Thursday, August 20, 2020

| বাংলাদেশ সংখ্যা | নীহার লিখন |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












নীহার লিখন
বন্ধু 

মরা মাছের চোখের মতো জীবনে আমার একবার মনে হয়েছিলো একটা বন্ধু থাকা দরকার,যার ঠিকানা শুধু দৈর্ঘ্যের পথ,যেভাবে হুট করে শীত চলে যায়,গায়ে রেখে পশমি কাপড়;একদিন সে'ও চলে যাবে ,বিমূর্ত অক্ষরে লিখে রেখে 'অপেক্ষায় থাকো' 

তারপর আমি ভুলে যাবো তার মুখ বহু বছর পড়ে, অস্ফুটে পৃথিবীতে আরেকবার শীতকাল  ফিরে গেলে, সে'ও ফিরে যাবে গ্রীষ্মের মিলানো পেটে, তাঁর কোনো খবরই জানবো না আর,নিতান্ত যেটুকু স্মৃতি হলে একটা মানুষ এলিজির মতো কিছু লিখতে পারে,সেটুকুও না 



শরম 

জং খুলে দেখি লোহা নেই, মরে গ্যাছে, সংক্রান্তির দিনে বেহুই গোটার মতো তুলে আনি জংলার বৈভব-গীতি, শক্ত দেয়ালে প্রলেপের সামান্য স্থিতি, নিদেনপক্ষের এক ধুমায়িত জীবনে আমার; চুমু আর খয়েরী শালিক, উড়ে যেতে যেতে ধুলার মতোন ফেলে দেয় সব মূর্ত প্রণতি, নিখুঁত নিখোঁজ হয়েও থাকে যেনো প্রণালির দাগ ও নীতি  

জল যায়, জল আসে, নদী তো না যায়; এমনই একটা সংসার আঁকড়ে ধরে আমি কোথায় থামবো একদায়, ভাবনার হরিণ, মস্তকে শিং নিয়ে চাটবো ঘাসের নরোম, ত্বকে ছত্রাক উপনিবেশের মতো রয়ে যাবেই জানি সেরকম, দাহকালে যেভাবে খিচিয়ে উঠে কিছু কিছু লাশ,সেটাও একটা কোনো অজ্ঞাতবাস, রাজার বাড়ির সামনে যেভাবে একসময় আমরা খালি পেয়েই যেতাম, বললেও শব্দ হতো না কোনো তেমন টু'য়ের; যেন আমরা আজীবনই খুব নতুন বউটি দুনিয়ায়, ঘোমটার নীচে ঘেমে যাচ্ছে মুখ; হামুখটা  ছড়াতে নেই ততোটা গরাসের কালে,তাতে বেজায় শরম 

| বাংলাদেশ সংখ্যা | শেখর দেব |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












শেখর দেব
নৈঃশব্দ্য

দরোজার কপাটদ্বয় সজোরে বন্ধ হলো
শব্দহীন

বন্ধ হবার ঠিক কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে
সমস্ত বায়ু শোঁ শোঁ বের হয়ে গেলো
শব্দহীন
কানে তালা পড়লো ভ্যাকুয়াম ঘরে
বুকে অনুভূত হলো প্রচণ্ড চাপ
কে যেনো চেপে ধরেছে সমস্ত শক্তি দিয়ে
থমকে গেছে নিশ্বাস।
চোখ বন্ধ করে ভ্রুয়ের মধ্যে স্থির করলাম দৃষ্টি
হঠাৎ সবকিছু শীতল হয়ে গেলো
ফুসফুসের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেলো বায়ু
সশব্দে সচল হলো হৃদপিণ্ড
শব্দহীন
চারদিক সুনশান নীরবতা
শব্দহীনতা
বুঝেছি আকাশটা হারিয়ে ফেলেছি!

চোখের চলন

অজ্ঞানতার আনন্দ থেকে উঠে এসে
নিজের সমুখে দাঁড়াতেই
আপাত বন্ধ হয়েছে চোখ
আলো নেই তবু পষ্ট দেখা যায়
নাসিকাগ্রে দৃষ্টি নিক্ষেপের পর
চোখ দুটি সরে যেতে থাকে

পরস্পরের থেকে দূরে
অতীতের দিকে ছুটে যায় এক চোখ
অন্যটা ভবিষ্যতের অভিমুখে।
ধাবমান চোখ থেকে ঝরে পড়া আলো
কুড়াতে কুড়াতে বেড়ে যায়
অজ্ঞানতার ব্যথা ও বিবিধ অসুখ
তাড়াতাড়ি খুলে যায় চোখ
বর্তমান ব্যঙ্গ করে জ্বলে উঠে ঝিকমিক
অতীত ভবিষ্যতের কথা ভুলে
হয়ে উঠি বর্তমানের মানুষ
সমগ্র ব্যথা হতে ফুটে উঠে ফুল।

| বাংলাদেশ সংখ্যা | শাহরিয়ার রুবাইয়াত |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












শাহরিয়ার রুবাইয়াত 
অবাঞ্চিত

সে সবই ছিল যন্ত্রণার অতিবাহন,
নাটাইয়ের রজ্জুতে পেঁচানো অনিমন্ত্রিত ধমনি
স্থবির রাত্রির পথে প্রবঞ্চনার প্রাচীর
শিখী গলে ভাসা হিমবাহে
জমানো ঘৃনার নিরেট আগমন;
ঘোর আঁধারির অচিহ্নিত সীমানায়।

সার বেঁধে দাঁড়ানো প্রত্ন-প্রাকারে
আঁত ক্ষত ভেসে যায়;
নবাঙ্কুর জাগে উপমাতার সন্ত্রস্ত উৎকন্ঠায়
পড়ন্ত দিনের বিক্ষুব্ধ হলুদ পাতায়।

ভূমিষ্ঠের পরে সংকুচিত জরায়ুতে জমে থাকে রক্ত;
শপথ ভেসে চলা গঙ্গায়
সিঁদুর ধোয়া নিত্য নিবিড় ক্ষণে,
স্মৃতির শরীর ছুঁয়ে নেমে যায় বিতৃষ্ণার পারদ
পরজীবীর একান্ত মৃত্যু গর্জনে।


বিভ্রান্তি

সৃষ্টির কাছে মাথা পেতে রেখেছে মহাকাল
নিরন্ন দিন-রাত্রির বলয়ে।
সভ্যতা হেটে গেছে অশালীন তপস্বীর কাছে
ত্রিকোণমিতির দুর্ভেদ্য ঘনাঙ্কে।

তাই; একটা গোটা দিন
নিজেকে আড়াল করে রাখলো ব্যথার আলয়ে
চেতনা শূন্য আত্মহারার মত একতারার টুংটাং বিরহে।
একটা গোটা রাত
নিজেকে ডুবিয়ে রাখলো তারকাময় মহা সমুদ্রে
তৃষিত অঞ্জলির নোনা বিষণ্নতায়।

আর; কেমন বুভুক্ষের মত ছুটে আসে মেঘ
শ্রাবনকে পাশে পেতে
কাঙাল প্রতিশ্রুতির শৃঙ্খলে,
অন্ধকার প্রাঙ্গণে ল্যাম্পপোস্টের আলো হতে
খিল দিতে নির্বিঘ্নে স্রোতের দরজায়।

| বাংলাদেশ সংখ্যা | আলিমন নেছা মনি |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












আলিমন নেছা মনি

দীর্ঘ রজনীর বিলাপ

কথা বলতে চাই অতঃপর থেমে যায়
সন্ধ্যার ট্রেন ছেড়ে গেলে কানে শোনা যায় হুইসেল
পড়ে থাকে নিঘুমছায়া, দীর্ঘ রজনীর বিলাপ
তুমি চুমুখাও সুন্দরের ঠোঁটে ---
জ্বলে উঠা প্রদীপের নিয়নআলোয়, যেখানে অন্ধকার তার নিজস্বতা হারায়
অথচ আমার ভেতরের যাতনাগুলো সেজদা করে
চাঁদের দিকে ঝুঁকে, সব ঝুট হ্যায় সব ঝুট হ্যায়
বলে চলে যায় পথচারী হারু মনিমাতাল
ফুল ফোটে শুকিয়ে যায় রক্তজবা,
চেয়ে থাকে পরাগরেনু, তৃষ্ণার্তপৃথিবীর নখে দাড়িয়ে থাকে ক্ষণকাল
মেঘগুলো উড়ে চলে যায়,
মূর্তি হয়ে দাড়ায় পাহাড়ের মুখে, পাহাড়গুলি ধ্বসে পড়ে
সকল নিষ্ঠুরতায়
রাত শেষ হয়ে ফিরে আসে ভোর, সরললাইনে চলে নতুন ট্রেন,
রঙচঙ কামরায় বসানো লাইটের তীর্যক রশ্নি,
ভ্রমনের বিব্রস্ত বাগানে অগণিত কষ্টের দাগ রেখে যায়

| বাংলাদেশ সংখ্যা | মৃধা আলাউদ্দিন |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












মৃধা আলাউদ্দিন
আমাদের সময়

এখন আমাদের এখানে যেসব ভোর বা সন্ধ্যা হয় তা যেনো ছেঁড়া কাগজের টুকরো
অথবা নরম টিস্যুর মতো ছুড়ে ফেলি রাস্তায়, দূরে; বাড়ির পাশে, ভাগাড়েে
এবঙ একসাথে আমরা কিছু সময়কে ফাড়ছি-ছিঁড়ছি টুকরো টুকরো করে।
নিত্যদ্রব্যের আস্ফালনে আমরা আর পারছি না। আমাদের পিতা ও পিতামহের প্রাণ ওষ্ঠাগত
আবার কি আমাদের এখানে মায়েরা বাসনিত হবে?
এটা আমাদের সময়, মাছ ধরার জাল আর গায়ে জড়াতে পারে না মানুষ।
যদিঅ, এখন আমাদের সামনে থেকে সরে গ্যাছে বর্ষার উদ্ভ্রান্ত মৌ মৌ ঘ্রাণ-
                                                 শ্রুাবণ মেঘের দিন
তবুও বর্ষাকাল বলে একটা কিছু কদম ফুলের মতো সৌরভ ছড়িয়ে দিক আমাদের চারপাশে
বিরান বাগানের এখানে-ওখানে, দুপুরে; সন্ধ্যায়-

কিন্তু না, আমরা কেবোলি শাঁই শাঁই করে বেড়ে ওঠা জলন্ত উত্তাপে পুড়ছি।
গলে যাচ্ছে আমাদের হাত-মুখ-
গ্রীবার সমস্ত সৌন্দর্য। আমাদের কোনো ঈদ নেই।
আমরা একটা সময়কে ছিঁড়ছি-ফাড়ছি কাগজের টুকরোর মতো।

আমাদের এখানে এখন জৈ্যষ্ঠ। গ্রীষ্মের কাল।