Thursday, August 20, 2020

| বাংলাদেশ সংখ্যা | চঞ্চল নাঈম |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












চঞ্চল নাঈম
মৃত্যু

যেন নিভৃতে মৃত্যুর কাছাকাছি থাকি
আমার নিথর দেহ থেকে মৃত্যু সুঘ্রাণ ছড়ায়
তখন শুধুই বিছানার এক কোনে জড়োসড়ো
মৃতের দেহের বেশে ছটাং পরে থাকি
চিন্তার সুড়ঙ্গ চারপাশে কোন কান্নার কঙ্কালে রোল নেই, রেখা নেই
কোন শব্দ নেই
অসংখ্য আয়োজন, নিঃশব্দ ইঙ্গিত


! 
আমাকে নিবিড় অনুভব ক’রে যাও
সহজেই দেখবে আমার সমূহ সরল যেন
সেইদিন বেদনা আহত
রক্তগুলি অস্তরাগে কিছুটা নিঃশ্চুপ
তারপর যেকোন রূপেও ভেসে যাবে
প্রণয়ের বুদবুদ চিরকাল রক্ত চুষে খাবে
তুমি কী বোঝনা ওগো তা? কেন এ আর্তনাদ
কেনবা সুহৃদ লিপি লিখে যাবো একা?

!! 

খুব জরুরি তথ্যটি, অনেক কথনে কখনো প্রকাশ হয় না, প্রবল আহত, নিঃশব্দ শুধু
আঘাতে ক্ষুধার্ত
তবু তুমি জেনে রেখো, এ ব্যথা অনন্ত
বেদনার উল্কাপথে রক্তের ক্ষরণ

!!! 

কিছু অনুরতি চিরকাল ঝরে যাবে
কিছু অনুভূতি কাঁধে নিয়ে ঘুরবো নীরবে
তার সাথে অধিক মিলিত হবে ব্যথাতুর স্মৃতি
তখন সমস্ত জেনে যাবে
বুকের প্রহরী
তারপর কিছু আর কখনোই বলবো না, শুধু
অগনিত দিনরাত চুপচাপ থেকে
ভূমণ্ডলে মিশে যাবো একা।

| বাংলাদেশ সংখ্যা | জ্যোতি পোদ্দার |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












জ্যোতি পোদ্দার 
শিরোনামহীন দুটি কবিতা


কী আচানক! কী আচানক!
আমাদের ডানাগুলো লাল সবুজ খয়েরি।
আমাদের ডানাগুলো ঘাস আর হাসি দিয়ে
                                      সেলাই করা পতাকা।

আমাদের ডানাগুলো অনর্গল হাসছে আর হাসছে
আর হাসতে হাসতে উলম্ব রেখার শরীরে
আছড়ে পরছে চিনিগুড়া চালের মতো কথার কথকতা।

হেই হেই হাঁস ও হাসি আজ আমাদের স্বাধীনতা দিবস
আমাদের সকল রোদ ও রোদের ভেতর কাজ করা
মিহিদানা আলোর ঝালর তুলে দেবো প্রজাপতির
কম্পিত ডানায়

হেই হেই হাঁস ও হাসি
তোমরাই মূলত আমাদের ডানা
লাল সবুজ খয়েরি ডানা।



জানো তো ডানা ছাড়া আমি হাটতে পারি না।
পুচ্ছ দিয়ে আকাশের পথে হাটতে হাটতে
তোমার বাড়ির রাস্তা চিনি
হোল্ডিং নম্বার খুঁজে খু্ঁজে বুঝি এবার নামার সময় হলো
                                                                      এ তোমার উঠান

প্রত্যেক হাটুরের যে একজোড়া ডানা থাকে সেটি সকলের জানা 
থাকলেও ভাসুরের নাম মুখে আনতে নেইয়ের মতো বলে না।

ডানা ছাড়া আমার পা মাতালের পায়ের মতো এলোমেলো।
পা ছাড়া ডানা আমার মুচড়ে দেয়া ডানার মতো
ওড়ওড়ি করি তবু উড়ি না।
হাটি তবু কোন কলিং বেল খুঁজে পাই না।

পাখিমানব জন্ম আমার উড়তে উড়তে হাঁটি
আর হাঁটতে হাঁটতে উড়ি।

| বাংলাদেশ সংখ্যা | আফলাতুন নাহার শিলু |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












আফলাতুন নাহার শিলু
কোন এক মেয়েকে

মেয়েটি তার প্রিয় ছিল, আপন ছিল
প্লাবিত জোয়ারে ঝড় তুলে
সোনালি চোখের অগ্নিশিখায়
নিয়তির নভতলে মগ্ন ছিল।

বরফ বৃষ্টি, তুষারপাত 
শিশির-ভেজা চুল তার
মাথার রুমাল থেকে পানি নেমে
চোখের পলক, শ্বাসপ্রশ্বাস ভিজে গেল।।

নারী-প্রতিমা, মোমের বাতি
ফোঁটা ফোঁটা অশ্রুরাশি
আকাশ ভরা জীবন্ত তারা
আঁধারে সব ঝরে গেল।।।

আলোর পানে ছুটছে কীট
জানালার পাশে ঝিঁঝিঁ পোকা
ক্যাকটাস আর কাঁটাগাছের ভীড়ে
মেয়েটি স্বপ্নদর্শী হয়েছিল।।

কাজ নিয়ে, তৃষ্ণা নিয়ে,
জল-জমে যাওয়া দ্বীপ নিয়ে
ভেঙে ভেঙে পড়তে থাকা পাহাড় নিয়ে
ধুলোর ভিতর নগ্ন পায়ে হাঁটছিল।।

মেয়েটি তার প্রিয় ছিল, আপন ছিল।

রসনাবিলাস

মাশরুমের সঙ্গে মাখো মাখো প্রেম
মেকওভারের সামান্য ম্যাজিক টাচ্
চিজের মহিমায় সামান্য রান্না এখন শো-স্টপার
এভোকাডোর প্রলেপে পাউরুটির সুঠাম চিজ-টোষ্ট
সহ-অভিনেতার মণ্চে আগমন
পেশাদারি মুনশিয়ানা চেহারা
ক্যালরি ভুলে কবজি ডুবিয়ে ভূড়িভোজন
চিন্তা কী?
রেসিপির জন্য আমরা ত আছিই!
লো থেকে মিডিয়াম
রান্নায় তাপমাত্রার সেটিং
বাতাসে হিমেল হাওয়া বইছে
ভেসে আসা কেক-কুকিজের সুঘ্রাণে মগ্নতা
কেক-বিলাসে শামিল হয়ে পিছনের সারিতে ভালবাসার ধোঁয়া
মিক্সড হার্বস আর চিলি ফ্লেক্স ছড়িয়ে 
চারগ্রিলড্ চিকেনের স্বাদ নেওয়া
সন্ধ্যের আসরে পাকোড়া, শ্রিম্প ককটেল
গরম, প্যাঁচপ্যাচে আবহাওয়া নিয়ে নালিশের দিন শেষ
মন ভালো করা রেসিপি ফিশ অসো বুকো নিয়ে রসনাবিলাস।।

| বাংলাদেশ সংখ্যা | কুশল ভৌমিক |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












কুশল ভৌমিক
কই যামু

কই যামু? নিজেরে ছাড়া
যাওনের জায়গা কই?
আয়নার সামনে দাঁড়াই
নিজেরে ছাড়া দেহি না কিছুই।
পড়বার বইয়া মাইয়াডা আমারে ভেঙচায়
মনে অয় কইন্যা না, নিজেই নিজেরে ভেঙচাই।
পোলাডা আকুবাকু করে
কান্ধে লইয়া বারান্দায় যাই
মনে অয় নিজের কান্ধে নিজেই চইড়া বইছি।
মা বাপ দুইজনেই মইরা গেছে
দেয়ালে ছবি টাঙানো, গ্যান্দাফুলের মালা ঝুলে
মনে অয় নিজেই মইরা ঝুইলা রইছি।
কই যামু?যাওনের জায়গা কই?
রাইতে বউরে জড়াইয়া ধরি
মনে অয় নিজেই নিজেরে জড়াইয়া আছি
নিজের লগে নিজেরই সঙ্গম
বিহানে মন্দিরে যাই
নিজের ভিতরে ঈশ্বর
আর ঈশ্বরের ভিতরে নিজেরে দেহি।
কই যামু?
যাওনের জায়গা কই?
যাওনের তো জায়গা নাই
নিজের ভেতর যাওয়া
নিজের ভেতর নিজেই আদম
নিজেই বিবি হাওয়া।

খুন

চলো, আমরা দুজন মিলে
খুন করে ফেলি
আমাদের সীমাহীন ব্যস্ততাগুলো
অকারণ দম্ভ
দূরত্বের দীর্ঘশ্বাস আর
সূচ হয়ে ঢুকে পড়া
তৃতীয়পক্ষের অনাবশ্যক আস্ফালন।
যেহেতু খুন করার জন্য
আমাদের  মজুদ আছে
ভালোবাসার মতো
ধারালো একটি অস্ত্র।
এসো প্রকাশ্যে খুন করে
আমরা একে অপরের কাছে
আত্মসমর্পণ করি।
বিচারে
আমাদের সাজা হোক
একই ছাদের তলায়
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

| বাংলাদেশ সংখ্যা | নাসিরুদ্দিন শাহ |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












নাসিরুদ্দিন শাহ
যাত্রাপথ

কারও সাথেপাছে না থেকে একাকী
বয়ে চলা পাতার বিন্যাসে ঘুমন্ত 
আগ্নেয়গিরি খুঁজে বেড়াই
মন নদীতে বয়ে চলা ঢেউ আলোচনা
মুখস্থ করি যার তার মুখের আদলে
যেখানে মানুষ এক একটি ছায়া হরিণ

কেউ থাকে না নিজের অজুত সংসারে 
একা চলতে হয় বেড়াজালের প্রলোভনে
সারাদিন একাই চলি খাই ঘুমাই যাই

আশ্চর্য এক কাশবনের যাদুতে মিশে যাই
হেলে পড়ি তার অগাধ গহীন বিমুগ্ধতায়
খুব চুপচাপ তামাটে কালশিটে 

একাকী খুব একাকী আকাশ ছুঁই দেখি
মানুষের অচল যাত্রাপথ দিগন্ত ছুঁয়ে 
নেমে যাচ্ছে দূরের ইশারা মায়ায়


ধূসর ধলেশ্বরী

বেগানা সময়ের পালক ছুঁয়ে যেন
পৌঁছে গেলাম বাবলা বনের ধারে
যাত্রাপথের কোন বিরতি ছিল না 
শুধু দেখলাম কাকের কুণ্ঠিত চোখ 

ধলেশ্বরীর তীর ধরে হাঁটছিলাম আমি        
 চাকার নেশা ভুলে চোখের সামনে 
স্বরিত পাখির দল উড়তে লাগলো
আমি ওদের ইশারারাগ চিনলাম

যেতে থাকি বালির বিছানা মাড়িয়ে 
পায়ে লাগে অতুলনীয় স্নিগ্ধ বিন্যাস
আমি তখন মাটি ছোঁয়ার নেশায় 
দু'হাতে ধরতে যেয়ে ভুলে গেলাম বা
আমার আমি কতটা বালক হলাম