Thursday, August 20, 2020

| বাংলাদেশ সংখ্যা | রয়েল পাল |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












রয়েল পাল
তোমার নামের পাশে সবুজবাতি
তোমার নামের পাশে সবুজবাতি,
সবুজবাতিতে খুঁজি জীবনের রঙ।

বয়স কমে রোজ। আঙুল কথা বলে।
ভেতরে বসন্ত।হাওয়ায় ওড়ে শরীর।
রাত ছোট হয়।কান পাতলেই ঘুম
মাস হলো আলাপ।কত কি শুভবার্তা!
সূর্যমুখীর রূপ।বুকে ফোটাল মৌমাছি।
সমস্ত বর্ষা ঢেলে দিল কফির কাপে।
হাতের রেখায় নাম।স্বপ্ন এঁকে দিল বীজের।
একদিন হঠাৎ;
বসন্তের একটা পাতাও নড়ল না।
টু শব্দ নেই মনবাজি ধরা কোকিলের।
রহস্য ভরা নদী।পর্বত কিংবা অরণ্যের।
আড়ালে মন দাঁড় করিয়ে রাখল সন্ধ্যায়।
দিনগুলো বড় হচ্ছে।কপালের ভাঁজে বয়স।
চুল সাদা হয়ে যাচ্ছে মাথা আঁচড়ালেই।
কি হল তার? কি ছিল দোষ?
কেন খামখেয়ালি? খবর নেই কেন শুভবার্তার!
তোমার নামের পাশে সবুজবাতি,
সবুজবাতি কখনো কখনো জীবনের রঙ ।
তোমার নামের পাশে সবুজবাতি,
সবুজবাতি কখনো কখনো সন্দেহের।

পুরনো প্রেমিকা
প্রেমের কবিতা লেখার চেয়ে পুরনো প্রেমিকাকে
কেমন আছো বলা বেশ কঠিন।
যদি সে উত্তর হারায় ! যদি ওপাশ ফিরে মুখ !
যদি পুরনো ভুলের ঠোঁটে হঠাৎ ঝড় !

সে যদি বলে, "সিগারেট কি এখনো টানো,
ছাইপাঁঁশ সেই বন্ধুরা কি এখনো গলায় গলায়?"
মাঝরাতে কার মুখের উপর বাজপাখি হও!
ঠিক এই তীরগুলোই কবির ক্ষত-
পালক বিহীন শরীর।
বন্ধ জানালা !
সমিধও।
প্রেমের কবিতা লেখার চেয়ে পুরনো প্রেমিকার
চোখে চোখ রাখা বেশ কঠিন।
যদি সে সরিয়ে নেয় চোখ ! যদি ঢেউ ওঠে কাজল দিঘীতে
মেঘলা হয়ে যায় জলছবি!

| বাংলাদেশ সংখ্যা | রফিকুল কাদির |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












রফিকুল কাদির
বেঁচে থাকো স্বার্থপর
যোভাবে আছ থাকো
থাকো কোন মতে
কেঁচো বা সাপের মতো
অথবা আরশোলা, কুকুর...
পাখিদের ভুলে যাও
ভুলে যাও দেখেছিলে প্রজাপতি
ফুল বা ঘাসের দোল

কবে কখন মানুষ হেঁটেছিল
ভাসিয়েছিল নৌকা

রাইট ব্রাদাররা উড়িয়েছিল; উড়েছিল আচানক
জীবনের ঘুড়ি
চোখকে প্রতারক ভেবে
মনকে প্রবঞ্চক ভেবে
উড়িয়ে দাও মন

ভুলে যও
ভুলে যাও
ভুলে যাও মানুষ
ভুলে যাও পৃথিবী
ভুলে যাও

শুধু বেঁচে থাকো
কেবলই বেঁচে থাকো

স্বপ্ন, স্বপ্নের সুখ ভুলে যাও

এই ভুলে যাওয়াটাই জীবন করে নাও


মানুষ যখন হেরে যায়


কুকুরও বেঁচে থাকে !

ওকে বড় স্বাধীন মনে হয় !

ও বড় মহান !

ওকে খুব দরকরি ভাবি !

ওকে খু্বই হিংসে হয় !


ভ্রমণ


প্রপেলার ঘুড়ে

প্রপেলার ঘুড়তে থাকে

প্রপেলার ঘুড়বে

প্রপেলার ঘুড়ে যায়

আমরা ডোবা পেরোই

আমারা নদী দেখি না

আমরা নর্দমা খাই

পৃথিবীরও গতি আছে

পৃথিবী অক্ষে ঘুড়ে

পৃথিবী  সূর্যকে খায়

পৃথিবী  রাত্রে ঘুমায়


আমি কোন পরিযায়ী পাখি

দশ সাল আজ থেকে দশ বছর আগে
যখন তুমি অনেক কচি ছিলে
গালের টোল আরও কোমল ও কমনীয় হয়ে 
ফুটে উঠতো লাল আকাশে 
চাঁদের মতো।

ঠোটটা ভেজা থাকতো ঘামে
না, না, জানি ওটা ঘাম নয়, 
ঘামের মতোও না
ওটা অন্য কিছু
না কামরসও--
ভালোবাসার মতো পবিত্র কোন রং,
কোন স্বপ্ন, কোন যাদু

ওকে বৃষ্টিও বলা যায় না
সকালের ঘাসে কী তাকে  ফুটেতে দেখিনি

দেখিনি কী চাঁদে

কিন্তু কি নিষ্ঠুর তোমার কোমর
অন্যের বাহু বন্ধনে ভিজেছে জলে
তোমার আঙুল ছুঁয়েছে তার ঠোট

আমি কোন বুভুক্ষু পরিযায়ী পাখি

মাঠ, ঘাট, সমুদ্র, পেড়িয়ে
ছুটতে থাকি,  ছুটি
পালিয়ে বাঁচি

জীবনে বেঁচে থাকার এ নিষ্ঠুরতা
জীবনের কাছে শেখা

তোমাদের ঘাম, ভেজা চুল 
মেডুসার মতো আমাকে ঘিরে


| বাংলাদেশ সংখ্যা | ফারহানা রহমান |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












ফারহানা রহমান
আড়াল  

সারারাত অন্ধকারে কতকিছু আনাগোনা করে আজকাল 
কত ধরণের মিহিকান্না ভেসে আসে 
আচ্ছা আমি কি একাই শুনি শুধু শব্দগুলো?

স্নায়ুরোগে ভুগে ভুগে মার্চ ও এপ্রিল মাস কফিনেই কেটে গেলো
         আকাশের বুকে সরু হয়ে ওঠা চাঁদ দেখি 
মরা মানুষের হাড়ের মতো হা হয়ে থাকে
কালপুরুষের ছায়া

   অথচ এখন আর খুব কাছে থেকেও
   ট্রেনের হুইসেল শুনতে পাই না
   তবে কি আমি বধির হয়ে গেছি
   প্রবল নৈঃশব্দ্যে নষ্ট হয়ে গেছে শ্রুতিযন্ত্র

   সময় ফসিল হয়ে গেলে
   কিছুটা আড়ালে হারিয়ে গিয়েছে চিরচেনা মুখগুলো
        অজানা আশংকা মিয়ে    
   ভ্যানগগের সূর্যমুখীতে মানুষগুলো সব ঘুমিয়ে পড়েছে।    
 

মারী  

এইসব সিজোফ্রেনিয়ার দিনে  
পৃথিবী নিঃসঙ্গ হলে
মৃত্যুবিষয়ক মর্মবেদনায় ভুগে ভুগে  
পানশালায় বসে থাকি মারী দেখবো বলে- 
রক্তে তীব্র নিকোটিনের প্রভাব  
শত শত মানুষ ধূসর চোখে চেয়ে আছে 
দ্যাখো সামনে রয়েছে অন্ধকার গোলকধাঁধা
ফুসফুসে অক্সিজেন উধাও এখন
খেলার সকল সরঞ্জাম হারিয়ে গিয়েছে বলে
সমস্ত উৎসব শেষ হয়ে যায় 
সুদূর অতীত থেকে কারা তবে 
বারবার ডাকে সকরুণ সুরে?
এখানে চাওয়া-পাওয়া কিছুই নেই আর   
সরল ডানায় ওড়ে গেছে নিস্তব্ধ সময় 
তবু কিছু স্রোত তখনও বুদবুদ নিয়ে চিরশূন্যতায় ভাসে...  

| বাংলাদেশ সংখ্যা | মাহমুদ নোমান |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












মাহমুদ নোমান 
বাতাসের বেসাতি

বাতাসের লগে আসে
দাদীর কবর ভাসানো জল
চালের ফুটোয় ডুবোডুবো 
আত্মরতির গোলা,
টিনের চালে আম ছুঁড়ছে
ভেজা চকের আকাশ, 
ভেতরে ভেতরে ধায় ---
কয়েকটা সাঁতার ভুলে যাওয়া মাছ;
উত্তর দক্ষিণে সেজদায়
ঈমানী লোকের ঘর---
ছেয়ে রেখেছিল ঐ কোন
নিমকহারামির চর....



পথিকের জবানি

উঠোনে বরই শুকাতে দিয়ে
দরোজা বন্ধ করে রেখেছো,
জানালার আঁধারে নিয়ে গেছো
আমিবিহীন কল্পনায় ---
শত শত ঝরে পড়া
রোদের পাখি....
ধানগাছের গোড়ায় তাবৎ
শ্যাওলার বুক চিতিয়ে
জিয়ল মাছের বুদ্বুদ,
পার হয়ে যাচ্ছে 
বৃষ্টিবিহীন কালো কালো ছাতা ;
আকুলিত সেজদার অপহৃত
চোখের ইশারা ---
চিনিপানায় কেমন গুলে যাচ্ছে
হাত সরে সরে যাচ্ছে,
মাছগুলো কেবল পুচ্ছ নাড়ায়..... 

| বাংলাদেশ সংখ্যা | শিমুল আজাদ |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||














শিমুল আজাদ
সানগ্লাস

একটি সানগ্লাস প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।বিশেষত পরিবারের, সমাজের একজন হয়ে যখন আমার
কারো মুখোমুখি হতে হয়। আমার দুটি চোখ বারবার আমার ভিতরের আমিকেপ্রত্যেকের সামনে
উন্মোচন করে দেয়।বিব্রত আমি, অন্যকেও ঝামেলায় ফেলি। ফলে অপছন্দীয়, পরিবেশ সমূহ
উদ্ভট।স্পর্শকাতর,আমি যার ফাঁক-ফোঁকর বুঝি। এমন বিষয়ের যেকোনো প্রসঙ্গ এলে আমার
চোখ, টাল-মাটাল দোলে! অন্যদের অভিনয়কৃত চোখে- মুখে আমি তখন এক নাদান, বীভৎস্য
এবং অসভ্যতায় মোড়ানো এক সহযাত্রি। চাইলেও পারি না! আমার কালো চোখ অন্তরের স্বচ্ছ
আয়না হয়ে উগরে দেয় সম্পূর্ণ বিষয়-আশয়। একটি সানগ্লাস পারে দুটি কালো চোখকে ঢেকে
সত্ত্বাকে গোপন রেখে এই বিবমিষার পরিত্রাণ ঘটাতে। কিন্তু মুশকিল সানগ্লাস ঘরে, অফিস-
আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়।

দীর্ঘচোয়ালের প্রেম

নদীর সুগন্ধে, অরণ্যের প্রেম ও আকাশের নীলের আকর্ষণে তার বাসীন্দাদের
ধরপাকড়ে ব্যস্ততায় কেটেছে আমাদের অসংখ্য শতাব্দী। যদিও শিকার আর শিকারীর
মধ্যে একটা সম্পর্ক বহুদিনব্যাপি প্রবাহমান; যেমন পাহাড়ের সাথে পাথরের। সমুদ্রের
সাথে লবনের।
মানুষ পারে না এমন কী আছে! শুধু প্রাণ দান ছাড়া! মানুষ উদরে গ্রহণ করে না!
কিংবা খায় না এমন কী আছে! ডাঙার তৃণভোজি, হরেক জলবাসী কিংবা
আকাশচারীর অন্তিম মুহূর্তের কথা ভাবো। স্রেফ আত্মপ্রচার, নিজেকে মহৎ বা শ্রেষ্ঠ
হিসেবে প্রচারণায় আত্মতৃপ্তি, যা এক ভয়ংকর ভণ্ডামি!
মূলতঃ মানুষ নিখুঁত শোষক, একেকটি রাক্ষস; যা অরণ্যের গভীর কিংবা বিস্তৃত
জলরাশি ভেঙে উঠে এসেছে। নিজেকে দাঁড় করিয়েছে এই পৃথিবীলোকে একচ্ছত্র

অধিপতি রূপে।সর্বদা নিজের প্রয়োজনকে বড় করে দেখেছে; অন্যকে উপেক্ষা আর
অবহেলায় ঝলসে দিয়ে চলেছে মহাকালে।
হায় যদি সে জানতো! বুঝতে পারতো তার অস্তিত্ব পরম সত্তার দয়া-দাক্ষিণ্যের
ফলস্বরূপ, প্রেম ও করুণার আশ্চর্য প্রকাশ বৈ তো অন্য কিছু নয়।
আশরাফুল মাখলুকাত, দীর্ঘচোয়ালের প্রেম আর শয়তানের আনুগত্যে কতকাল প্রবাহিত
হতে থাকবে এই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি প্রান্তরে!