একজন মানুষ, যিনি সময়ের উল্লম্বে যাতায়াত করছেন, পড়ছেন কবিতা।
তাঁরা কেউই , সময়ের সোজা পথ ধরে হাঁটবেন না, হাঁটতে পারবেন না। কোনোদিনই ভবিষ্যতে পৌঁছবেন না কবি ও পাঠক।'
আমাদের দেশে কবিদের সবচাইতে বড় আশা ও ভরসাস্থল লিটিল ম্যাগাজিন। অনেকটা বাংলা সিরিয়ালের ছোটপর্দার মতো। নিজেদেরকে বিগ হাউসের চোখে পড়ানোর চেষ্টা সবসময়ই বর্তমান বড়ো দাদাদের যথেষ্ট উন্নাসিকতা ও উদাসীনতা থাকা সত্ত্বেও। ধর্মীয় নেতাদের মতো  বিগ হাউসের ভাবাবেগে আঘাত পাবার ব্যাপারে সচেতন সচকিত থাকেন।এখন ফেসবুক ও ব্লগ বড়ো ভরসাস্থল। বিদেশে একাডেমী অব আমেরিকান পোয়েটস আর বহুবিধ ওয়ার্কশপ ফেলোশিপ লেকচারস ইত্যাদি আছে কবিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বাতাবরণ দেবার জন্য। এখানে অনেকটা লাইফ টাইম এচিভমেন্টের মতো পুরষ্কার দেয়া হয়। লক্ষনীয় এই যে একাদেমী  পুরষ্কারপ্রাপ্ত কবিরাও অনেকে নতুন প্রজন্মের কাছে অনুসরণযোগ্য বিবেচিত হচ্ছেন না। 
রাহুল গঙ্গোপাধ্যায়ের ইঙ্গিতময়  একটি কবিতা পড়ে নেওয়া যাক। 
মিথোজীবি কবিতা মাত্রা
ক্রমশঃ বিক্রিয়ায় গাছ খনিজ মাটির প্রতিস্থাপন
মাটি ~ প্রতিস্থাপক :  আকরিক মাটি
ভিজে জল ~ শরীর ভেজায়। শরীর জুড়ে শেকড়
কতোপথ ভিজে গেলো ~ ভারীমেঘ জলে
বরফিলা আয়নাছবি। 
একটু দীক্ষিত ও শিক্ষিত পাঠকের কাছে এদের
আবেদন। কে পড়বে আপনার কবিতা, কোন ধরনের আলোয় এনলাইটেন্ড তিনি এসব দিক লক্ষ্য করে কি কবিতা সবসময় লেখা যায়? যায় হয়তো। জীবনপ্রনালীর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাই কবিতার ভাষা ও রীতি পাল্টে যায়। আমরাও বলতে পারি আমার সন্তান যেন থাকে কবিতাতে। আমাদের কবিতার সংকেত ধরে আসবে ভবিষ্যতের কবি।
কবি তানসিম রিফাত বললেন : কবিতা কেবল ভাষা নয়, এর দার্শনিক স্তরটার দিকেও মন দেওয়া জরুরি। নিজ কালের চিন্তার সঙ্গে এর মতো দূরত্ব থাকবে , ততো নিজ মানুষের সত্যভাষন থেকে দূরে চলে যাবে কবিতা। ' এই ধারণাটা কবিতা সম্পর্কে একটা প্রচলিত হোয়াক্স বলা যেতে পারে। মিথ্যে ব্যাপারটাও জীবনের একটা সত্যি। সত্যিকারের সত্যি তো খুব কর্কশ আর কঠিন। তাকে যেমন আছে তেমনি দেখানোয় কবিতার মায়াজাল ছিন্ন হবে। কবিতার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে না এইভাবে। নতুন কবিতা দু তিন বার পাঠ করলে আস্তে আস্তে অর্থময়তা আসে। কবি স্বদেশ সেন নতুন কবিতা লেখার সূচনা করেন। আজ যারা একটু অন্যরকম কবিতা লেখার চেষ্টা করছেন সেটা এইসব বরেণ্য কবিদের সাধনার আলোয় পরিমার্জিত। 
আমার কবিতার নমুনা রাখলাম।

চৌরেখা -  ১৫ 

ফুটকি প্রেমী চিতার একশো মিটার দৌড়ে জয় আমার। হাল্কা দর্শনকে জলে পয়সা ছুঁড়ে গম্ভীর করে তুলি। যতো সম্বন্ধপদের চিহ্ন নিয়ে রূপো রঙ ধুলো ওড়ে। দোলের  রঙিন জল পেট্রোলের পিছন ছুটছে আর ময়নাতদন্ত বলে ঘোড়ার মালাইচাকিটি আমার।' 
কুহক বিদ্যার অন্যতম এই কবিতা ভাষিক যোগাযোগ গড়ে তুলবে মানুষে মানুষে সমাজে সমাজে এ আশা করা অমূলক নয়। 

সুব্রত পণ্ডিত

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। দ্বিতীয় প্রয়াস











সলিউশন X Y Z .      সুব্রত পণ্ডিত

X

এক্স-রে রিপোর্টে আশ্চর্যজনক ভাবে
ধরা পড়েনি হার্ট-পলিউশন
এ জন্যই পলিথিন- গার্ল প্রকাশ্য পথে
                       বাথরুম করে

প্রশাসনিক বাংলোয় প্রৌঢ় গাছ
সেমিনারের শুরুতে স্বচ্ছ মানুষ হওয়ার
প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দ্যায়
          ট্রাফিক পুলিশের হাতে...

Y

জামাটি জেরক্স হতে হতে
মুখোশ রঙের মৌমাছি হয়ে গেছে।
কিভাবে হুল ফোটায় নির্ণয় করতে না পেরে
               মৌচাক ঢিল ছুঁড়ি

দেখি দলতন্ত্রের অজস্র শ্লোগান
আমাকে দৌড়ে মারছে খাদের কিনারে...

Z
জেড ক্যাটেগোরি নিরাপত্তা পেতে গেলে
আমাকে ইলেকশনে দাঁড়াতেই হবে।
অথচ হ্যান্ডিক্যাপড সার্টিফিকেটে
দেখানো হয়েছে আমার নিম্নাঙ্গই নেই।

উর্ধাঙ্গের দু-হাত তুলে তাই রোজ বের হই
নগর কীর্তনে
ভন্ড মৃদঙ্গ আর চাটুকতার করতাল
বেজে ওঠে মিথ্যুক দেয়াল লিখনের অর্কেস্ট্রায়...

জনগনকে ঠকাতে ঠকাতে আমি পার্লামেন্টে ঢোকার
         আই-কার্ড হারিয়েছি।  

কামরুল বাহার আরিফ

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। দ্বিতীয় প্রয়াস











লখপুরের জলের লতিকা   কামরুল বাহার আরিফ
কোনো এক বানের জলের বন্দি সময়ে
লতিকার সাথে পরিচয় হয়েছিল।
লতিকাও তখন টলটলে এক জলপূর্ণ দিঘী
ঘরের বাইরে বানের জল
ঘরের ভিতরে জলপূর্ণ দিঘী
আমি হেসেছিলাম লতিকার হাসির ভেলায়
আমি ভেসেছিলাম লতিকার চোখের খেলায়
জলমগ্ন সেই সময়টা লখপুরে আর আসেনি
আমিও ফিরিনি লখপুরের জলের লতিকায়
শুধু বিমলের কথা মনে পড়ে
বিমল বিপ্লবমন্ত্রে দীক্ষিত ছিল
তবুও বিমল লতিকার প্রেমে পড়েছিল
লতিকা এক জলপূর্ণ দিঘী ছিল
লতিকা প্রেমপূর্ণ অগ্নিশিহরণ ছিল।

জলের বান নেমে গেলে ডাঙায় ফিরেছিলাম আমি।

একদিন শুনেছিলাম লতিকা তার জলের নহরে
বিমলকে ডুবিয়ে নিয়েছিল।

সেই লখপুরের লতিকা এখনো কী জলপূর্ণ দিঘী! জানি না
এখনো কি বিমল জলের লতিকায় স্নান সারে! জানি না
তবে প্রেমই বিপ্লবীকে হারিয়ে দেয় লখপুরের লতিকায়।

উৎস রায় চৌধুরী

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। দ্বিতীয় প্রয়াস











জীওনের গ্রাফ    উৎস রায় চৌধুরী

লুকনো সরিয়ে টিপ্স মাখছি আয়না
এ প্লাস বি এর চোরা পিন্ড
শতকের প্রতিটি কোণ
দলা পাকানো মিশে স্রোত কল্পনা
পা হীন বিকেল
আঁশ ছাড়াচ্ছি রোজ
শুয়ে না দেখার অদৃশ্য ব্যালকনিতে---


সেইসব বাড়ানো চোখ
মেডুলায় একাকার ডায়রি হানছে
মাত্র দু কলম ফোঁটা কার্পেট আঁকছে
অজ বললেই প্রশান্ত খোলে না
বিষাক্ত ভয়ে
কেবল অমবস্যার পকেট ভর্তি
কয়েন  কেনার আসর---

শীলা বিশ্বাস

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। দ্বিতীয় প্রয়াস











আলো বাতাসের কবিতা   শীলা বিশ্বাস 

রাম কিংকরের ভাস্কর্যরা একদিন নিজেদের মধ্যে কথা শুরু করল ... 
সুজাতা বলল, আমি কিন্তু সুজাতা নই । মাথার উপর পাত্রটি না থাকলে হয়তো প্রকৃত পরিচয়ে বাঁচতাম । আমি বিনোদ । 
ভিস্তিওয়ালা বলল, আমি কতদিন মাথা ভেঙে পড়ে রইলাম তার খবর কজনে রাখে? এতদিনে  বুঝি টনক নড়েছে।
বাপুজি বললেন, সকলে আমার বাহ্যিক গঠন নিয়ে ভাবে । দেখার চোখ থাকলে বুঝতো হুবহু নকল শিল্প নয়। 
সাঁওতাল পরিবার থেকে কর্তা বললেন, প্রান্তিক মানুষের চলমান দৃশ্য পিতা ছাড়া কেউ কি এভাবে তুলে ধরেছেন? তিনিই তো পাহাড় কিংবা মন্দিরের গা থেকে আলো বাতাসে মধ্যে মাটিতে নামিয়ে এনেছেন সিমেন্টের কবিতা । ধামাবতী, খাদুবালা, চন্দ্রা, আবরণ , বিনোদিনী, জয়া, নীলিমা, রাধারানী তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন এক নিঃসঙ্গ ভাস্করকে। 
পিতা রং তুলিতে আজও বর্তমান বিশ্বের ছবি আঁকার চেষ্টা করছেন 
কিন্তু রং ছিটকে বেরিয়ে আসছে 
         রক্তাক্ত ক্যানভাস 
 সে রক্ত জাতপাতের 
সে রক্ত এলিটিসিজমের....

গৌরাঙ্গ মিত্র

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। দ্বিতীয় প্রয়াস












ভ্রমণের উপকরণ    গৌরাঙ্গ মিত্র 

আয় মন বেড়াতে যাবি? অবশ্যই বেরিয়ে পড়তে হবে। বেড়ানোর থেকে আর ভালো কিছু হয় নাকি। 
দেশ কে চিনতে গেলে বেরিয়ে পড়তে হবে। মানুষের সঙ্গে আত্মিয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে পর্যটনে যেতে হবে। 
নানা জায়গায়  আপনি ভ্রমণ করতে পারেন। জল,-জঙ্গলে, স্থল, পাহাড় পবর্তে, মরুভূমিতে- গো এজ ইও লাইক। 
বেড়াতে গেলে কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আপনাকে সঙ্গে নিতে হবে। স্থান কাল অনুযায়ী সরঞ্জামে কিছু তারতম্য ঘটে। তবে সাধারণ ভাবে যেকোনো সময়ে, যেকোনো জায়গায় ঘুরতে গেলে এই সব জিনিস সঙ্গে নেবেন-1)  অতিরিক্ত কয়েকটি পোশাক 2) গামছা বা টাওয়েল 3) টর্চলাইট, গ্যাস লাইটর
4) নোটবুক, কলম। 5) প্রয়োজনীয় অসুধ(জ্বর, বমি, মাথাব্যথা, পেট খারাপ এর অসুধ ও ব্যানডেড) 6) শুকনো খাবার, ড্রাইফুড যেমন  কাজুকিসমিস, চানাচুর, বিস্কুট, চকোলেট,ইত্যাদি 7) ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ইত্যাদির অরিজিনাল ও কয়েকটি কপি জেরক্স ও কয়েক কপি  পাসপোর্ট সাইজের ফোটো8) মশার ধুপ বা ওডোমাশ। 9) ছোটো কিটব্যগ্যা এ রাখুন সাবান স্যম্পু, টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, শেভিং কিট,। 9) ছুঁচ সুতো, কাপড় মেলার দড়ি, কয়েকটি ক্লিপ। 10) একটা প্লাস্টিক সিট ও কয়েকটি পুরোনো খবরের কাগজ। 
তালে আর দেরি নয়, ঝোলা-ঝুলি নিয়ে এখুনি বেরিয়ে পড়ুন।

চন্দ্রদীপা সেনশর্মা

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। দ্বিতীয় প্রয়াস











ফেরা     চন্দ্রদীপা সেনশর্মা

ফিরে আসি ফেরার পথ ধরে। অবহেলিত
মুহূর্ত পড়ে থাকে নাম না জানা
শুকনো পাতার মাড়ের ঘোলাটে দাগে।
আকাশে মাড়োয়া রাগের মনকেমন
ঠিকানা হারিয়ে উড়ে যায়।

ফেরার পথ ফিরতে ফিরতে দেখায়
দুভাগ চিরে গেছে বাঁকনিমেষ
প্রথম ভাগে যাওয়ার কথা ছিল কি?
দ্বিতীয় পথ ফেরার ঘরের নিভৃত ছাউনির পাটে---

পাটভাঙা চাঁদের গায়ে আলোর শূন্যমুখ

সুলেখা সরকার

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। দ্বিতীয় প্রয়াস











প্রচ্ছদ    সুলেখা সরকার

প্রচ্ছদ
অন্ধকার = রাত/গ্রহণ/জটিল
চুরিমাত্রিক পদ্ধতি/ভীষণ বর্ষা = গুগলি
স্যাঁতস্যাঁতে মাটির উঠোনে ভার্টিকাল শরীর
ঠাকুমা শান্তি ছেটাচ্ছেন।

বৃত্তরা ঝরছে আকাশ থেকে
বিন্দু-পৃথিবী কুড়চ্ছি অনেক
সমপরিমাণ বুদবুদ মিলিয়ে যাচ্ছে ভাস্যজলে
বারান্দা নেই : ১) জায়গার অভাব ২) সময়ের অভাব
কচিকাঁচাদের ব্যালকনি জীবন
সূর্য not equals to গনতন্ত্র 


মৌমিতা পাল

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। দ্বিতীয় প্রয়াস











মনাস্ট্রি কলিং - ৩     মৌমিতা পাল

প্রবাস আঁকছি 
আপন আঁকছি
শূন্যতার কথা বলা হয়নি।
নীলাঞ্জন তোকে আর ফ্লাইট মিস করাবো না
দক্ষিণের কোনো ক্যাফেতে বসে তুই একা একা কনটেণ্টেড হোস , তোর কাছে যাবো না।
সব পাওয়াটুকু ফুরিয়ে যায় নি বলেই , 
এখনো অনেক কিছু রয়ে গেল

আমার কোন গোপন নেই
অতিকাল্পনিক  রাত নেই
থ্যাতলানো জীবন আছে 

তুলনামূলক প্রেমে 'সম্ভাবনা' বিলি করি

চকোলেটের ছাঁচে ভরা অন্ধত্বে পুরে দিই
কাজু ,ব্লুবেরির বখশিস

নিজেকে মেরে ফেলতে চাইছি

খানকয়েক সাফল্য খোলামকুচির মতো
 ছড়িয়ে দেব চারপাশে
নিজেকে উদ্ধত হ'বার সুযোগ না দিয়েই
       ছয় ঋতুর ক্যালেণ্ডারে মহাবিশ্ব আঁকব

নিজেকে জানার পর নিজেকে মেরে ফেলতেই হয়

অরিজিৎ চক্রবর্তী

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস... দ্বিতীয় বর্ষ। দ্বিতীয় প্রয়াস











অভয়মুদ্রা়    অরিজিৎ চক্রবর্তী 

দীর্ঘ অপেক্ষার পর
অনিত্য ভুলে যেতে যেতে ভাবলাম
লালবাঁধের শোভিত বজরায় আজ
যদুভট্ট গান ধরবেন

তুমিও থাকবে সেই  নীলিমায়় 
                                প্রাণিত অমরতার মতো!

ভেসে যাবে জলে সহস্র কুমারীব্রত !

 রচিত মৃণালপথ
                দিগন্ত ময়ূরের ঐ  শ‍্যামরায়...

প্রদোষ সন্নিকর্ষ শীতের কুয়াশায়