নিঃসঙ্গ ছায়ানটের শতবর্ষ [ পর্ব: ৪]
ইতিহাসের হাত ধরে
.............................. ...
একজন সাতাশ বছরের যুবক প্রথম যে পূর্ণ দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন, তার নাম নাগরিক। সাল ১৯৫২। ঠিক সাতাশ বছর আগে, ১৯২৫ সালের ৪ ঠা নভেম্বর ঋত্বিকের জন্ম, বাংলাদেশের রাজশাহী শহরের মিঞা পাড়ায়। এ বছরেই ২৭ বছর বয়সে সের্গেই আইজেনস্টাইন নির্মাণ করছেন ১৯০৫ সালে রাশিয়ান যুদ্ধজাহাজ পোটেমকিনের ক্রুরাতাদের অফিসারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সময় সংঘটিত বিদ্রোহের একটি নাটকীয় চিত্রায়ণ। যে ধ্রুপদী ছবিটি ঋত্বিকের সমবয়সী। তাই হয়তো ওডেসা সিঁড়ির বৃত্তান্তের মতোই তাঁরও জীবনবৃত্তান্তে রক্ত ও স্বপ্ন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।
১৯৫২ সালে গোটা বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়,কিকুয়ু উপজাতির নেতা জোমো কেনিয়াট্টা কেনিয়া থেকে শ্বেতাঙ্গ বিতাড়নের জন্য মাউ মাউদের সংগঠিত করলে ব্রিটেন মাউ মাউ দমনের জন্য সৈন্য পাঠায়। আর্নেস্ট হেমিংওয়ে: দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সী রচনা করেন এই বছরেই। পূর্ব পাকিস্তানে উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলে প্রবল বিক্ষোভ শুরু হয়। বাঙালি জীবনে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ছিল ভাষা আন্দোলন। এই আন্দোলনের মূল কারণ ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদ। ২১শে ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়, যার ফলে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার এবং শফিউরসহ কয়েকজন শহীদ হন। এই ঘটনাটি বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করে।
পাশাপশি বাংলা চলচ্চিত্রের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, এই বছরেই " বসু পরিবার" সিনেমার হাত ধরে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন সুপ্রিয়া দেবী। যিনি ঠিক আট বছর পর, ঋত্বিকের প্রিয় ও প্রধান নারী চরিত্র, নীতা হয়ে, মেঘে ঢাকা তারার মতো কাল্ট ফিল্মের মাধ্যমে নিজের অভিনয় প্রতিভাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই প্রেক্ষাপটের হাত ধরেই চলে আসি, ঋত্বিকের প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র, নাগরিকে।


1 comment:
অসাধারণ একটি গদ্য পড়ছি
Post a Comment