Tuesday, November 3, 2020

|| বিশেষ সংখ্যা ~ প্রভাত চৌধুরী ||

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||
প্রভাত চৌধুরী



সপ্তদশ≈ সিরিজ

□ প্রথম

প্রথম থেকে নির্বাচন করলাম ' প্র ' , প্র আমাকে
পৌঁছে দিয়েছিল একটি প্রবচনে
সেই প্রবচনটি একটি পাঁচ রাস্তার জংশন
এখান থেকে একটি ট্রেন থার্ড ব্রাকেটের দিকে যাচ্ছে
আমি এখন দাঁড়িয়ে আছি ফার্স্ট ব্রাকেটে

09 .09 .2020♢ 22 : 59

□ দ্বিতীয়

আমি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে দ্বিতীয় কবিতাটিতে 
কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্বকে ঢুকতে দেব না
একটা পার্শ্বিক ধ্বনি ঘোরাফেরা করবে
আমাদের অজানা নয় , আমরা পছন্দ করি
ধনধান্য থেকে পুষ্পভরা এক ভূখণ্ডকে

09 .09 . 2020 ♢23 : 12

□ তৃতীয়

তৃতীয়-র সঙ্গে চাঁদের কোনো নিবিড় সম্পর্ক আছে
কিনা জানি না , তবে তৃতীয়ার সঙ্গে আছে
পূর্ণিমা এবং অমাবস্যার পরের তৃতীয় দিন
তৃতীয়া একটি স্ত্রীবাচক শব্দ, পুংবাচক শব্দটি
দ্বিতীয় এবং চতুর্থ-র মধ্যবর্তীতে বসবাস করে

09 . 09. 2020♢ 23 : 19

□ চতুর্থ

চতুর্থজনের পকেটে কোনোদিন তুলোটকাগজে লেখা
পুঁথি-র কোনো অংশ চোখে পড়েনি
কাজেই চতুর্থজন নিয়ামক হতে পারবেন না
এটা ভেবে বসবেন না , দেখবেন এই চতুর্থজন
সন্তরণ প্রতিযোগিতার পদকজয়ী

09 . 09 . 2020 ♢ 23 :30

□ পঞ্চম

পাঁচ একটি শুভ সংখ্যা, এই সংখ্যাটি থেকেই
গঠিত হয় পঞ্চায়েত, এখানে এসেই থেমে যেতে হচ্ছে
কারণ জানানোর অধিকার আমার নেই
আগেই আমি আমার পঞ্চেন্দ্রিয় বা পাঁচটি
ইন্দ্রিয়-কে বন্ধক দিয়েছিলাম ভোটবাক্সে

10 .09 .2020 ♢ 09 : 26

□ ষষ্ঠ

তখন পালকিবাহকের সংখ্যা ছিল ছয়
পালকি বিলুপ্ত-যান রূপে স্বীকৃত হবার পর
এই ' ষষ্ঠ ' সংখ্যাটিল বড়ো বিপদ, এমন কী
শহরাঞ্চল থেকে ষষ্ঠীতলাগুলোও উঠে গেল
জন্মনিয়ন্ত্রণের ঠেলায় মা ষষ্ঠীর কৃপাও  তলানিতে

10. 09 . 2020 ♢ 09 : 36

□ সপ্তম

সপ্তম থেকে সপ্তমীতে যেতে সমর্থ হলেই
সপ্তমী-র অনেকগুলি অপসন: ব্যাকরণপথে গেলে
একটি বিভক্তির দ্যাখা পাব , যেখানে ' বাঘ আছে আমবনে ' , আর 
পুরাণপথে পাবেন সপ্তর্ষি-কে
আর আকাশপথে বিরাজ করেন সপ্তর্ষিমণ্ডল

10 . 09 . 2020 ♢ 10 : 59

□ অষ্টম

অষ্টমগর্ভের সন্তানদের সম্পর্কে বলতে শুরু করলে
অন্য বিষয়গুলিকে উপেক্ষা করা হবে , 
বলা হবে না অষ্টাবক্র মুণিবরের কথা, অষ্টধাতুর গুণাবলির কথা আর 
অষ্টাদশী যে কিশোরীর সঙ্গে আমার অবসরযাপন,গর্জনতেল সহ 
তারা গর্জন করতে শুরু করবে

10 .09 .2020 ♢ 11 : 20

□ নবম

নবম-এর একদিকে বিক্রমাদিত্যর নবরত্নসভা
অন্যদিকে বটুকদার নবজীবনের গান , তাহলে তো 
মাছরাঙাপাখিদের কোনো কথা-ই জানানো যাবে না বিল্বদণ্ড বা সারস্বত কথাও, 
আসুন 
দরগা রোডের ৯ নম্বর বাড়ির কলিংবেলটি বাজানো যাক

10 . 09. 2020♢ 11: 43

□ দশম

দশচক্রে যখন ভগবান ভূত হয়ে যান , তখন
কবিরাজ-প্রদত্ত দশমূলের পাঁচন ব্যবহার করা যেতে পারে , এ বিষয়ে 
রূপকথার ডালিমকুমার কী নির্দেশ দিয়েছিলেন, জানা নেই ,
জানা আছে ত্রৈলোক্যনাথের
১০টি ভূতের কথা , ভূতের গল্পকথাও

10 . 10. 2020♢ 12 : 01

□ একাদশ

একান্নবর্তী পরিবারের সন্ধান করার আগে একটি দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সন্ধান করুন , 
মনে রাখবেন আপনি এন্ট্রান্স পাশ দিয়ে এখানে এসেছেন, আপনার নাক
' জবাকুসুম '-এর গন্ধ চিনে গেছে 
আলাদা করে প্লেয়ার লিস্টে প্রথম একাদশে আছেন কিনা 
দেখে নিন

10 . 09 . 2020 ♢ 12 : 17

□ দ্বাদশ

আমি কোনোদিন দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হইনি , হয় প্রথম একাদশে, 
নচেৎ টিমের বাইরে
অতএব দ্বাদশ ব্যক্তির ভূমিকা আমার অজানা
যেমন অজানা খোদার খাসি কিংবা ধর্মসভার অ্যাজেন্ডা , 
মৃদঙ্গ যে বাদ্যযন্ত্র এটা জেনেই বাদ্যযন্ত্র লিখেছি

10 .09. 2020 ♢ 12 : 29

□ ত্রয়োদশ

' থার্টিন ' এই বিশেষ্যটির পূর্বপদে ' আনলাকি ' বিশেষণটি কীভাবে জুড়ে গিয়েছিল 
সেগল্প আমার জানা নেই , ইংরেজরা আসার আগে 
ত্রয়োদশ একটি ধ্যানগম্ভীর শব্দ ছিল,
তার খুব কাছেই ত্রিলোক
ভাবছি বেশ কয়েকটি ত্রিপদী রচনা করব

10. 09. 2020 ♢ 21 : 04

□ চতুর্দশ

শিব-চতুর্দশীকে কেউ কেউ ভূত-চতুর্দশী বলে থাকেন
আমি কিন্তু সত্য শিব এবং সুন্দরকে একাসনে বসাই
আর চতুর্দোলায় যিনি কেদারনাথ দর্শন  করে এলেন
সেই পূণ্যের কতভাগ তিনি পাবেন তা গণিতের বিষয়
১৪ বছর বনবাসের গল্প সকলেই জানেন

10. 09. 2020♢ 12 :57

□ পঞ্চদশ

পঞ্চ + দশ = পঞ্চদশ , আর এই পঞ্চদশের
পাশাপাশি যাঁরা বসবাস করেন ,এঁদের মধ্যে যেমন বিষ্ণুশর্মা-র ' পঞ্চতন্ত্র ' আছেন , 
তেমনি পঞ্চবটীরও সন্ধান পাবেন , আর 
রোগ নিরাময়ের জন্য যাঁরা পঞ্চকর্ম করান 
তাঁদের সঙ্গে আমার দূরত্ব অনেকটাই

10 . 09. 2020 ♢ 13 : 09

□ ষষ্ঠদশ

আমরা ষষ্ঠদশ বা ষোলো সংখ্যাটিকে অনেকভাবে
যোগ করতে পারি, ৮ + ৮ = ১৬ 
আবার ১০ + ৬ = ১৬ 
যোগফল দিয়ে কিছুই প্রমাণিত নয় , বিয়োগফল দিয়েও , 
একমাত্র ষোলো আনা সম্পত্তি বাটোয়ারার

10 .09 . 2020 ♢ 13 : 15

□ সপ্তদশ 

সপ্তদশ শব্দটি চোখে এলেই দেখতে পাই
সপ্তদশ অশ্বারোহী ,বলে রাখি, 
আমার কোনো ব্যক্তিগত অশ্বশালা নেই , অশ্বারোহণেও আমি দক্ষ নই , তবু 
অশ্বারোহীদের দেখত পাই, 
অশ্বনীকুমারদ্বয়ের কথা পরবর্তী এপিসোডে

10 . 09. 2020♢14 :21




Sunday, November 1, 2020

| নভেলেট | ডারউইনের চিঠি |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ||
| নভেলেট |
অরিজিৎ চক্রবর্তী

ডারউইনের চিঠি~( নবম পর্ব )

লীমাকে খিস্তি দেওয়ার পরমুহুর্তেই সম্মোহের খারাপ লাগে। ভাবে বেচারা ভালো মানুষের যা হাল হয় লীমা তাই। তবু ওর প্রতি মাঝে মাঝেই বিরক্তি দানা বাঁধে।লীমার কথা ভাবতে ভাবতে সম্মোহ খানিক অন্যমনস্ক হয়ে যায়। ফেলে আসা স্মৃতিগুলো যেন প্লেব্যাকে বেজে ওঠে। তবু সম্মোহ আজ ভুলে থাকার উপায় খুঁজে নিয়েছে। এই জঙ্গল তাকে অনেক কিছু দিয়েছে। একটা নতুন জীবন দিয়েছে।

--" দাদা আপনার নামটা কে দিয়েছিল? খুব আনকমন মিষ্টি নাম!"শতাক্ষীর প্রশ্নে সম্মোহের অন্যমনস্কতা কাটলো।

---"আমার ছোটমাসি। উনি যেমন সুন্দরী তেমন আপডেট সব সময়। ছোটবেলা থেকে দেখছি। এখনো এই সত্তর বছর বয়সেও সব সময় পরিপাটি। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম সবেতেই এ্যাকটিভ।"

---" বাঃ! ওনার তারিফ করতেই হচ্ছে। আপনার লুক কথাবার্তা হাঁটাচলা সবেতেই একটা সম্মোহ দাঁড়িয়ে আছে।"

----" আপনার ওরকম মনে হচ্ছে! আসলে আমি একটা মরিচীকা! দূর থেকেই মায়াবী! কাছে এলেই খাঁ খাঁ শূন্যতা!" সম্মোহ একগাল হাসির ভেতর কথাগুলো বলে চলে।

---" এত ভালো কথা বলতে পারেন আপনি! ফলে আমাদের বলা গুলো হারিয়ে যায়.."

---" পেগটা শেষ করুন। নাকি ভালো লাগছে না? ভালো না লাগলে জোর করে খাওয়ার দরকার নেই। একটু চড়া গন্ধ আছে। সবাই নিতে পারে না।"

--- " ভালোই লাগছে। আচ্ছা ফাস্ট কাটের মাল ব্যাপারটা কি?"

---" আসলে গুড় , চালগুড়ির বাখর, মহুয়া ফল দিয়ে একটা হাঁড়িতে পাঁচ-ছ'দিন জিনিসটাকে পচানো হয়। তারপর আগুনের জালে হাড়ির ওপর হাঁড়ি রেখে প্রথম যে মদটা পাওয়া যায়, ওটাই ফাস্টকাট। বিশুদ্ধ তীব্র মহুয়া। র-খাওয়া যায় না। জল মিশিয়ে নিতে হয়।"

---" আমাদের মতো পাগলের পাল্লায় এর আগে পড়েছেন?"

----" পাগল নিয়েই তো আমার কারবার। পড়েছি পড়েছি, সেসব অনেক কাহিনী আছে! রাতে আপনাদের দুএকটা ঘটনা শেয়ার করবো। চলুন এবার লাঞ্চ করে নিন। বেলা পড়তির দিকে।"

---" হ্যাঁ ঠিক আছে, এবার লাঞ্চ দিতে বলুন।"

---" নন্দিনীদি এত তাড়া কিসের! আর একটু আড্ডা হোক!"

নন্দিনী সেন সবাই কে আদেশের সুরে বলল," না না, আগে লাঞ্চ করে রেস্ট নিয়ে নাও সবাই। রাতের জঙ্গলে আসল মজা! তখন কেলিয়ে গেলে চলবে না।আর খিদেও পাচ্ছে। সম্মোহবাবু লাঞ্চের ব্যবস্থা করুন।"

খেতে খেতে সবাই রান্নার তারিফ করলো। তারপর যে যার নির্ধারিত রূমে রেস্ট নেবার জন্য চলে গেল। সম্মোহ এই ফাঁকে নিজের খাওয়া শেষ করে আবার লালু কাকাকে খুঁজতে বেরোলো।

সন্ধে নেমে আসছে। জঙ্গল আরো ঘন হয়ে উঠছে বুনো গন্ধ আর ঝিঁঝিঁর ডাকে । না লালুকাকার খোঁজ কেউ দিতে পারছে না। আচ্ছা পাগলাচোদা লোক।বাইরের লোকজন আছে আর ও খেল দেখাচ্ছে। ডবির মুরগি ফার্মের কাছে গাড়িটা নিয়ে আসতেই কেলে সন্ধান দিলো লালুকাকার। বললো, " দুপুরে হাঁড়িয়া ভাটিতে ছিল লিটনের সঙ্গে। তারপর লিটনের বন্ধুক নিয়ে জঙ্গলে পাখি মারছিল। এখন গিয়ে দেখ আটচালায় নেশায় ঘুমোচ্ছে।"

কথাগুলো শোনা মাত্রই সম্মোহের মাথাটা রাগে ঝনঝন করে উঠলো। গাড়িতে স্টার্ট দিয়ে সোজা আটচালার দিকে এগিয়ে গেল।

শালাকে আজ রাত্রে এক ফোঁটাও মদ দেব না। খেয়ে খেয়ে আশ মেটে না। এসব লোককে আর এখানে রাখা যাবে না। বুড়ো হয়ে মরতে চললো...

---" ও লালুকাকা ওঠো, এখানে কি করছো। চলো। ঘরে চলো"

লালুকাকার কোনো হুঁশ নেই। অচেতন হয়ে ঘুমোচ্ছে। সম্মোহ এবার লালুকাকাকে ঠেলা দিল। ওঠো ওঠো।চলো।

লালুকাকা হুঁ শব্দে আবার অচেতন হয়ে রইলো।সম্মোহ বুঝলো ওর বাড়ি ফেরার মতো হুঁস নেই। তাই এখানে বেশি দেরি না করে সোজা বাড়ির দিকে রওনা দিলো।

বাড়ি ফিরে দেখলো কেউ রুম থেকে বাইরে বেরোয়নি। হয়তো তখনো ঘুমাচ্ছে। কারণ, কারো ঘরের ভেতর কোনো আলো জ্বলছে না।সম্মোহ বুলির মা'কে চা করতে বললো। এখন দিনের আলো নেই। চারপাশ ঘন অন্ধকার। রাতের খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। বনফায়ার হবে। অথচ বনমুরগির জোগাড় নেই। ওটা লালুকাকার জোগাড় করার কথা। কিন্তু লালুকাকার যা অবস্থা তাতে আজ কখন যে সে স্বাভাবিক হবে কে জানে! আর একটু পরেই নন্দিনী সেনরা উঠে পড়বে। ওদের আবদার মেটানোই সম্মোহের কাজ। বলা ভালো সম্মোহের বর্তমান রুজিরুটি। এই বিষয় গুলো একদম বুঝতে চায় না লালুকাকা।

বুলির মা চা এনে দিয়েছে। চায়ে চুমুক দিতে দিতে সম্মোহ কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না।
এমন সময় একজন মহিলা এসে বলল," সম্মোহবাবু, আমি শর্মিষ্ঠা। সবাই ঘুমোচ্ছে। আর আমার ঘুম না আসার জন্য একা একা বোর হচ্ছিলাম। দেখলাম আপনি বসে আছেন। তাই চলে এলাম।"

---" ভালো করেছেন ম্যাডাম। একটু চা বলি?"

--- "সিওর। আপনার এখানে একা থাকতে বোর ফিল হয় না! ফ্যামিলি কোথায় থাকে?"

---" মা-বাবা কলকাতায়। আর আমি এখানে। এখানকার গাছপালা মানুষজনই আমার পরিবার।"

---" বিয়ে করেননি?"

----" সে আর হয়ে উঠলো না। আপনার কথা বলুন।"

----" গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজ থেকে পড়াশুনা। এখন ছবি আঁকাটাই পেশা। একটি মেয়ে। হাসবেন্ড ডাক্তার।গোলপার্কে থাকি। নন্দিনী আমার স্কুল জীবনের বন্ধু।"

----" ও! আপনি ছবি আঁকেন। খুব ভালো। আপনার ছবি দেখার ইচ্ছে থাকল।"

---" অবশ্যই। আমার একটা ওয়েবসাইট আছে। ওখানে আমার কাজগুলো আপনি দেখে নিতে পারেন। আর নতুন কোন এক্সিবিশন হলে আপনাকে নিশ্চয় জানাবো।"

----" অবশ্যই। আপনার এক্সিবিশন দেখার ইচ্ছে থাকল। ম্যাডাম স্ন্যাক্সে কি খাবেন বলুন। "

---" আপনি যা খাওয়াবেন তাই খাব। আর একটা কথা। আমাকে নাম ধরে ডাকলে খুশি হবো।"

----" মাথায় থাকলো। ধীরে ধীরে হবে। এখন ঘড়িতে সাতটা বেজে গেছে। ওদের কি ডেকে দেবেন এবার!"

----" হ্যাঁ ডেকে দেওয়াটাই ঠিক হবে। আমি ডেকে তুলছি। আপনি ওদের চায়ের ব্যবস্থা করুন।"

সম্মোহ বুলির মা'কে চা বসাতে বলল। শর্মিষ্ঠা যাওয়ার আগে একটা সিগারেট ধরালো। সম্মোহকে অফার করলো। সম্মোহ বললো," থ্যাক্স্ , এই খানিক আগেই খেলাম। আপনি খান। আমি ববং রাতের খাবারের জন্য রান্নাঘরের গাইডলাইনটা বানিয়ে দিয়ে আসি।"

---" অদ্ভুত মানুষ আপনি! এতকিছু মাথায় রাখেন কি করে!"

----" এ আর এমন কি! আপনার ছবি আঁকা কাজ। আমার আপনাদের হসপিটালিটি দেওয়াটাই কাজ।" সম্মোহ হাসতে হাসতে কথা গুলো বলে রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। রান্নাঘরে গিয়ে দেখে লালুকাকা বিড়ি টানছে।


Sunday, October 25, 2020

| নভেলেট | ডারউইনের চিঠি |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ||
| নভেলেট | 
অরিজিৎ চক্রবর্তী

                                         

ডারউইনের চিঠি ( অষ্টম পর্ব)

ঘরের ভেতর থেকে নন্দিনী সেনরা বাইরে বেরিয়ে এলো।

----" কি হয়েছে দাদা? বন্দুকের আওয়াজ হলো!"

----" ভয় পাবেন না।কেউ হয়তো এয়ারগান দিয়ে পাখি মারছে?"

---" জঙ্গলের পাখি এভাবে মারার কি দরকার! আপনারা বিষয়টাকে বন্ধ করতে পারেন না!"

----" একি আর আমার একার কম্মো। ওদের জীবন যাত্রার সঙ্গে শিকার জড়িয়ে আছে। নিষেধ  করলে শোনে না। কিন্তু আমাদের লালুকাকাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ও আবার কিছু না জানিয়ে পাখি মারতে বেরোলো নাতো! আমি একটু খুঁজে আসছি। তারপর আপনাদের লাঞ্চের ব্যবস্থা করছি।" এই বলে সম্মোহ বুলেটে স্টার্ট দিল।

----" আমি যদি আপনার সঙ্গে যাই আপত্তি আছে!" নন্দিনী সেন বললো।

---" না না, আপত্তি কেন! বসে পড়ুন।" সম্মোহ বললো।

সম্মোহ জঙ্গলের আঁকাবাঁকা রাস্তা ধরে এগিয়ে গেল। পেছনে নন্দিনী সেন সম্মোহের টি-শার্ট মুঠো করে ধরেছে। এবড়ো খেবড়ো রাস্তা। শব্দটাকে অনুসরণ করে সম্মোহ এগিয়ে যাচ্ছে। শালের জঙ্গলের অতি ক্ষীণ পথ ধরে সম্মোহ এদিক ওদিক অনেক খোঁজাখুঁজি করলো। লালুকাকার দেখা নেই। হঠাৎ জঙ্গলের ভেতর দেখলো শালাপাতা পারতে আসা জনা দশেক মেয়ে। সম্মোহ এগিয়ে গেল," কিরে বুলটি লালুকাকাকে দেখেছিস।

---- " দেখি নাই গো। তবে জঙ্গলের বন্ধুক চললো একবার!"বুলটি বললো। বাকি মেয়েরা খিলখিল হাসি ছড়িয়ে পাতা তোলার কাজে লেগে পড়লো।

---" আচ্ছা আমি এদের সঙ্গে এতো সাবলীল কি করে হলেন! যেন এদেরই কেউ একজন। আপনাকে এসে থেকে যত দেখছি অত ইন্টারেস্টিং লাগছে! লালু কাকা কোথায় যেতে পারে বলে আপনার মনে হয়!"

---" যেখানেই যাক। এবার আপনাদের লাঞ্চ দিতে হবে।ও বুঝে করুক গে।" সম্মোহ বললো।

সম্মোহ বাড়ির দিকে ফিরে আসছে। নন্দিনী সেন কে পেছনে বসিয়ে গাড়ি চালাতে চালাতে লীমার কথা মনে পড়ছে। এরকম বহুবার লীমাকে বসিয়ে সম্মোহ কত পথ যে চলেছে তার ইয়ত্তা নেই। তবে নন্দিনী সেন অনেক খোলামেলা। স্মার্ট। আর লীমা ততোটাই জড়োসড়ো।

নন্দিনী বারেবারে সম্মোহকে আঁকড়ে ধরছিল। হয়তো এরকম উঁচু নিচু রাস্তায় নিজেকে ব্যালেন্স করতে পাচ্ছেন না। তবে সম্মোহ নন্দিনীর স্তনের ধাক্কায় রোমাঞ্চিত হচ্ছিল। আসলে সম্মোহের প্রাণখোলা মনোভাবে প্রেম আর যৌনতা তাড়াতাড়ি সাড়া দেয়। এটাকে কোন দোষ হিসেবে সে দেখে না।

বাড়ি ফিরেই দুপুরের খাওয়া দাওয়ার তোড়জোড় শুরু করে দিল সম্মোহ। খানিকক্ষণ বাদে সবাই ডাইনিং-এ এসেছে।

---" সম্মোহবাবু আমরা এখন মহুয়া খাব। লাঞ্চ পরে হবে।" নন্দিনী বললো।

---" ঠিক আছে ম্যাডাম আপনি যেমন চাইবেন। বুলির মা ফাস্টকাটের মালটা বের করো।আর আইসের কিউব গুলো দাও। " সম্মোহ বলল।

ফাস্টকাটের মহুয়া। জল মেশানো নেই। বুঝে শুনে খাবেন। অল্প খাবেন। প্রথম পেগটা আমি বানিয়ে দিচ্ছি। বাকিটা আপনারা করে নেবেন"

--- "না না, আমরা ওসব পাড়বো না। আপনি থাকুন আমাদের সঙ্গে।কি বলছো নন্দিনীদি।" শতাক্ষী বলল।

--" অবশ্যই। সম্মোহবাবু আপনি থাকুন আমাদের সঙ্গে। আর মহুয়ার উদ্ভাসে আমাদের সম্মোহিত করুন।"

সম্মোহ হেসে ফেললো। বললো, " ঠিক আছে। আমি পেগ সাজিয়ে দেব। কিন্তু খাব না। আপনারা খাবেন।"

---" কেন কেন!! আমাদের কি এই মহুয়া পানের যোগ্য পার্টনার মনে হচ্ছে না!"

---" এরকম বলবেন না ম্যাডাম। আসলে লালুকাকা নেই। আমিতো আছি। খাব অন্য সময়। চলুন শুরু করুন।"

এরকম কতজনের আবদার যে সম্মোহকে রাখতে হয়! যারাই আসে এখানে বেড়াতে তারা সবাই অদ্ভূত ভাবে সম্মোহের প্রতি অনুরাগ ছড়িয়ে দিতে চায়। অথচ লীমা! একটা আস্ত ন্যাকাচোদা! মা- ভাই-সংসার নিয়েই জীবন কাটিয়ে দিল।

||বিশেষ সংখ্যা ≈ চন্দ্রদীপা সেনশর্মা ||

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন ||
চন্দ্রদীপা সেনশর্মা
আজ আপনাকে শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালাম দিদি।সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন-এর তরফ থেকে এবং আপনার সকল পাঠকের তরফ থেকে। 
ভালোবাসা নেবেন। ভালো থাকবেন। 


১৭ আশ্বিন, দুর্গানবমী রাত

কলকাতার বুক চিরে চওড়া সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ
অফিসবাড়ির মাথা গায়ে মরচে ধরছে রোদ রং
ধূসর আকাশ কালো হয়ে যেতে যেতে
পুজোর আলোর রোশনাইয়ে নগর কলকাতা,
কাছের শোভাবাজার রাজবাড়ি।
দুর্গানবমীর সান্ধ্য ভূপালিসুর,
সেই সুরে হারিয়ে যাওয়া লোকজন
ভিড়ে পা চালিয়ে মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে--

শাঁখের বেজে ওঠা অলিগলি জুড়ে, সাঁঝপ্রদীপ
মগরিবের আজান

নবমীর মধ্যরাতে বিষণ্ন হচ্ছে দশমীর বেদনা।
দরবারী কানাড়ায় জন্মতিথির স্নানগন্ধে আগমনীর কান্না
মেডিকেল কলেজের ইডেন ওয়ার্ডে।
সম্পৃক্ত মেঘে মেঘে একপশলা আশীর্বাণী,
মণ্ডপে বীরেন্দ্রকিশোর ভদ্রের পাঠে
মাতৃবন্দনা; সুপ্রীতি ঘোষ গাইছেন :
'বাজলো তোমার আলোর বেণু...'

চোখ মেলে মাকে দেখল শিশুটি...


গতি

গতির উপর অক্ষর ছেড়ে দিলাম
গতি আহ্নিক এবং অক্ষ
গতি ভৌতবিজ্ঞানের পথ বেয়ে
কখনও শব্দের কখনও আলোর

গতি ভিন্ন গতি এক
গতি মন্থর গতি চঞ্চল

গতি পায়ের টো ছুঁয়ে পি টি ঊষা
ফ্লো জো বোল্ট

গতি হৃৎপিণ্ডে স্তব্ধ হলে ব্ল্যাকহোল


দমকা বাতাস

সেদিন তোমার শ্বাসনালিতে, ঠিক ওই শুরুর মুখে
দমকা বাতাস এসে ডানা মেলেছিল
তুমি তাকে গ্রহণ করবার আগে অ্যানজিওপ্লাস্টির
বেলুনের মতো প্রাণ গিলে নিয়েছিল।
হৃদয় আর তোমার এজমালি রইল না
কোনও এক ঝোড়ো বদ‍্যি নথিপত্রে
সিলমোহর আর সিগনেচারে কিনে নিল
তোমার ঔদ্ধত্য তর্ক
টিকটিকির লেজের মতো খসতে খসতে
নির্মোহ ভজনে উদ্বাহু নৃত্যের তালে :
'শ্যাম মানে চাকর রাখো জী...'
কালপ্রতিমা আর তার ভেসে যাওয়া ছাড়া
অন্য কোনো সাক্ষী ছিল না, হ্যাঁ, ওই দমকা বাতাস


দৌড়

দৌড় শুরু করেছ, নির্ধারিত মাপে, যেমন অন্যরা।
দৌড়তে দৌড়তে বুঝতে পারছ
পা পড়ছে না ঠিকমতো, হাঁটু নড়বড়ে। 
দৌড় শেষ করতেই হবে। তুমি জানো,
প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় কোনো ভিকট্রি স্ট্যান্ডে
উঠতে পারবে না। 
তোমার জন্য বাজবে না জাতীয় সংগীত।
শুধু দৌড়ে যেতে হবে ফিনিশিং লাইন টাচ করতে।
ফিনিশিং লাইন টাচ করে তুমি বোঝো ট্র্যাক 'ন ফিল্ডে
বহু আগেই ডিস্-কোয়ালিফাই হয়ে গেছে তোমার
লাইনটি...



Saturday, October 24, 2020

≈ বিকাশ দাস সংখ্যা ≈

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||

বিকাশ দাস সংখ্যা




আজকের সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন শারদীয় সংখ্যা নিজস্বতায় স্বতন্ত্র কবি বিকাশ দাসকে শ্রদ্ধা জানিয়ে। বিষ্ণুপুর, বাঁকুড়া এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি মানুষ আপনাকে শ্রদ্ধা জানালো। প্রণাম...