Wednesday, August 12, 2020

| অণুুগল্প | চন্দ্রদীপা সেনশর্মা |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || 
|| ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...|| || দ্বিতীয় বর্ষ ||












চন্দ্রদীপা সেনশর্মা
কেসি 

মেয়ে জানালো কেসি ফিরেছে।

বড়ো উৎকন্ঠায় দু'মাস কাটল। হারিয়ে গিয়েছিল।
ওহ বলা হয়নি কেসি একটি মেনিবিড়াল,
হাইডেলবার্গে কয়েকমাস আমার মেয়ের
অবসরসঙ্গী। যদিও সে এক আলবেনিয়ান মেয়ের
পোষ্য। কিন্তু আমার মেয়েকে সে ভালোবেসেছে
ঢের। মেয়ের গায়ে, তার টেডিদের গায়ে কেসি কম
হুটোপুটি করেনি। তার মালকিন পড়ার সুবাদে
অন্য জায়গায় গেছে, সেখানে 'পেট ইজ নট
অ্যালাউড'! এ কী আমাদের দেশ, সব ককটেল,
মানুষ পশুপাখি। 'অতিথি দেবো ভবঃ'।

এদেশে অতিথির হাতেই রাজত্ব! তারা ছাঁকনি
চালনি দিয়ে অন্য অতিথি খুঁজে তাড়াতে ব্যস্ত।
মানুষের অবস্থা বেশ অসুবিধের, বিড়ালের? দূর
হচ্ছে জর্মানির কথা, কেসির কথা, বিদেশিনীর
জর্মান পোষ্য। এর মধ্যে আমাদের দেশ কোথা
থেকে এল? মালকিন ফিরে আসার আগেই আমার
কন্যাকে আখেন ফিরতে হল। ইন্টার্নশিপ শেষ,
আখেন সুডেন্ট ডর্ম, পোষ্য নৈব নৈব চ। ইহাও সত্য
না বলিয়া অন্যের সম্পত্তি নিজের ভাবিতে নাই।
আমি বললাম : কেসির কী হবে? কে দেখবে? মেয়ে
জানালো ওর ঘরে নতুন একটি ছেলে এসেছে,
তাকে মেয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে কেসির দায়িত্ব।
সামান্য ক'দিন আলবেনিয়ান ফিরছে। বললাম :  ছেলে? কেন জানি না ভিন দেশের যুবক অন্যের
বিড়াল দেখবে ঠিক বিশ্বাস হচ্ছিল না, যদিও মেনি। মেয়ে বুঝে ধমক দিল।

মাত্র সপ্তাহখানেক, মেয়ে আখেন, আলবেনিয়ান
ফিরেছে। ছেলেটি কেসিকে যত্নে রেখেছিল। কিন্তু
ওই মেয়েটির ভিসা রিনিউ হল না। বাধ্য হয়ে
মেয়েটি জর্মানিতে ওর মাসির বাড়িতে কেসিকে
রেখে আলবেনিয়া ফিরে গেল। মাসির বাড়ি 
থেকেই একদিন কেসি হারিয়ে গেল। কান্নাকাটি
আখেন, হাইডেলবার্গ, আলবেনিয়া এমনকি
কলকাতায়। বিড়াল বাড়ি ছাড়ে মৃত্যু কাছাকাছি
এলে। কেসি তো বাচ্চা, সবে দুই, তবে কি গাড়ির
তলায় বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা? দুশ্চিন্তা সবার,
ওর নরম শরীর যারা ছুঁয়েছে বা ছোঁয়নি, চোখের
মায়া, ডোরাকাটা রেশমের মতো লোম। মেয়েটি
আলবেনিয়া থেকে ফিরল ভিসা নিয়ে, খোঁজ
খোঁজ। না, কেসিকে কোথাও পাওয়া গেল না।
মেনিবিড়ালটি কাউকে না জানিয়ে হারিয়ে গেল।

ঠিক একইভাবে দুমাস বাদে ফিরেও এল। না, ওকে
কেউ প্রশ্ন করেনি, কোথায় গিয়েছিল। প্রশ্ন করতে
নেই (একদিন প্রতিদিন/মৃণাল সেন), একদিন বা
দু'মাস, মেনি বলে ওর কি স্বাধীনতা নেই? কেসি
একটি মেনিবিড়াল, 'তারে আমি ছুুঁয়ে  দেখিনি 
তার অনেক গল্প শুনেছি...' আনন্দে গেয়ে উঠি।

| অণুুগল্প | হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || 
|| ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...|| || দ্বিতীয় বর্ষ ||












হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
দুই জানলার ধারাবাহিক গল্প


আজ নিয়ে পরপর পাঁচদিন আমি উত্তরদিকের জানলাটা খুললাম। দিনে বেশ কয়েকবার। সংখ্যাটা ঠিক মনে নেই। তবে এটা মনে আছে পঞ্চম দিনে আমি প্রথম দিনের সংখ্যাটা শুরুর মুখেই খুব দ্রুত পেরিয়ে এসেছি। 

জানলা খোলার কারণ একটাই ----- আমার জানলার ঠিক বিপরীতে খুলে যেত আরও একটি জানলা। আর দেখা যেত দুটো চোখ। কোনো কোনো দিন দেখতাম আমি খোলার আগেই সে খুলে রেখেছে। এটা দেখেই আমার আগ্রহটা আরও বেড়ে যায়। 

কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার আমি জানলা খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই জানলাটা বন্ধ হয়ে যেত। এই ঘটনা আমাকে খুব বেশি দূরে নিয়ে যেতে পারত না যদি না আমি দেখতাম আমার জানলা খোলার পরেই সেই জানলাটা খুলে যাচ্ছে এবং এর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। 

আমার মনে হতো মানুষটা কথা বলে কম। ভাবে অনেক বেশি। শুধু তাই নয় নিজের ভাবনার ওপর তার যথেষ্ট জোর আছে। তাই আগে থেকে জানলা খুলে সে নিজের মতো করে ঘুঁটি সাজাত। আমি জানলা খোলার পর তার সেই সজ্জায় হয়তো ব্যাঘাত ঘটতো। অথবা এমন ভাবনাও অমূলক নয় আমি তার কল্পনার এত দূর দিয়ে যেতাম যে, সে তার প্রথম জানলা খোলার সিদ্ধান্তে বিশ্বাস হারিয়ে নিজেকে অভিসম্পাত করত আর আওয়াজ করে জানলা বন্ধ করে দিতো। 

যখন সে আমার পরে জানলা খুলতো তখন জানলাটা একটু বেশি সময়ের জন্যে খোলা থাকতো। আর এটাই আমাকে বারবার জানলার কাছে ফিরিয়ে নিয়ে আসতো। মনে হতো গত রাতের না মেলা অঙ্কগুলো জানলার বাইরে দু'হাত দিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছে আর তারপর চালাচ্ছে তার ওপর কাটাছেঁড়া। কারণ চোখ দুটো জানলার গরাদের খুব কাছে সরে আসতো। কখনও চোখে খেলে যেত খুশির ঝিলিক। সেটা যত না আমাকে দেখে তার থেকে অনেক বেশি পরিমাণে কাটাছেঁড়ার সাফল্য নিয়ে। 

আমার কখনও মনে হয় নি জানলা খোলা অর্থহীন অথবা রাস্তা পেরিয়ে চোখের কেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়া খুব জরুরি। কারণ মানুষটার মতো ভাবুক আগামী পৃথিবীতে খুব জরুরী এটা ভেবে নিয়ে বারবার জানলার কাছে ফিরে ফিরে আসি। 

| অণুুগল্প | সুধাংশুরঞ্জন সাহা |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || 
|| ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...|| || দ্বিতীয় বর্ষ ||












সুধাংশুরঞ্জন সাহা
টান


ঠিক চল্লিশ বছর পর অমৃতা তার জন্মভিটেয় পা রাখলো । কিন্তু গ্রামের সবকিছুই অচেনা লাগছে তার । গ্রামটার গায়ে শহরের হাওয়া লেগেছে । বড় বড় আবাসন, শপিংমল, ঝকঝকে চার লেনের পাকা রাস্তা, কী নেই ! হারিয়ে গেছে তার প্রিয় কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়ার গাছ । আম, কাঁঠাল, চালতা, কামরাঙা, তেঁতুল গাছ । সবই  চার লেনের  রাস্তার পেটে ঢুকে গেছে । হারিয়ে গেছে মাটির ঘর, টিনের চাল । ইট-বালি-সিমেন্টের বাড়বাড়ন্ত নির্বিচারে গ্রাস করেছে গ্রামের সবুজ । 

একমাত্র প্রিয় বাওড়টা এখনও তিরতির করে বয়ে চলেছে একাকী । বুকে তার শ্যাওলা আর কচুরিপানা। অযত্নের ছাপ সারা শরীরে ।
বর্ষার সময় তার যৌবন ফিরে আসে। বাকি সময় এমনই দারিদ্রের ছাপ ।

একমাত্র বাজারের চেহারাটাও বদলে গেছে বেশ।  দু'একটি বাদে সবই প্রায় সিমেন্টের পাকা ঘর । শুধু প্রাচীন আমলকী গাছটা এখনও গ্রামের একমাত্র ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।
অমৃতার বাবা বিরাশি বছরের কবিরাজ অতীন মজুমদার  আজ বিছানাবন্দী। দশ বছর আগে , ঘুমের মধ্যেই, স্ত্রী সুধা চলে গেছে । কোন সুযোগই  দেয়নি। চল্লিশ বছর আগে অমৃতার বিয়ে হয়ে চলে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া । স্বামী, ছেলে, মেয়ে নিয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত সেখানে । একবারও এদেশে আসার ফুরসৎ মেলেনি । একমাত্র দাদাও স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে নিউইয়র্কে ওদেশের মেয়ে বিয়ে করে ওখানেই সংসার পেতেছে । তার আর সময় কোথায়, বাবাকে দেখতে আসার ! বাবাকে অনেক বার বলেছে নিউইয়র্ক চলে আসতে । কিন্তু বাবা কিছুতেই রাজি হননি ,জন্মভিটে ছেড়ে যেতে । দেশ ভাগ হওয়ার পরও আত্মীয়স্বজনেরা বহুবার বলেছে পূর্বপাকিস্তানের এই অজগ্রাম মুকসেদপুর ছেড়ে কলকাতা পাড়ি দিতে । কবিরাজবাবু কারো কথায় কান দেননি, শুধু এই ভিটের টানে। জন্মভূমির টানেই । অন্য কোন কারণে নয় ।আজ তার বিছানা থেকে ওঠার ক্ষমতা নেই । আয়া, নার্স ছাড়া । এতোদিন পর মেয়েকে পেয়ে খু্বই আবেগপ্রবণ কবিরাজবাবু । তার শীর্ণ হাত রেখেছেন মেয়ের মাথায়, কপালে,গালে আর চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে নামছে অকাতরে ।
চল্লিশ বছরের জমানো কান্না.....।

| অণুুগল্প | অরণ্যা সরকার |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || 
|| ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...|| || দ্বিতীয় বর্ষ ||












অরণ্যা সরকার

চাকা ও সিঁড়ির গল্প 

এক যে ছিলর দেশে ছিল এক পোস্ট অফিস। বারান্দায় ঝুলে থাকতো একটা লাল ডাকবাক্সএকা। একদিন,  ই-মেল আর হোয়াটসঅ্যাপের জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এল এক রাজকন্যে। তার সারা গায়ে রঙিন ট্যাটুর  অলংকার।  কেউ কেউ অবশ্য কালশিটে বলে ভুল করতো। তারপর  খুব আলো করে যখন জীবন নেমে আসতো  তখন তাদের বুকের ভেতর থেকে লম্বা বাতাস বেরিয়ে এসে বলতো ,’না না এ বিভ্রম

রাজকন্যা ডাকবাক্সকে বলল, ‘কালের ঝুলি, আমি অক্ষরমালা। আমাকে নেবে ? আমারও বুকের ভেতরে স্মৃতির খসখস।’ চারদিকে তখন কুয়াশা রঙের স্তব্ধতা। লাল ডাকবাক্স তার মরচেপড়া শরীরের জন্য বড়  লজ্জা  পেল। বলল ‘জখম গুনে গুনে শুধু  সংখ্যায় ডুবে আছি। তুমি কি কথার আকাশ নিয়ে এলে ?’
‘আমার তো আর আকাশ নেই কালের ঝুলি। চর্যাপদের টিলা পেরিয়ে, পদাবলীর যমুনা সাঁতরে, শহীদদের রক্তঋণ বুকে নিয়ে  বেশ দানা বাঁধছিলাম। এই বালি বালি সময় আমাকে খুলে ফেলছে আমার থেকেআমার ভেতর বিঁধে আছে আমারই কাঁটা। ভানে ক্লান্ত, মিথ্যেয় নতমুখ আমি এবার  খুলে ফেলতে চাই ভিনদেশি  রত্নবসানো জামা’  
তারপর কালের ঝুলির বুকের ভেতর রাজকন্যা অক্ষরমালা খুলে ফেললোপোশাক পরে নিলো নীল খামের শিফনকড়ারামধনুরঅনুশাসনথেকেপালিয়েআসাকিছুরঙেরইচ্ছেলুকিয়েপড়লোওদেরদুখজাগানিয়াগানেরতরঙ্গেঅক্ষরমালাগাইতে লাগলো ‘একি  লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ...’ । 

চাকা ঘুরছিল বনবনবলিষ্ঠ হচ্ছিল মেধাএকদিন পোস্টঅফিস নতুন বিল্ডিং পেল। মহলজোড়া মানুষ পেল বোতামটেপা আরাম পেলো পেনশনের লাইন থেকে কত জীবনের গল্প পাক খায় নতুন দেয়ালের ভেতর। দেয়ালের কানে শ্রুতির ঝুমকো  ঝকমকিয়ে ওঠে।  নতুনের হৈ হৈ জমে বাতাসের  ড্রয়ারে।  লালবাক্স পড়ে রইল এক যুবক কদমগাছের তলায়। শুকনো পাতা আর বাতিল কাগজের মধ্যে শুয়ে  শুয়ে ওরা দেখল ওদের চারপাশে ভিড় করে আসছে খাম, পোস্টকার্ডদের আত্মারা।  মেঘ ঘনাল ভীষণ। ভেজা কদমের রেণু মেখে ঝুপ ঝুপ পড়তে লাগলো ‘শ্রীচরণেষু’, ‘কল্যাণীয়েষু’ ‘ প্রিয়তম,’  প্রিয়তমা’রা...। 

| অণুুগল্প | রাখী সরদার |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || 
|| ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...|| || দ্বিতীয় বর্ষ ||












রাখী সরদার
মহাজ্ঞানের খোঁজে

সদানন্দ ভোরভোর হেঁটে চলেছে সাধিকা আত্রেয়ীর আশ্রমে।এই কদিন আগে নানা জায়গা ঘুরেএই সমুদ্র তীরে এসেছে। এখানেই তাঁর কথা শুনেছে।
তিনি নাকি সিদ্ধা নারী,সব জানেন।তাঁর কাছেই সেই পরম সত্যের কথা সে জানবে।যার খোঁজে সে এতদিন ঘুরছে। আশ্রমে যেতে যেতে কত কী মনে পড়ছে তার।মিঠেখালির নদীর নির্জন পারে ভণ্ড সাধু সেজে সে একসময় অনেক মানুষ কে ঠকিয়েছিল, কিন্তু ছোট্ট চন্দরাকে ঠকাতে পারেনি।যে তার মৃত মায়ের সাথে দেখা করানোর কথা বলেছিল--

"ঠাকুর তুমি  সব পারো। আমার  মায়ের সাথে দেখা করিয়ে দাও।"

"চন্দরা কেউ পারেনা।সব মিথ্যে বলি রে।"

"তুমি মিছে কথা বলো!তবে যে সবাই বলে তুমি মহাজ্ঞানী।"চন্দরা কাঁদতে কাঁদতে  ছুটে চলে গিয়েছিল।

সেদিন‌ই ওখান থেকে চলে এসেছিলাম।এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে আশ্রমে এসে গেছিলাম জানিনা।এমন সময় শুনতে পাই --

"কীরে মেয়েটির জন্য কষ্ট হচ্ছে?"

অবাক হয়ে দেখিএকজন শ্বেতবস্ত্র পরিহিতা রমণী তাকে দেখে মৃদু হাসছে।এই সেই আত্রেয়ী মা!কিন্তু ইনি কিভাবে জানল!

"সব জানিরে।যা  ওই সমুদ্রে ডুব দিয়ে আয় সব
বলব।"

সমুদ্রে আস্তে আস্তে নামি।এক বিরাট  ঢেউ  আমাকে টেনে নিয়ে চললো কোন অতলে। পিছনে কে ডাকছে না ...

"ঠাকুর ,ও ঠাকুর..."

পিছন ফিরে দেখি চন্দরা  ! একটা শুভ্র পাথরে এক আধা ঘোমটা নারী বসে,আর তার আঁচল আঙুলে জড়িয়ে  চন্দরা নীলাভ দেহে রঙিন মাছেদের সাথে জলে খেলা করছে।"

আমার দেহ ভারী হয়ে আসে এমন দৃশ্যে, বাতাসহীন
শরীর আর‌ও তলিয়ে যেতে থাকে।হঠাৎ চন্দরা তার কচি হাতে আমার আঙুল স্পর্শ করে বলে ওঠে --

"ঠাকুর কোথা যাও!দ্যাখো এই আমার মা। ঠিক
খুঁজে পেয়েছি।"

"এ আমি কী দেখছি!  ঈশ্বর এমন ও ঘটে !"

"তুই ঠিকই দেখছিস।"

"তুমিও এখানে আত্রেয়ী মা!"

"হ্যাঁ রে আমিও।সবাই কে এই অনন্ত নীলে আসতে হবে।"

আঃ,বেশ হাল্কা লাগছে।চোখ খুলে দেখি  বালির উপরে শুয়ে।সেই সাধিকা পরম স্নেহে মাথায় হাত
বুলাতে বুলাতে বলছেন --

"কীরে মহাজ্ঞানের সন্ধান পেলি!"

কথা বলার শক্তি নেই।মাথা নেড়ে সম্মতি জানাই।