Thursday, August 20, 2020

| বাংলাদেশ সংখ্যা | মাহমুদ নোমান |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












মাহমুদ নোমান 
বাতাসের বেসাতি

বাতাসের লগে আসে
দাদীর কবর ভাসানো জল
চালের ফুটোয় ডুবোডুবো 
আত্মরতির গোলা,
টিনের চালে আম ছুঁড়ছে
ভেজা চকের আকাশ, 
ভেতরে ভেতরে ধায় ---
কয়েকটা সাঁতার ভুলে যাওয়া মাছ;
উত্তর দক্ষিণে সেজদায়
ঈমানী লোকের ঘর---
ছেয়ে রেখেছিল ঐ কোন
নিমকহারামির চর....



পথিকের জবানি

উঠোনে বরই শুকাতে দিয়ে
দরোজা বন্ধ করে রেখেছো,
জানালার আঁধারে নিয়ে গেছো
আমিবিহীন কল্পনায় ---
শত শত ঝরে পড়া
রোদের পাখি....
ধানগাছের গোড়ায় তাবৎ
শ্যাওলার বুক চিতিয়ে
জিয়ল মাছের বুদ্বুদ,
পার হয়ে যাচ্ছে 
বৃষ্টিবিহীন কালো কালো ছাতা ;
আকুলিত সেজদার অপহৃত
চোখের ইশারা ---
চিনিপানায় কেমন গুলে যাচ্ছে
হাত সরে সরে যাচ্ছে,
মাছগুলো কেবল পুচ্ছ নাড়ায়..... 

| বাংলাদেশ সংখ্যা | শিমুল আজাদ |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||














শিমুল আজাদ
সানগ্লাস

একটি সানগ্লাস প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।বিশেষত পরিবারের, সমাজের একজন হয়ে যখন আমার
কারো মুখোমুখি হতে হয়। আমার দুটি চোখ বারবার আমার ভিতরের আমিকেপ্রত্যেকের সামনে
উন্মোচন করে দেয়।বিব্রত আমি, অন্যকেও ঝামেলায় ফেলি। ফলে অপছন্দীয়, পরিবেশ সমূহ
উদ্ভট।স্পর্শকাতর,আমি যার ফাঁক-ফোঁকর বুঝি। এমন বিষয়ের যেকোনো প্রসঙ্গ এলে আমার
চোখ, টাল-মাটাল দোলে! অন্যদের অভিনয়কৃত চোখে- মুখে আমি তখন এক নাদান, বীভৎস্য
এবং অসভ্যতায় মোড়ানো এক সহযাত্রি। চাইলেও পারি না! আমার কালো চোখ অন্তরের স্বচ্ছ
আয়না হয়ে উগরে দেয় সম্পূর্ণ বিষয়-আশয়। একটি সানগ্লাস পারে দুটি কালো চোখকে ঢেকে
সত্ত্বাকে গোপন রেখে এই বিবমিষার পরিত্রাণ ঘটাতে। কিন্তু মুশকিল সানগ্লাস ঘরে, অফিস-
আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়।

দীর্ঘচোয়ালের প্রেম

নদীর সুগন্ধে, অরণ্যের প্রেম ও আকাশের নীলের আকর্ষণে তার বাসীন্দাদের
ধরপাকড়ে ব্যস্ততায় কেটেছে আমাদের অসংখ্য শতাব্দী। যদিও শিকার আর শিকারীর
মধ্যে একটা সম্পর্ক বহুদিনব্যাপি প্রবাহমান; যেমন পাহাড়ের সাথে পাথরের। সমুদ্রের
সাথে লবনের।
মানুষ পারে না এমন কী আছে! শুধু প্রাণ দান ছাড়া! মানুষ উদরে গ্রহণ করে না!
কিংবা খায় না এমন কী আছে! ডাঙার তৃণভোজি, হরেক জলবাসী কিংবা
আকাশচারীর অন্তিম মুহূর্তের কথা ভাবো। স্রেফ আত্মপ্রচার, নিজেকে মহৎ বা শ্রেষ্ঠ
হিসেবে প্রচারণায় আত্মতৃপ্তি, যা এক ভয়ংকর ভণ্ডামি!
মূলতঃ মানুষ নিখুঁত শোষক, একেকটি রাক্ষস; যা অরণ্যের গভীর কিংবা বিস্তৃত
জলরাশি ভেঙে উঠে এসেছে। নিজেকে দাঁড় করিয়েছে এই পৃথিবীলোকে একচ্ছত্র

অধিপতি রূপে।সর্বদা নিজের প্রয়োজনকে বড় করে দেখেছে; অন্যকে উপেক্ষা আর
অবহেলায় ঝলসে দিয়ে চলেছে মহাকালে।
হায় যদি সে জানতো! বুঝতে পারতো তার অস্তিত্ব পরম সত্তার দয়া-দাক্ষিণ্যের
ফলস্বরূপ, প্রেম ও করুণার আশ্চর্য প্রকাশ বৈ তো অন্য কিছু নয়।
আশরাফুল মাখলুকাত, দীর্ঘচোয়ালের প্রেম আর শয়তানের আনুগত্যে কতকাল প্রবাহিত
হতে থাকবে এই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি প্রান্তরে!

| বাংলাদেশ সংখ্যা | নিলয় গোস্বামী |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












নিলয় গোস্বামী
মিউটেশন
যুবতী অরণ্য,
মেঘ শুয়ে আছে সবুজের সীমাহীন ছাদে
ভিজে চলছে গুহাচিত্রের তুলতুলে শরীর।

পাইনের লিবিডো ভরে দেয় ভূমির বিয়োনো রুপ।

সংলাপে কার্বন মাদি হরিণীর ঘোর শীৎকার ঢাকছে।
ভেসে আসছে আয়নার শরীর।

পাতার ব্রহ্মতালুতে নাগপঞ্চমী সাজিয়েছে জোনাকির থাবা।

আলোর চৌকাঠ ভেঙে উবে আসে প্রতিবাদী ধাতব প্রহর।

মুচমুচে ইংগিতে মিউটেশন বদলে দেয়
কসমিক প্রণয়। 

সত্তার ধ্বংসস্তূপের ছাই
আজ শিয়রে অতীত জমিয়ে রেখেছে, 

বৃক্ষমাচায় ক্রমশ বেড়ে যায় নির্ঘাত অন্তিম।

মমির হিমঘরে জেগে ওঠে রুপের আগুন।


চন্দ্রস্নান

এই যে রাত বেড়ে যাচ্ছে,দীঘা'র জলরাশি গড়িয়ে আসছে চঞ্চল প্রহরের দিকে।
আমি বাংলো থেকে মিনিট পাঁচেক দূরে
সৈকতের শরীর নাড়াচাড়া করছি।

নির্জনতাকে এপাশ-ওপাশ করে
বিষাদী কবিতা শোনাচ্ছি।

একটি হ্যাংলা আলো বারবার আমার
স্নায়ুঘরে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলছে।

কী চায় সে? রেমিডি না বিক্ষিপ্ত প্রহরের রেশ?

হাত বাড়ালেই আমি খুঁজে পাই ঢেউ এর দগদগে ক্ষত। ছাইরঙা অশ্রুজল। শোঁশোঁ শব্দ।

তুমি বলো গর্জন আর আমি দেখি
শূন্যতা আর অভিযোগের শৃঙ্গারে ভেসে আসা সৎকার

প্রহর আগলে রাখে সময়ের বাদামি রঙের চন্দ্রস্নান।

ফেরা আর না ফেরার মাঝের সময় টুকুই 
খাঁটি অনুভব।

জলেরদামে ভালোবাসা কিনতে চাওয়া প্রেমিক আমি,পুরো সমুদ্রটাতে তোমাকে চাই।

বৃষ্টির কাছে আবদার করেছি আমি,পুরো আকাশটাতেই তোমাকে চাই।
নির্জনতায় অসচেতন বর্ষণে ঝরে পড়ও আমার গায়।

| বাংলাদেশ সংখ্যা | রিয়েল আবদুল্লাহ |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












রিয়েল আবদুল্লাহ
এক দুপুরের গল্প

তুমি এলেই শুরু হবে ভাঙ্গা দুপুরের গল্প
রোদ পোহাতে ঘাসের জমিনে এসে একটু বসো-
দুটো চড়ুই যদি উড়ে যায় যাক,ক্ষতি নেই,
তাঁদের নিরুদ্দেশ গন্তব্যের প্রতি চেয়ে রবো।
যুগলবন্ধি আমরা দেখবো মেঘলা আকাশ
আকাশের শামিয়ানা ভেঙে নেমে এলে বৃষ্টিধারা
আমরা ভিজবো,টুপটাপ রঙিণ সবুজ মখমল
সন্ধ্যেবেলা জোনাক জ্বলে উঠলে
জোনাকির আলোর মতো
ছড়িয়ে দেব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্যাকেট ভালোবাসা।
মূলতঃ সন্ধ্যের জন্যই দুপুর - বিকেল
ভালোবেসে তাঁরা অন্ধকারে যুগল মিশে যায়।



দিকশুন্য কাব্য

বাহিরে দুগ্ধবতী চাঁদের আলো
ক্রমশ স্তিমিত হয়ে আসে,
হুতুম প্যাঁচা ডাগর চোখ মেলে চায়
দ্রুত অন্ধকার নামে--বেদম হাসে।
একগুচ্ছ জোনাকি মেলে ময়ূর পেখম
দূরে কলাবনে বাঁদুরের ঝাঁক,
ঝিঁঝিঁপোকা একটানা সানাই বাজায়
খুঁজি কোথায় ভালবাসার ডাক।
এই রাত কোথাও নিবিড়-কোথাও ঝাঁঝালো
বুকের ভেতরে তেজী অশ্বের হাঁক,
সময় বদলে গেছে-চাঁদও লুকোচুরি খেলে
মূহুর্তেই পাল্টে যায় কবিতার বাঁক
গভীর থেকে গভীরে নামে সংশয়-বিষ্ময়
বিপন্ন জীবনের গান তেতে ওঠে,
চাওয়া-পাওয়াগুলো নিঃস্ব হয়ে যায় ক্রমশ
বেদনার গল্পগুলো দিকশুন্য ছুটে।

| বাংলাদেশ সংখ্যা | মায়িশা তাসনিম ইসলাম |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||












মায়িশা তাসনিম ইসলাম
ময়ূর প্রকল্পের ভাটা

অতটা চাইনি আমি যতটা মুখ তুলে তাকালো আঁধার
যতটা সূর্যের শ্বাসরোধ, মেঘেদের বোধশক্তি উদয় আঘাত...

দেয়াল বেয়ে বৃষ্টির এনকাউন্টার 
মাকড়সা সংসার ঘায়েল লুটপাট 

অপ্রস্তুত ভঙ্গিমায় নড়ে ওঠা স্মৃতির টনক 
জানালার হাত ধরে থ্যাতলানো হৃদয় পলাতক!

কে ভাঙে সংসার?
পুরুষতান্ত্রিক দিনরাত
না নারীবাদী পরপুরুষ বাহুডোর?

অতটা বুঝিনি আমি যতটা মুখ খুলে বললো আঁধার
ঈশ্বরের বিভ্রান্ত রাইফেলে সাঁতার কাটে পৃথিবী রাডার!


ময়ূর প্রকল্পের ভাটা ২

কি এক নিভৃত নৃশংস হত্যায় মেতেছে যেই ঘন বিষাদ
তাকে কেনো চিনলো না এই অত্যাধুনিক রমরমা ঘাতক?

কবরের দিকে নিষ্পলক তাকানো ল্যাম্পপোস্ট 
জীবিতের দেহে আসলে কত বিদ্যুতের গুদামজাত?

চোখবন্ধ গার্ডের তলোয়ার খুঁজে ঘাতক নিঃশ্বাস 
লকডাউন স্নায়ু পথে পথে রেখে যায় কবরস্থান 

চোখবন্ধ পথেরাও ম্যানহোলে দেখেছে হোমোস্যাপিয়েন্স মগজ
নাইটগার্ড বুটেরা শুনেনি তাদের ভাইরোলজি আকুতি

আকাশের খোলা ক্লাসরুমে ব্যাকবেঞ্চার মেঘের হাসি
সে বুঝে না কাকে ভাসাবে? জীবাণু না মানুষ?