Monday, August 17, 2020

| বিশেষ সংখ্যা || অনুরূপা পালচৌধুরী |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||

সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন-এ ২০২০ র এখনো পর্যন্ত প্রকাশিত অনুরূপা পালচৌধুরীর লেখা। আসুন পড়ি___

অনুরূপা পালচৌধুরী








দোপাটি ঘুমের ছায়াচিঠিতে

প্রিয় মুখের শরত গুছিয়ে রাখি। সেই তুমি বসন্তের ঘর গুনে গুনে দোপাটি তালিম আবীর গুনে গুনরীন। অবসাদের ঘুড়ি জমাহীন আকাশ ধারে বুৃকঋণ। ১বুক সূর্যের বালিয়াড়ি বিছিয়ে পালতোলা ঘর আঁকি। আমি তো আলো খুড়ি না তবে সে ঠিকানাও অলস আলগোছে দোতালা ভোরের চাবি হয় না। সমস্ত ভার বইবে এমনো নয় সে কুয়াশার বৃত্ত : আয়নায় ঠোঁট রাখো। কথায় কথায় যাবতীয় আঙুল মেখে নেয় স্নায়ুভেজা কুয়াশারা। আধা আধি মাটি থেকে অভি যোগের শিকড় '' বিয়োগের ধারাপাত : ১টা তুমিগাছের মরু জানলা আগুন পুড়িয়ে নগ্ন রোদের আস্তিন। অগনিত শূন্যের বাসর কিনে রাখি মেঝে পাতার নিষিদ্ধ চর। কয়েক হাত বর্ষায় ব্যর্থ কাগজের হাতকড়া তবু তোমাকেই রাখি আতরের ঘাম আর আরঘুমের জাবরে.....

                               ব্যাসিল রোদের ডায়াল

খুব ভোরের ১টা দংশন ফুরিয়ে মেখে দিই লিংটোলের বিকেলবেলা অগুন্তি বাতাসের পাশে ভিজিয়ে রাখা ঘামের মিউট্যান্ট শেকিমের জাঁকরোদ আমাকে দাও ঘনকাফের বিবাদহীন গলাভাতের স্নায়ুজলকয়েকঘর বৃষ্টি নিয়ে স্ট্রাইকার এখন ফেরা খুঁজে খুঁজে তালিকার স্বাদ খইনামের পেশোয়া বালাই ব্যাসের বাতিকে আকাশ টুকে বাকবাস্পের হাতখড়ি ছিন্নমাঘের দুপুরক্ষত ছড়া বাঁধে আঙুলের গুঁড়ো


                                  ৩য় দফার চিঠি___        

জানি ভীষণ ভালো আছো। তাই কেমন থাকার জরুরী প্রশ্নে আর বিব্রত করবো না। কথা ছিলো তোমার হাতের লাল সিঁদুরগোলায় পাঁপড়িচাটের মেঠো গন্ধে পৌঁছে যাবো সেই হাজার বছরের পুরনো গাছতলাটায়। মহানায়কের নগরবন্দী ইতিহাস চুঁইয়ে পড়ছে আজো রাণীকুঠীর ফুটপাত বিছানো সন্ধ্যায়। তোমার শহরের সেই সন্ধ্যারা কি জড়ো হয় বিজয়গড়ের উল্লাসে? বড্ড বোকা তুমি। আড়াল করতে পারোনি নিজেকে চাবুকের গোপনসরায়। আজো যাদবপুর যাই। 8B অটোস্ট্যান্ডটায় দাঁড়াই।আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে।অসাড় পায়ে দালানকোঠা পেরিয়ে তোমার যাতায়াতের পথ আটকাই। সিগারেটের ধোঁয়ায় ব্যালকনি ভিজলে ছাপিয়ে ওঠে আমার ঠোঁট। আরো একটু পিঠে হাত বোলাই। আমার মতো কেউ কি এখন ঘুম পাড়ায়? এখন তোমায় আদর করে কে ? মনে পড়ে কি সেসব রাতের খামবন্দী জোনাকির কান্না!

আসলে মৃত ঠিকানায় চিঠি পৌঁছায় না কিন্তু চিঠিগন্ধের আমরণ কামড়ের দাগটা থেকে যায়। যেদিন স্বেচ্ছামৃত্যুর পরয়ানা জারি করলে আমি মৃত্যুকে কৌটবন্দী করলাম নিশাচর ঘরের ডিভানে। অমরত্বের দাবী রাখলাম তোমার নো ম্যানস ল্যান্ডের ক্যাফেইন ট্যাবলেটে। ১টা উর্বর চাঁদের আধাআধি আলো খুনে ধীরেধীরে উদ্ধত হলে তুমি। খুন হলাম যাবতীয় আমি এবং আমার আকন্ঠ অস্তিত্ব পানে তুমি অমরত্ব পেলে। আমি মৃত্যুরূপে দাঁড়িয়ে বারংবার আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছি গড়ানো দুপুরগুলির মুখে কিন্তু মৃত্যু হতে পারিনি। বিপরীতে জন্ম নিচ্ছে বিধ্বংসী আলোর উল্কামুখী আগুনের পালস্।  আস্ত জলোচ্ছ্বাসের গলায় বেঁচে থাকার স্বাদটা এখন নিত্য বাড়ে। দেখতে চাই তোমার অভিশপ্ত মাটির শিকড়হীন ফুসফুসে দীর্ঘজীবী তুমিটাকে। অভিশাপ কখনো দিই না বরং ঈশ্বরকে বলি, দীর্ঘবছর আয়ুর দরে তোমার হলুদ চৈত্রের পাঞ্জাবীরা মরসুমি মুখ লিখুক কলকাতার অলিগলি

অবশেষে বলি, ১টা সূর্যখনির শীতঘুম তোমার আঙুলে পুষছি, শুধু চির বরফের আগুনদারি পেরোবার গর্ত বেড়িয়ে গুনছি মটি অবধি


                                       ইতি
                          আপাত অপার অত্যন্ত 




Saturday, August 15, 2020

| বিশেষ সংখ্যা | ছক্কা কবিতা | অনিন্দ্য রায় |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || || ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...||

কবিতাকে এভাবেও ভাবা যায়____
আসুন পড়ে ফেলি। 

অনিন্দ্য রায়
ছক্কা

 লুডোর ছক্কা ৬টি তল প্রতিটি তলে থাকে ফুটকি: ১, ২, ৩, ৪, ৫ আর ৬ 
 যদি এভাবে কবিতা লেখা হয়? 
 ছক্কা কবিতা, ৬ লাইনের, লাইনগুলির শব্দসংখ্যা ছক্কার মতো: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬
 ছক্কা তো একভাবে থাকে না। কখনও ওপরের তলে ৩, কখনও ২ বা ৫ বা ১ থেকে ৬-এর মধ্যে  যে-কোনও  একটি। তাই ছক্কা কবিতার প্রথম লাইনে ১টি শব্দ, দ্বিতীয়টিতে ২টি... এইরকমই যে হতে হবে সবসময়, তা নয়।
 প্রথম লাইনটি ১ থেকে ৬টি যে কোনও শব্দের হতে পারে। শুধু খেয়াল রাখতে হবে প্রথম ও চতুর্থ লাইনের শব্দসংখ্যার যোগফল হবে ৭ 
 একইভাবে দ্বিতীয় আর পঞ্চম লাইনের এবং তৃতীয় আর যষ্ঠ তলের শব্দসংখ্যার যোগফল ৭ হবে। 
 (লুডোর ছক্কায় যেমন থাকে, বিপরীত তলগুলির ফুটকির সংখ্যার যোগফল হয় ৭)। 
 মোট শব্দ ২১টি


প্রতিটি লাইন হবে স্বয়ংসম্পূর্ণ, নিজেকে প্রকাশ করতে অন্য কোনও লাইনের ওপর তা নির্ভরশীল হবে নাপরস্পরের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক অবশ্যই থাকবেএকেকটি লাইন একেকটি স্তবক, তাদের মধ্যে স্পেস দেওয়া হবে।  


 কবিতাটি যে কোনও বিষয়ে লেখা হতে পারে। 
 প্রতিটি কবিতার শিরোনাম থাকবে।
 অন্ত্যমিল থাকতে পারে, না-ও থাকতে পারে। 


 এইভাবেই আমাদের কবিতা আঙ্গিক: ছক্কা 




মধ্যরাত 


শরীর তালের বাদ্য  


বাতাস ভেতরে


গোপনে ভিক্ষার জন্য ছুঁয়েছি অন্ধের সততায়


অনিচ্ছায় কঁকিয়ে উঠেছ বারবার 


অদক্ষকে ভুল করে লোলুপ ভেবেছে




প্রথমে গায়ের ছাল ছাড়িয়ে নিতে হয়  


একাটা কাঠি, গাঁথা  


রসের ফোঁটা 


কলসি


একটু গেঁজে উঠলেই সুখ 


নেশাই যৌনতাকে সম্পূর্ণ করে তোলে 




উত্তেজনায় দারুণ সক্রিয় অঙ্গ


তোমার দিকে তাকিয়ে থাকি আমি 


ভালোবাসার সময় ঠিক করে কীভাবে দেখব


অন্ধকারে অনেকটা ফাঁক


আলোয় ছোটো


কনীনিকা 




হাততালি 


উড়ল সারসেরা  


কেঁপে উঠল নিঃসঙ্গতার ঝিল


তোমার হাসির কথা মনে পড়ল শুধু


নিসর্গকে এইভাবে ভাঙাচোরা করে মেয়েরা


আমরা ছবি তুলি


৫ 


স্বপ্নে মহিষ


লাল চাদরের ঘুম কখনও পাব না  


নেহাৎ দর্শক নেই বেডরুমে  


চিৎকারে ক্ষেপে তাড়া করত আমাকে


উৎকণ্ঠা  


আমি আর অ্যালপ্রাজোলাম 




‘একবার সূর্যাস্তে দাঁড়াও’


আচমাকা শুনে আমি ঘাড় ঘোরালাম 


নির্জনতা 


লিখে রাখবার কেউ নেই 


গুটোচ্ছে আলো  


এক, এক, দুই, তিন, পাঁচটি গোবক  


৭ 


আস্তাবলের চাঁদ


ঘাঘরা


সহিসের হারমোনিকা কিছুটা পথিক 


হ্রেষাদের জমাতে পারলে উপন্যাস হত


তুমি যে এখানে এসেছ প্রেমিকারা জানে?


যদি ঠিকানা ভুলেছ 




বাংলায় লিখতে গেলে ভুল হয়


ওই দরজা দিয়ে চতুরাশ্ব আনাগোনা করে  


প্রপিতামহ ছিলেন দ্বারী 


লেখেননি কিছু 


নৈর্ঋত  


পথে নিরক্ষর হয়ে পড়ি  


৯ 


শ্যাওলাদের বাড়ি 


কাগজের নৌকো হেলে আছে


চক্ষুহীন 


শামুকের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতিয়ে ঢুকি 


কবিতা লিখছে কেউ


নিজের বিবাহে কলাগাছ হয়ে দরজায় দাঁড়িয়েছে 


১০


স্পর্শের ওপিঠে স্পর্শই 


তোমাকে ভুলিয়ে এনে চোখে রিরংসা বাঁধলাম  


ভ্রুমধ্য চঞ্চল 


চুম্বনে বারংবার বাস্তুচ্যুত হই  


শিরোনাম 


করুণা পিহাড়ি খেলহুঁ নয় বল  


১১


ভোঁতা খঞ্জর 


সংক্রমণের দায়ে পুড়েছে পাথর 


ভেবেছি তোমায় কাছে আসতে দেব না  


চোখের জলের চেয়ে ভালোবাসা নোনা  


আরও বিস্বাদ স্নেহ


সন্দেহ 


১২


বাস্তবতার নীচে সমস্ত কুঞ্চন সেরে যায়


অল্প গরমও হয়ে ওঠে

ঘটনাবলির দুই প্রান্তে টানাই চালাকি 


সফলতা 


পারি না একাকী


ছিঁড়ি নিজে 


১৩


কাহিনির গাধাটিকে দেখি


অক্লান্ত চলেছে 


একাগ্র 


পিঠে মালিকের প্রতিহিংসার বস্তা 


পথে জিগ্যেস করে নদী কোনদিকে 


আমি তাকে নুন দিই তুলোর বদলে 

Wednesday, August 12, 2020

| অণুুগল্প | আলোক মণ্ডল |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || 
|| ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...|| || দ্বিতীয় বর্ষ ||












আলোক মণ্ডল
কালো

অ্যাই,অ্যাই, এখনেই দাঁড়া, নামব, দাঁড়া-দাঁড়া! সাথে সাথেই ব্রেক কষল সন্দীপ। সুন্দরী স্মার্ট  তরুণীটির দু'ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে এক ঝটকায় বেরিয়ে এল কথা গুলো,  যেন মুড়ি পটকা এক্কেবার সন্দীপের বুকের কাছে ফাটল!

‌সন্দীপ টোটো থামাতেই সুন্দরী ঝপ করে নেমে ফুটফুটে মেয়েটিকে নামিয়ে নাকের ডগায় একটা ২০ টাকার নোট দেখিয়ে বলল,নে, দশ টাকা ফেরৎ দে! এবার সন্দীপ থাকতে না পেরে সমস্ত রাগ সংযত করে খুব মৃদু স্বরে বলল, ম্যাম একটা কথা বলি? সুন্দরী ঘাড় ঘুরিয়ে বলল,বল্ কি বলবি বল্,  তাড়াতাড়ি!দেরি হয়ে যাচ্ছে! সন্দীপ এবার একটু কঠিন করেই বলল,ম্যাম এতো ক্ষণ আপনি আপনার মেয়েকে বলছিলেন না, সবচেয়ে খারাপের ইংরেজী, ভেরি ব্যাড্?  আর আপনার মেয়ে কোন মতেই সে কথা মানতে চাইছিল না,বলছিল না,না, এটা নয় আরও অন্য কিছু ওয়ার্ড আছে, তুমি জান না। আর একথা শুনেই মেয়েকে ধমক দিয়ে বলেছিলেন, চুপ কর! আমার চেয়ে তুই বেশি জানিস! সুন্দরী রাগত বলল,হ্যাঁ, তাতে হয়েছেটা কি, আর তোরই বা এতে নাক গলাবার কি আছ! সন্দীপ এবার থাকতে না পেরে, গলা ঝেড়ে প্রতিটি শব্দ বসিয়ে বসিয়ে জোরের সঙ্গেই বলল, হ্যাঁ নাক গলাতেই পারি, আপনি  যদি কিছু না জেনে একজন টোটোওয়ালাকে তুই বলে  সম্বোধন করতে পারেন,  আমি একশো বার নাক গলিয়ে বলতে পারি আপনার বিহ্যাভ ওয়ার্স্ট!  - মানে সবচেয়ে খারাপ। সু্ন্দরীর হাতে ধরা বাচ্চা মেয়েটি এবার লাফিয়ে বলে উঠল ম্যম, মনে পড়েছে! মনে পড়েছে! "ওয়ার্স্ট ",  সবচেয়েখারাপ,দিদিমণি তাই-ই বলেছিলেন।

‌সন্দীপ দেখল, সুন্দরীর মুখটা কেমন কালো হয়ে গেল!এক ঝটকায় মেয়েকে  টেনে নিয়ে, গলিতে ঢুকে পড়ল।

| ঝুরো গল্প | কাজল সেন |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || 
|| ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...|| || দ্বিতীয় বর্ষ ||












কাজল সেন 
গোপনকথা

ফুলশয্যার রাতে রক্তিমা তার সদ্য বিবাহিত বর চন্দ্রকান্তকে জানাল, দেখ, তুমি  গত পরশু রাত দশটা নাগাদ আমাকে সিঁদুর পরিয়ে দিয়ে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করছ। কিন্তু সিঁদুরদানের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত তুমি আমার স্বামী ছিলে না এবং আমিও তোমার স্ত্রী ছিলাম না। কথাটা কি তুমি বুঝতে পারছ?
চন্দ্রকান্ত এর আগে বিয়ে করেনি, আর তাই ফুলশয্যাও হয়নি। ফুলশয্যার রাতে প্রথম মিলনে কী কথা বলতে হয়, তার জানা ছিল না। সে প্রথমে কোনো কথা বলেওনি। প্রথম কথা বলল রক্তিমাই। আর রক্তিমার কথা শুনে চন্দ্রকান্ত ভ্যাবলা বনে গেল। মাথা নেড়ে সে বলল, না, কিছুই বোঝেনি। রক্তিমা বিরক্ত হলো, কেন, কেন? আমি তো বাংলায় বললাম! খুব সহজ সরল বাংলায়! আমি কি  তাহলে ইংরেজিতে বলব?
চন্দ্রকান্ত তখনও বুঝে উঠতে পারছে না, রক্তিমা আসলে কী বলতে চায়! একটু ভেবে আলতো করে বলল, না তা ঠিক নয়। তুমি যা বললে তা শুনলাম, কিন্তু বলার উদ্দেশ্যটা বুঝতে পারলাম না, এই আর কী!
রক্তিমা এবার একটু নরম গলায় বলল, আমি জানি তুমি অবুঝ নও, আর তাই আমি আশাকরি, বিয়ের আগে যেহেতু আমাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না, তাই আমাদের আগের জীবন সম্পর্কেও কেউ কিছু জানি না। আমি বলি কী, আজ রাতটা আমরা আমাদের জীবনের সব কথা শেয়ার করি। একদম খোলাখুলি। সততার সঙ্গে। কোনো কিছুই গোপন করা যাবে না।  
এবার ফাঁপরে পড়ল চন্দ্রকান্ত। জীবনের সব কথা শেয়ার করা যায় নাকি? গোপন   কথাও? তাহলে তো সমূহ বিপদ! না না, তা হয় না! মিলির কথা রক্তিমাকে বলা  যায় কখনও? কিছুতেই নয়! মিলি তো তবু ভালো। শুধু জড়াজড়ি, ধামসাধামসি,  চুমোচুমি। কিন্তু ইন্দ্রাণীর সঙ্গে! সে তো রীতিমতো শরীর দেওয়া নেওয়া!  রক্তিমাকে বললে কোনো সন্দেহ নেই, আগামীকালই বাই বাই করে পিতৃগৃহে যাত্রা করবে।
বিভ্রান্ত চন্দ্রকান্ত অত্যন্ত সততার সঙ্গে তাই মুখ খুলল, বুঝলে রক্তিমা, আমি মেয়েদের কাছে ঠিক সহজ হতে পারি না। কেমন সংকোচ লাগে। আর তাই বুঝলে না, আমার জীবনে তেমন গোপন কিছুই নেই। কোনো মেয়ের সঙ্গেই কখনও কোনো...
রক্তিমা চন্দ্রকান্তর কথা শুনে তাজ্জব হয়ে গেল। রক্তিমা বুঝতে পারছিল, চন্দ্রকান্ত  সত্যিকথা বলছে না। বলল, সে কী! তুমি এতটাই গোবেচারা, ক্যাবলা? এই  কথাটা আমাকে বিশ্বাস করতে হবে?
চন্দ্রকান্ত বলল, কেন, আমাকে দেখে মনে হচ্ছে, আমি মেয়েদের পেছনে লাইন মারতাম?
রক্তিমা বলল, আমি তো ছেলেদের পেছনে লাইন মারতাম।
চন্দ্রকান্ত অবাক হয়ে বলল, সে কী! তুমি বিয়ের আগে লাইন মেরেছ ছেলেদের পেছনে?
হ্যাঁ, তাতে কী হয়েছে? শুধু পেছনে কেন, সামনেও লাইন মেরেছি। আমি তোমার মতো আনস্মার্ট নাকি?  
এবার আর চন্দ্রকান্ত নিজেকে সামলে রাখতে পারল না। রক্তিমা তার আত্মসম্মানে হামলা করেছে। সে এটা মেনে নেয় কী করে? মরিয়া হয়ে শেষে  বলেই ফেলল, আমার সঙ্গেও অনেক মেয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মিলি, ইন্দ্রাণী...     

| অণুুগল্প | অভিজিৎ পালচৌধুরী |

|| সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল ওয়েবজিন || 
|| ১টি মাসিক স্বতন্ত্র সাহিত্য প্রয়াস...|| || দ্বিতীয় বর্ষ ||












অভিজিৎ পালচৌধুরী
ফেল্টহ্যাম পার্ক ..

কনকনে ঠান্ডা , এগারো বারো হবে হয়ত ।সকাল সাতটা পঞ্চাশ । তিতলি পড়ি কি মরি হাঁটছে না দৌড়চ্ছে বিস্টন ওয়ে থেকে বেড়িয়ে ফেল্টহ্যাম রোড ধরে স্টেশনের দিকে । অফিস টাইমের ব্যস্ততা । রেডিং এর ট্রেন ধরবে ও । রোজ সকালে স্টেশন অব্দি সঙ্গী আমি । ও আগে আগে হাঁটে আর মাঝে মাঝে পেছন ঘুরে বাবাকে শেখায় কখন রাস্তা পেরোতে হয় । রোজ এই ব্যস্ত পথচলা পথের আকর্ষণ বাড়িয়ে দিয়েছে এখানে । তাই ফেরা আমার শ্লথ মন্থর পায়ে ।দুপাশে সারি সারি গাছের ছড়ানো সবুজের মাঝে ছবির মত সব বাড়ি ।কিন্তু এইসময়ের ব্যস্ততার মধ্যেও সব কেমন অদ্ভুত কোলাহলহীন। যাওয়ার সময়ে দেখেছিলাম ফুটপাথের ডানদিকে একটা প্রায় আদিগন্ত সবুজ মাঠ লম্বা লম্বা গাছেদের পাঁচিলে ঘেরা , কোথাও কোন জনমনিষ্যি নেই । প্রবেশপথে ছোট্ট পরিচয় লেখা - ফেল্টহ্যাম পার্ক । 

এই ব্যস্ত জনপদের পাশে এরকম নির্জন পার্ক আমার কৌতূহল বাড়িয়ে দিল । ঢুকে পড়লাম সটান । ঢুকতেই নামনাজানা লম্বা একটা গাছের গা বেয়ে নেমে এলো একটা লালচে বাদামী রঙের খরগোশের সাইজের কাঠবেড়ালি। বিশাল লোমশ একটা ল্যাজ তুলে ঘাসের ওপর পড়ে থাকা কিছু তুলে খেতে লাগল আমাকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে । আমি হাঁটতে হাঁটতে কাঠবেড়ালি ,লম্বা লম্বা গাছের সারি পেরিয়ে পৌঁছতে চাইলাম বিশাল মাঠের শেষে এই চিরসবুজ রহস্যের শেষপ্রান্তে ।পৌঁছনো হলো কিনা জানি না , এক ঘোরলাগা সম্মোহনে প্রতিদিন আমার ফেরার পথের পিছুডাক হল সে । 

তিতলিকে পার্কের কথা বলতেই বলল ওখানে যেও না । জায়গা টা ভাল নেই আর । হপ্তা খানেক আগে পার্কের ভেতর খুন হয়েছে একজন । এই সুন্দরের মধ্যে খুন ! মনটা একটু বিস্বাদ হয়ে গেলেও পিছুডাক এড়ানো গেল কই ! তাই আজ ফেরার পথে আবার । সারি সারি গাছ । কাঠবেড়ালির ছুটোছুটি । ডানা উড়িয়ে পাখিদের নেমে আসা । সবুজ ঘাসের ওপর এক অনির্বচনীয় নৈঃশব্দের কুয়াশা । 

কুয়াশা ভেদ করে আমি খুঁজতে চাইলাম সেই খুনীকে । আমার ভেতর থেকে চিৎকার বেরিয়ে এল - কোথায় তুমি .. এগিয়ে এসো ...তোমার হিংসার বলি দাঁড়িয়ে আছি. ..হত্যা কর আমাকে .. আমার শরীরটাকে টুকরো টুকরো করে তোমার হিংসার আগুন নির্বাপিত কর .. আমার টুকরোগুলোকে ছড়িয়ে দাও ঐ ঘাসের বিছানায় .. আদিগন্ত মাঠে .. ঐ বোবা পাহারাদার বিশাল গাছের গোড়ায় .. এই সুন্দরের সমারোহে নিভে যাক তোমার উন্মত্ত হিংসাগ্নি চিরদিনের মত । রাতভোর বৃষ্টির চাদরে ঢেকে যাক আমার লাশ.. ঘাস উঠুক .. ফুল ফুটুক .. আরেকটা লম্বা গাছ আমার লাশ ফুঁড়ে উঠে যাক্ সটান আকাশে সবুজের নিশান উড়িয়ে ।