নিঃসঙ্গ ছায়ানটের শতবর্ষ [ পর্ব: ৭]
এক ভবিষ্যতদ্রষ্টা তরুণ পরিচালকের পদধ্বনি
.............................. .............................. .........
কথক-স্বর গোপন রাখবার কোনো প্রয়াস 'নাগরিক'-এ নেই। পাত্রপাত্রীদের বিশেষ কিছু মন্তব্যে কথক-কণ্ঠ পরিষ্কারভাবে উপস্থিত। বাগচী পরিবারের পেয়িং গেস্ট, রসায়নবিদ সাগর সুরেশবাবুকে বলে, প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য সত্ত্বেও দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যে এত শোচনীয়, তার মূল কারণ, শোষণ; মানুষের এই দুঃখকষ্ট আসলে অর্থহীন। বর্তমান বাংলা যাঁর চোখে জীর্ণ দরদালানের মতো, সেই সুরেশবাবু রামুকে বলেন, 'ভাঙাটাকে মানলে গড়ার রাস্তাও দেখা দিতে পারে।' রামুর বামপন্থী বন্ধু সুশান্ত তাকে সেই গড়ার রাস্তাটাই দেখাতে চায়: যে-পুঁথিতে মানুষের অনেক অভিজ্ঞতা জমা আছে তাকে ঠিকমতো কাজে লাগিয়ে জীবনের সঙ্গে এক করে নেবার পরামর্শ দেয়, রামুকে সংঘবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলনের শরিক হওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। বাড়িভাড়ার দায়ে ঘরছাড়া, খ্যাপাটে আধবুড়ো যতীনবাবু বস্তিবাড়িতে উঠে যাবার সময় রামুকে তার ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়: 'সুশান্তবাবুর কথাগুলো মনে পড়ছে; আমাদের সকলের পথই ওই এক জায়গাতে গিয়েই শেষ হবে।' যতীনবাবু, সুবর্ণরেখা-র হরপ্রসাদের পূর্বসূরি; রঙ্গপ্রিয় স্বপ্নপাগল হরপ্রসাদ যেমন সদাগম্ভীর সাংসারিক ঈশ্বরের, তেমনি যতীনবাবুও রামুর অতিকৃতি, কমিক আত্মস্বরূপ'-সহজ, একের মধ্যে আরেকজনকে আবিষ্কার করা। আর আছে এক রহস্যময় বেহালাবাদক -হঠাৎ-হঠাৎ উদয় হয়ে গল্পের জোড় ভেঙে দেয়। বেহালাবাদকের একটা বিশেষ সুর রামুকে নেশার মতো পেয়ে বসে, কিন্তু যতবারই রামু তাকে সুরটা বাজাতে অনুরোধ করে, বক্রব্যঙ্গের হাসি হেসে সে মুখ ফিরিয়ে চলে যায়। কে এই বিস্ময়কর বাজনদার? বিবেক? ইতিহাসপুরুষ? বেহালায় ছড়ের টান, কামারশালার আওয়াজ, আন্তর্জাতিকের সুর-সাউন্ড ট্র্যাকের বিন্যাসেও স্পষ্ট কথকের পথনির্দেশ। এই ছ'টি দৃষ্টান্ত থেকে নাগরিক-এ কথক-স্বর প্রক্ষেপণের রীতিবৈচিত্র্যের একটা আন্দাজ পাওয়া যায়: কোথাও সরাসরি বাচনিক, কোথাও তির্যক, প্রতীকী। ঋত্বিকে কথক-কণ্ঠ চিরকালই সোচ্চার-কেবল তাঁর ছবিতে যত পরিণতমনস্ক হবে, তত কঠিন হবে বাচনিক-অবাচনিকের ক্ষেত্রবিভাজন। নাগরিক-এ কথক, যেন পদাধিকারবলেই, একটু উঁচু থেকে আত্মবিভোর রামুদের ওপর তদন্ত চালায়, ভর্ৎসনা করে। কিন্তু এর পর থেকে, উচ্চাসনের যত বিশেষ সুযোগ-সুবিধে এক একে সব ছাড়তে হয় ঋত্বিকের কথককে; সংশয় আর জিজ্ঞাসায় ক্ষতবিক্ষত হতে-হতে, যুক্তি তক্কো গপ্পো-য় অবশেষে নেমে আসতে হয় অন্যদের সমতলে। কিন্তু যতই ক্ষমতাধর হোক, একা কথক কি নাগরিক-এর রামুকে ঘরের বাইরে টেনে আনতে পারত-ভেতরের চাড় ছাড়া কি কেউ মঙ্গলসমাচারে কান দেয়? রামুদের আত্মজ্ঞানের যা প্রধান অন্তরায় তা-ই যদি অশনাক্ত থাকে তা হলে তো শত আন্তরিকতা সত্ত্বেও মুক্তির আয়োজন পন্ড হতে বাধ্য। কী সেই অন্তরাল ?
বহির্বিশ্বের চাপে পারিবারিক বিপাক, আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার সঙ্গে ঘরোয়া ব্যবস্থার সংঘাত, বাংলা গল্প-উপন্যাস-নাটক-চলচ্চিত্রের একটি প্রিয় বিষয়। এই সমস্যাটি সাধারণত যেভাবে উপস্থাপিত হয়, তাতে মনে হয় যেন, বস্তুদুনিয়া আর পরিবারকেন্দ্রিক আবেগজগৎ মানবজীবনের দুই আলাদা এলাকা-এতদূর আলাদা যে প্রথমটিতে ক্ষয়বৃদ্ধি অদলবদলের বিড়ম্বনা থাকলেও দ্বিতীয়টিতে' তেমন কোনো ঝঞ্ঝাট নেই, সমস্তকিছুই সেখানে সংগত এবং সনাতন। যেন, আমাদের সংসারের একপ্রান্তে রয়েছে বিবর্তন-পরিবর্তন, অন্যপ্রান্তে নিত্যআবর্তন, একধারে সামাজিকের অনিশ্চয়তা অন্য ধারে স্বাভাবিকের বরাভয়। এই বর্গবিভাগ তথাকথিত জনপ্রিয় শিল্পসাহিত্যের মুখ্য অবলম্বন--ওই সব-খোল চাবিখান আছে বলেই আপতিকের দুর্ঘটকে আবশ্যিকের প্রত্যয়ে শামাল দেওয়া সোজা। আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা এবং আবেগব্যবস্থা যদি একে অপরের বিপরীত এবং পরিপূরক হয়, তা হলে দেশ-কালে যাই হোক-না-কেন, বিভিন্ন পারিবারিক আদিরূপে ঘা পড়ে না: সব-বহা সব-সহা মা'র মমতায় ঘাটতির প্রশ্ন ওঠে না, ভাইবোন সম্পর্ক যথারীতি নির্মল অপাপবিদ্ধ রয়ে যায়, বড়োছেলে আত্মদানের শরৎচন্দ্রীয় আদর্শে সংসারের যুপকাষ্ঠে নিজেকে বলি দেয়, ইত্যাদি প্রভৃতি। পারিবারিক সম্বন্ধগুলোকে শুধু মৌলিক নয়, নিষ্কলুষ এবং ইতিহাস-ঊর্ধ্ব দেখিয়ে বহু সংকটের চটজলদি সুরাহা করা যায়-পারিবারিক মতাদর্শকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে নিলে যে সমাজজিজ্ঞাসারই বিশেষ কোনো অর্থ থাকে না, এই চেতনাটাই হারিয়ে যায় তখন। ঋত্বিক সেই বিরল শিল্পীদের একজন যাঁর চোখ-ঠারার এই চেষ্টা নেই-উলটে তিনি কেবলই মানবসম্পর্কের না-বলা বিপজ্জনক সব অঞ্চলে নিয়ে যান আমাদের। নাগরিক-এ, পরে আরও সফলভাবে মেঘে ঢাকা তারা এবং সুবর্ণরেখা-য়, চিরচেনা পারিবারিক ভুবন ও নিত্যধার্য মূল্যবোধ থেকে যাত্রা শুরু করেও প্রত্যাশিত গন্তব্য থেকে দূরে সরে যান ঋত্বিক। বহুদিনযাপিত সংস্কারের বশে আমরা যাকে সমাধান বলে ভাবি, তাকেই তিনি পালটে দেন সমস্যায়।
নাগরিক-এ বিয়ের অপেক্ষায় বসে-থাকা বদ্ধ ঘরে বন্দী বোন সীতার অবস্থা রামুর সারা শরীরে জ্বালা ধরিয়ে দেয়। এই জ্বালা থেকে কী সাংঘাতিক কান্ড হতে পারে তার একটি নিদর্শন ঋত্বিকের 'এজাহার' গল্প। ভবেশরঞ্জন বাগচী বোন জয়ার শ্বশুরবাড়ি এসে বোঝে এক যৌনরোগগ্রস্ত লম্পটের সঙ্গে তার বোনের বিয়ে হয়েছে। অসুখী, অন্তঃসত্ত্বা বোনকে প্রথমে সে গৃহত্যাগের, পরে আত্মহত্যার পরামর্শ দেয়; দুটোর একটাতেও জয়া রাজি না হলে তাকে নিজের হাতে গলা টিপে মারে ভবেশরঞ্জন। একপাশে নির্দয় স্বামী অন্যপাশে ঘাতক ভাই, কে যে বেশি ভয়ংকর জয়া কি তা জানে! বোনের অসহায়ত্ব ভাইয়ের মনে উশকে তোলে হননেচ্ছা, খুলে দেয় পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে নিহিত হিংস্রতার মুখ। সুবর্ণরেখা-য়, বোনের প্রতি দমিত অথচ অনির্বাণ আকর্ষণেই সীতার কাছে পৌঁছে যায় ঈশ্বর; মেঘে ঢাকা তারা-য়, মা-মেয়ের এবং দুই বোনের দ্বন্দ্বই বানচাল করে দেয় নীতার জীবন। নাগরিক-এও দুই বোন আছে-রামুর প্রেমিকা উমা আর শেফালি। শেফালি, স্বেচ্ছায় নয়, টিঁকে থাকার অনমনীয় জেদেই বেছে নেয় বেশ্যাবৃত্তি।
নাগরিক-এ দুই বোনের গল্প সমান্তরালভাবে এগোলেও মেঘে ঢাকা তারা-য় গীতার সুখস্বাচ্ছন্দ্যই নীতার কাছে কাল হয়ে আসে। নাগরিক-এর শেষে রামু ভদ্রলোকপাড়ার পাট চুকিয়ে নীচের তলার ঘনবসতির দিকে পা বাড়ায়, বাসাবদলের ভেতর দিয়ে ইতিহাসের সদর রাস্তায় এসে দাঁড়ায়-সেইসঙ্গে এই ইশারাটুকু রেখে যায় যে, পারিবারিক মতাদর্শের স্নেহমায়ার ব্যূহ থেকে বেরিয়ে না এলে শ্রেণীচ্যুতির সংকল্প সার্থক হয় না, সম্পূর্ণ হয় না গোত্রান্তর। রামু যখন তার সাধের ক্যালেন্ডারের ছবিটি ছিঁড়ে ফেলে, স্বপ্নদৃশ্যের বিমোহন থেকে মুক্ত করে নেয় নিজেকে, ঠিক তখনই দুটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে। রানুদের ছেড়ে-যাওয়া বাড়ির দখল নিতে নতুন ভাড়াটে, এক দম্পতি, ট্যাক্সি থেকে নামে: তাদের কথাবার্তায় রামু শুনতে পায় তার আবাল্যলালিত আশা-আস্থার, মধ্যবিত্ত হিসেব-নিকেশের প্রতিধ্বনি। পুনঃসংঘটনের এই পদ্ধতির প্রয়োগ মেঘে ঢাকা তারা-র অন্তিম দৃশ্যেও আছে; ওই পুনঃসংঘটনই রামুকে বুঝিয়ে দেয়, অযুত-নিযুত নাগরিকদের মধ্যেই তার স্থান, কোনো গল্পই আসলে খাপছাড়া নয়। আর তার পর সেই আশ্চর্য বেহালাবাদককে ফের দেখা যায় পর্দায়: না চাইতেই সে রামুকে বাজনা শোনায়। মন্দাক্রান্তা তালে বাঁধা নিরন্তরতাবোধক ক্রিয়ার নিশ্চেষ্টতা ছেড়ে ঘটমান বর্তমানের বাস্তবতায় প্রবেশ করছে রামু। ইতিহাসপুরুষের আশীর্বাদ না পেলে কি তার নতুন জীবনের অভিষেকপর্ব সাঙ্গ হত? এর খানিক আগে রামু বলেছিল: 'আমরা সবাই মিলে নতুন শিশুর জন্ম দিচ্ছি। ব্যথার মধ্যে।' নাগরিক-এ-ঋত্বিকের পরবর্তী ছবিতে যেমন--'ব্যথা' কোনো বিশ্লেষণাত্মক একক নয়, শুধুই আবেগাত্মক, 'যন্ত্রণা'র শরীরী অভিব্যক্তি বা ঘটমানতার তীব্র প্রত্যক্ষতাও নেই। কিন্তু তাও অন্তত একটি ক্লোজ-আপের কথা না বললে অন্যায় হবে: বনেট-খোলা কালো একটা গাড়ি জানলা জুড়ে হাঁ হয়ে আছে, যেন, পাঁচিলের ঠিক ধারটাতেই মধ্যবিত্ত আঙিনার কোল-ঘেঁষেই চলছে সর্বগ্রাসের সর্বনাশের আয়োজন।
নাগরিক'-এর মূল প্রতিপাদ্যের আবেদন কাহিনীর বিন্যাসগত দুর্বলতাকে ছাপিয়ে ওঠে ঠিকই। ছবিটিতে কিন্তু প্রকরণগত পারিপাট্যের কিছু অভাব রয়েছে। মেক-আপের বাড়াবাড়ি, কয়েকটি চরিত্রের চলচ্চিত্র-অসম্মত অভিনয়, কাঁচাহাতের ক্যামেরার কাজ- অধিকাংশ সময়েই স্টুডিওর চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ থাকার ফলে যা গতিহীনতার শিকার, দৃশ্যপট রচনায় কল্পনার অভাব, পীড়াদায়ক রেকর্ডিং, আগাগোড়া চড়া আলোর ব্যবহার-এইসব অসুবিধে সাধারণ একজন দর্শকেরই অস্বস্তির কারণ হয়। আর, চলচ্চিত্র আঙ্গিকের শিল্পবিশিষ্ট্য নিছক যান্ত্রিক এবং ব্যবহারিক খুঁটিনাটি এইসব কলাকৌশলের মধ্যেই তো সীমাবদ্ধ নয়। ফ্রেমগুলির এক-একটির স্থিতিকাল, পারস্পরিক সান্নিধি-বিন্যাস-ধারাবাহিকতা- চলচ্চিত্রের পক্ষে এসবও তো ভীষণ জরুরী। আর, দৃশ্যনন্দনতত্ত্বের এই চাহিদাপূরণে সম্পাদকের দায়িত্ব যতটা, পরিচালকের দায়িত্ব তার চেয়ে অনেক বেশি। বোঝা যায়, এই ১৯৫২-য় ছবির ভাষা পুরো আয়ত্তে আসে নি তাঁর। মাঝেমধ্যেই নাটকীয় চালচলন মনে করিয়ে দেয় তাঁর হাতেখড়ি থিয়েটারেই। দৃশ্যসজ্জাও অনেক সময়েই প্রসেনিয়ম ষ্টেজেরই মতো। সংলাপের বহু অংশ এবং কয়েকটি চরিত্রের উপস্থাপনাও চলচ্চিত্র সম্মত নয়, যদিও যে-কোন নাটকে বেশ মানিয়ে যেত এদের। দুঃখের বিষয়, নায়ক রামু (সতীন্দ্র ভট্টাচার্য) কখনো-সখনো এবং সাগর (প্রতিনায়ক? অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনীত) প্রায় আগাগোড়াই এই দলে পড়ে।
যদিও আবার একই সঙ্গে চলচ্চিত্রানুগ চরিত্রও পেয়ে যাই কয়েকটি। বিশেষ কয়েকজনের অসাধারণ অভিনয়ই হয়তো এর কারণ। ভোলা যায় না রামুর মাকে। তাঁর মনের ভিতরে ক্ষুদ্রতাবোধ, অসহায়ভাবে দুর্ভাগ্যের হাতে আত্মসমর্পণ, অজস্র অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা, সুখের দিনগুলির স্মৃতি রোমন্থন, এইসব নিয়ে তিনি জীবন্ত হয়ে থাকেন। বিশেষ এই চরিত্রচিত্রণে প্রভাদেবী অসাধারণ। আর দুটি চরিত্র আমাদের মুগ্ধ করে-সীতা (শোভা সেন) এবং উমা (কেতকী দত্ত)।
চলচ্চিত্রগত মূল্য নিয়ে কয়েকটি মুহূর্তও গেঁথে যায় আমাদের মনে। ভারী সুন্দর সেই দৃশ্য যেখানে মা বলছেন তাঁর সুখের দিনগুলির কথা। দৃশ্যটির পরিকল্পনা অসাধারণ। ফাঁকা উঠোনের একদিকে উঁচু এক বারান্দায় খুঁটিতে হেলান দিয়ে বসে বলে চলেন রামুর মা-অনায়াস, অনাড়ম্বর অভিনয়ে বিষণ্ণ আবহাওয়া তৈরী করেন প্রভা দেবী। ভোলা যায় না রামুর বাবার মৃত্যুদৃশ্যটিও। ভাঙা গাড়ির কর্কশ আওয়াজ সেই ভয়াবহ পরিবেশকে ভয়াবহতর করে তোলে। আর একটি অনায়াস জীবনধারার ছবি-তিন ভাই বোনের ছেলেমানুষি হুলস্থুল। উত্যক্ত হয়ে সীতা ডাকে তাদের মাকে। রান্না ফেলে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসেন মা 'কী হয়েছে?' রামুর দুষ্টুমি মাখা উত্তর 'আমরা....বাঁদরামি করছি!' 'হ্যাঁ তাই করো। পাশাপশি আরেকটি জিনিস আমার চোখে পড়েছে। নেপোটিজম শব্দটির প্রয়োগ। যদিও শব্দটি বহুল প্রচলিত ও পুরোনো, তবুও সাম্প্রতিক সময়ে, মুম্বই ঘরানার সিনেমায় আবার যেন নতুন করে ফিরে এসেছে, নেপোটিজম এবং নেপোকিড শব্দদুটি। রামু প্রথমবার ইন্টারভিউ দেওয়ার পর প্রবল আত্মবিশ্বাসী ছিল চাকরিটা তার হয়েই যাবে। কিন্তু যখন শেষপর্যন্ত হলো না, তখন বোনের প্রশ্নের উত্তরে সে এই শব্দটি প্রয়োগ করে। কত আগে আমাদের জীবনে এই শব্দের ব্যাপক গুরুত্বের দিকটি তুলে ধরেছিলেন ঋত্বিক। আরেকটা দিক নাগরিক জীবনের , নজর এড়ায় না, সেটা হলো পাব্লিক ওয়ালে লেখা এখানে প্রস্বাব করিবেন না। আমরা আবাল্যকাল ধরে দেখে আসছি, চিরকালই খুব যত্নে দুষ্ট বালক বা ব্যক্তি এই " না" টাকে ক্রস (× ) দিয়ে কেটে দেয়। ঋত্বিকেরও চোখ এড়ায় নি এই ব্যাপারটা। ছোট ছোট ব্যাপার, কিন্তু সমকালীন সময়ে এই ঘটনাগুলো'যে অতীতের পদাঙ্ক অনুসারী, সেটাই যেন মনে হলো আবার।
সব মিলিয়ে পরিশেষে বলতেই হয়, স্বাভাবিক ভাবে কিছু কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলেও, সেই সময়ের প্রেক্ষিতে, ভবিষ্যতের অনন্য এক পরিচালক তাঁর নিজস্ব ভাবনায়, উপলব্ধিতে নিজস্ব মৌলিক গতিপথের স্বাক্ষর রেখেছিলেন তাঁর প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি , নাগরিকে। তাকে অস্বীকার করা হলে, ইতিহাসের গুরুত্বকেও অস্বীকার করতে হয়।






