Thursday, August 20, 2020

| বাংলাদেশ সংখ্যা | মানিক বৈরাগী |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












মানিক বৈরাগী 
হীরক পদ্ম

কুহকি পান করো প্রস্ফুটিত বেদনার যারক রস।নীলাভ স্রোতে বয়ে যায় কুহেলিয়া,সেই স্রোতের উউজ্জল পদ্মটি ছল ও ছলের জালে ভাসে আর জ্বলে।
রইলোনা তার স্বাধীন স্বকীয়তা রুপ ও রূপের রুশ্নাই তার কাল হলো।জাল ও জলে জ্বলতে জ্বলতে পিঙ্গল রুপটি তাকে আর জলে থাকথে দিলোনা।
একদিন চারদিকে বড় বড় রশির জাল ও লোহার খাচা ফেলা হলো অথৈ জলে। বিস্তির্ণ জলরাশি কে ভাগ ভাগ করে ঘেরা হলো। পদ্মটি পানকৌড়ির মতো ডুব দিলো অতলে।
একদিন কুহেলিয়ার মোহনায় মাছযন্ত্র নেমে এলো সমুদ্র তলে,ওরা তন্নতন্ন করে তীব্র টর্সের আলো ফেলে শামুক ঝিনুক কোরাল সবখানে খোড়াখুড়ি শুরু করলো।
সমুদ্র তলের বুকচিরে তোলা হলো  উজ্জ্বল পোড়া কলিজা। কলিজার আলোকরঞ্জন বেদনায় মানুষের কি বিভৎস উৎসব।

মানুষ বুঝলো না পদ্মরুশ্নির আলোয়, তারা সমুদ্র পারাপার করে


শুশুক

কয়েক যুগ পরে জলকন্যারা বাপের বাড়ি নাইয়র আইছে। সেই খুশিতে তারা কতো
নাচানাচি করলো আমাদের উঠোনে। আমার নাতিনাতনি কতরকম  জলকেলি করলো
কয়েকদিন।
আমি  সকালে বিকালে তাদের হাসিঠাট্টা জলকেলি মুগ্ধ নয়নে
প্রাণভরে তাদের সাথে কতো কথা মস্করা করেছি,তাদের কতোদিনের জমানো কথা
খইফোটার মতো করে বলছে আর শুনছি।
বিদায় বেলায় কতো কান্নাকাটি করলো। আমিও বাষ্পীভূত হয়ে বিদায় বলেছিলাম।
মন বারবার অজানা আশংকায় কেঁপে কেঁপে উঠতো। চালাক "নর-বানরে"রা গুহায়
ঢুকলেও, কামুক বর্বর নরেরা শিকারের তাড়নায় জাহাজ ভাসালো জলে।
প্রাণের কন্যা নাতিনাতনিরা শোনেনি বারন।
বাপের বাড়ির আদর সম্ভাষণে খুশির উৎফুল্লতায় জলকেলি করতে করতে
ঘুরপথে শ্বশুর বাড়ি ফেরার কালে নর কামুকের নজর এড়াতে পারলো।
সমুদ্র শিকারী নিষাদ জাল পেতে দলবেঁধে প্রথমে অবরুদ্ধ করলো।
কামুক হাতে তাদের চুলের মুটি ধরে টানতে টানতে তুলে নিল বোটে, তারপর চরে এনে
কামুক উল্লাসে ফেটে পড়লো দলবদ্ধ ভাবে।
আমার জলকন্যারা বাঁচাও বাঁচাও বলে আর্তচিৎকার করলো, বধির উম্মাদ জল-জালিক
শুনলো না।
তারা তাদের কাম চরিতার্থ করে কোপাতে কোপাতে হত্যা করলো।
আমার শুষক কন্যাদের আর্তনাদ কোন "নর-বানর "শোনেনি।
কেউ বাঁচতে এগিয়ে আসেনি। তোদের উপর নেমে আসুক লানৎ ইন্দ্র-বরুণের।
আমার শুষুক কন্যার জন্য পরাণ কাঁদে।

| বাংলাদেশ সংখ্যা | কামরুল বাহার আরিফ |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












কামরুল বাহার আরিফ
আমি কোনো শোকগাথা লিখিনা

আমি তোমাকে নিয়ে কোনো শোকগাথা লিখিনি
রক্তাক্ত বত্রিশ নাম্বারের সেই বাড়ির ভিতরের
সিঁড়ির প্রান্তে দাঁড়িয়ে রক্ত চিহ্ন দেখেছি।
আমি দেখেছি টুঙ্গিপাড়ায় নারকেল বৃক্ষের নিচে
তুমি অবহেলায় পড়েছিলে পিতার কবরের পাশে
তবুও তোমাকে নিয়ে কোনো শোকগাথা লিখিনি।

আমি অনেককে দেখেছি কাঁদতে কাঁদতে তোমার
কবরে বা শোকসভায় চোখের জল ফেলতে
শুনেছি, তোমার স্তুতিতে আবেগের নদী বানাতে,
তাদের হাতেই দেখেছি লুকানো লোভের তরবারি। 
ভিতরে ভিতরে যারা তোমার জয় বাংলাকে 
করেছে জিন্দাবাদের ভাগাড়, পাকি চিন্তার ভূমি,
দিনের চেনা মুখ রাতেই বদলে নিয়ে
কত সাবলীল সত্তায় নিজেকে মিলাচ্ছে তারা!

আমি কোনো শোকগাথা তোমাকে নিয়ে লিখিনি।
আমার চোখে কখনোই জল আসে না,
আমি তো বত্রিশের প্রতিটি ঘরে, সিঁড়িতে
তোমাকে হাস্যজ্জ্বল দেখি আমার মনো অনুভবে।
আমি তো টুঙ্গিপাড়ার সমাধির শ্রদ্ধাঞ্জলিতে দেখি,
বসে আছো ঋষিবেশে গভীর মগ্ন হয়ে।
মাঠের সবুজ আইলে হেঁটে যাচ্ছো দৃপ্তপায়ে
পাহাড় সমান উচ্চতায় কৃষককে বুকে নিয়ে
শ্রমিককে বুকে নিয়ে, সূর্যেকে ছুয়ে ছুঁয়ে
লোভের আঁধার পেরিয়ে তুমি হেঁটে যাচ্ছো
হিমালয় সম বুকে, ভালোবাসার অবাধ প্রান্তরে।

আমি তোমাকে কখনোই মৃত দেখি নাই
আমার হাতে কোনো লোভের তরবারি নাই
চোখে, বুকে কবেই এঁকে নিয়েছি তোমার
আজন্ম লালিত্য চেতনার পবিত্র অসাম্প্রদায়িক মুখটা
সে মুখ এক অমর অজেয় কবিতা
তাই শত দুঃখেও তোমার শোকগাথা লিখিনা
আমি তোমাকে নিয়ে কোনো শোকগাথা লিখিনি।


মরুভূমি জীবনেরও দায় আছে

মরুভূমির ক্যাকটাস ও তার জলের মোহনা
আমাকে বিস্মিত করে চিরকাল
এসব কথা ভাবতে ভাবতে আমার বয়স
যখন আড়াই কুড়ি পেরিয়ে তিন কুড়ি ছুঁই ছুঁই 
তখন জীবনটাই একটা খাঁ-খাঁ মরুভূমি যেনো
সেখানে অসংখ্য ক্যাকটাস আর বৃশ্চিকের বাস

আমার বুকের আবাসী এসব জীবনের দায় নিয়ে
আমি নিরন্তর খুঁজে চলি-- দুষ্প্রাপ্য জলের মোহনা

রাতের গভীর অন্ধকারে ক্যাকটাসেরা 
আমার কাছে জল চায়
বৃশ্চিকেরা আমার কাছে জীবন চায়
রাতের গর্ভে থাকে দিনের প্রসব যন্ত্রণা
আমি তাদের জল ও জীবনের জন্য
রাতের প্রসব যন্ত্রণার ঘাম নিংড়ে তাদের জীবনকে
আমার বুকে বাঁচিয়ে রাখি। 
তারা আমার বিষকষ্ট জীবনের প্রতিরূপে 
শুধু কাটা ও বিষের প্রজনন ছড়িয়ে দেয়।
রাতের ঘামের কাছে আমার যত ঋণ!

| বাংলাদেশ সংখ্যা | তুষার প্রসূন |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












তুষার প্রসূন
জামরুল ফুলের মধু

সবুজ পাতার ফাঁকে বসে আছে মিনারেল মেঘ। মেঘের ঘামে ভিজতে থাকা পিঁপড়ে
আর কাঠবিড়ালীরা কাকে যেন ভিজতে ইশারা দিয়ে চলে যায়। অতর্কিতে ঝড় এসে 
আমাকে ঠেলে দেয় ঘরে আর বাইরে ঝড়ে পড়ে জাম, জলপাই ও জামরুল বিছানো 
বিকেলবেলা। শেষ বিকেলের রোদ আমাকে লোভ দেখিয়ে ধানখেতের উপর দিয়ে 
চলে যায়। যখন বাইরে আসি, কাছে টানতে চাই দূরের রোদেলাকে। সে আমার 
রিংটোন শুনে সাইলেন্ট জোনে রেখে দেয়। আমার ক্লান্ত বিছানা ঘুমিয়ে পড়ে। তার
বালিশের তলায় প্রত্যাশিত শব্দসঙ্কেত আধমরা হয়ে পড়ে থাকে। আমি বিসদৃশ।
আলপথের পাশ কেটে চলে যাই শরীরে কুয়াশা জড়াতে। অতৃপ্তি লম্বা হয়ে শুয়ে 
থাকে দূরের অন্তিমে।

এভাবেই আকাশ আর মাটির মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে হয়ে ‍উঠি স্বপ্নডানার পাখি।
জামরুল ফুলের মধু খেতে  এসে লাল পিঁপড়েদের কবলে পড়েছি।


শিশির রঙের ঘাম

একমাত্র আকাশের দিকে অর্থাৎ তোমার দিকে মুখ করে অনেককিছু লেখা যায় সুতরাং 
ঘর থেকে ছড়িয়ে পড়েছি। এড়িয়ে চলছি শহরের বড়ো বড়ো মানুষগুলো যারা আকাশ
ছোঁয়ার জন্য বাকি মানুষগুলোকে বনশাই করেছে। মাঝে মাঝে গদ্য মিশিয়ে পদ্য 
লিখছি কেননা বাংলাদেশের কবিতার গায়ে এখন লাবণ্য ধরেছে। মিনমিনে কবিগুলো
ফুঁসে উঠতে পারছে না। কবিতার মাধ্যমে একজন ঘুষখোরকেও শুয়োরের বাচ্চা বলা 
যাচ্ছে না। অসৎ ব্যাবসায়ীদেরকে বলা যাচ্ছে না যে তারাও দেহব্যাবসায়ীদের চেয়ে
নিম্নমানের। সারাক্ষণ আকাশের দিকে তাঁকিয়ে তোমাকে হাজার নালিশ করছি কিন্তু 
ধর্মবণিকদের পাছায় লাথি মারার জন্যও তো কিছু লেখা দরকার।

গুলিস্তানের পাশ দিয়েই চলে যাচ্ছে সফল পাখি ও নারী বিক্রেতা। অথচ ভোরবেলার 
ডাস্টবিনে পাওয়া যাচ্ছে অবিক্রিত যত উপচে পড়া ফুল ও মালির দু:খ কষ্ট আর শিশির 
রঙের ঘাম।

| বাংলাদেশ সংখ্যা | মনজুর কাদের |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












মনজুর কাদের
অনেস্টি ইজ দ্য বেস্ট পলিসি

০১.

 তুমিও এখন পাল্টে ফেলো পোশাকের ধরণ- নির্দিষ্ট কোনো পোশাক অথবা পোশাকের চরিত্রে নিজেকে আটকাতে পারো না সহজে- তাই আদর্শের ধারাপাত পাঠে আশৈশব যে মন কেটেছে সবুজ অরণ্যে- পথের বাঁকেই হারিয়েছো পথের অতীত

পাপ ও পুণ্যের প্রতিটি প্রহর জড়ানো মোহের ঘ্রাণে স্নিগ্ধ হয় নিজস্ব ধ্বনির মায়া- তথাপি আমরা বহুবাচনের উৎসবে প্রেরণার উষ্ণতায় দীপ্তি খুঁজি- পথের মায়ায় কিংবা নৈঃশব্দ্যের রেখায়- অথচ সমগ্র রেখা জুড়ে আলোর রেখায় লুকায়িত অন্ধকারে নিরন্তর পোড়াদহের উত্তাপে তুমিও পীড়িত হয়ে কাঁদো- পোশাকের আড়ালে

প্রত্যয়ের সমস্ত প্রত্যাশা দুঃখের পাজরে খেলা করে- ব্যর্থতার অবয়বে একাধিক অন্ধত্বও জড়ো হয়- কিন্তু অবলীলায় পাল্টানো পোশাকের রুদ্রে হাঁটো দীর্ঘতর ছায়ার সঙ্গমে


০২.

পথের ক্লান্তিকে মুঠো ভরে হেঁটে এসেছো এতোটা পথ- প্রতারিত অশ্রুর দহনে সজল ব্যথিত হও অতিক্রান্ত পথের প্রতারণায়দৃষ্টির ভেতর জমা থাকে দৃশ্য- দৃশ্যের বাস্তবতায় বেঁচে থাকা কেবল রহস্যময়- আর তাই প্রতারণার নিস্তব্ধতায় কাঁদো পরাভব মেনে- অভিযোগহীন বিষাদের প্রাণে

রহস্যের সকল সারাংশ আমরা রচনা করি- আলোর উত্তাপে, অনন্ত আশ্রয়ে- তবুও আমরা নিরাশ্রয়ী হতে থাকি পাহাড়ের চূড়ায়- নির্বাক অন্ধকারে লুকানো মুখ ও অপরূপ মুখোশের পার্থক্য বুঝি না- আর তাই মিথ্যাচারের সমস্ত গ্লানির অস্থিরতায় নিঃস্ব হই

বিবর্ণ বিশ্বাসে প্রতিভার তারুণ্যেও ধূলিকণা জমে- মোহের মায়ায়- জয়ের উল্লাস মানে তখনো রাতের প্রণয়, সকল সম্ভাবনার অন্ধ আবেগে আয়ুর আত্মক্ষয়- অথচ দুরন্ত বাতাস জানে-

চাটুকারিতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা পতনের অমোঘ কাহিনি।

| বাংলাদেশ সংখ্যা | পলিয়ার ওয়াহিদ |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||













পলিয়ার ওয়াহিদ 
অসামান্য কুসংস্কার

আমাদের দেখা হয় না, অনেক কাল
হলুদ পাতাবাহার সেই সাক্ষী দেয়
শ্যাওলাধরা দালান একাকী দাঁড়িয়ে থাকে
রঙিন জানালার পর্দা বাতাসে দোল খায়
মায়াবি কোনো ফুলেল পাপড়ির চিবুকে
নুয়ে পড়া ভাদ্রের পাতলা ঋতুর ছায়া
স্মৃতির আদ্র আদরে খুলে পড়ে
অতীতের আকাশি সামিয়ানা
আমাদের উড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত
কোথাও লুকিয়ে রাখে তারা
অথচ আমাদের যোগাযোগ শুধু মনে
ক্ষণে ক্ষণে চোখ কেঁপে উঠলে
কিংবা ব্যস্ত খাবারের স্বাদ গ্রহণকালে
ঠোঁটে যখন কামড় দেয় দাঁত
তখন আমাদের ভালোবাসা বেঁচে থাকে
শুধু অসামান্য কুসংস্কারে!


স্বপ্ন

কোথাও একটা কাঠঠোকরা ডেকে উঠলো বুঝি
ভালোবাসার বাড়িতে আজ কুটুম আসবে নাকি?